লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ আগস্ট ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবর্ষা (আগস্ট ২০১১)

বৃষ্টিকন্যা
বর্ষা

সংখ্যা

মোট ভোট ৩০

রিপন ঘোষ

comment ৩০  favorite ১  import_contacts ৬৬০
বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, আষাঢ়ের প্রথম হওয়ায় বৃষ্টির সাথে হালকা ঝড়ো বাতাসও বইছে। টিনের চালে যখন বৃষ্টির পানি বর্ষিত হচ্ছে তখন এক মধুর শব্দের সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির এই টাপুর-টুপুর শব্দ এমনই মাদকতায় আচ্ছ্বন্ন , যে মনে হয় এখনই ঝুম বৃষ্টিতে ভিজি। কিন্ত মায়ের কড়া বারণ বৃষ্টিতে ভিজা যাবেনা। এমন মনোহারা বৃষ্টিস্নাত দুপুরে রবীন্দ্র সংগীত শুনতে পারলে অনেক ভালো লাগতো। কিন্ত বিদ্যুৎ সেই যে গেছে আর আসার নামটি নেই। কাজেই একপ্রকার বাধ্য হয়ে জানালার পাশে বিছানায় বসে রইলাম।

সদ্য বেশ কয়েকটি কচুগাছ জানালের পাশের ঝোপমতো স্থানে গজিয়েছে। চাল থেকে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে এগুলোর উপর পড়েই নিমিষে চারদিকে গোলাকৃ্তি হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে, দেখলে বুঝাই যায়না এইমাত্র এগুলোতে পানি পড়েছে। দৃশ্যটা বেশ ভালো লাগছিলো আমার কাছে এবং কিছুটা অবাকও হচ্ছিলাম এই ভেবে অন্যগাছেও পানি পড়ছে কিন্ত এতো তাড়াতাড়ি তো এভাবে গোল হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছেনা।

হঠাৎ মনে পড়লো সে দিন ক্লাসে পরাগ স্যার পানির পৃষ্ঠটান নিয়ে কি একটা লেকচার দিচ্ছিলেন ঐখানে এরকম কি একটা ব্যাপার ছিলো। কিন্ত মনে আসছিলো না, পেটে আসছে, মুখে আসছে না এইরকম অবস্থা। হ্যাঁ মনে পড়েছে, কোন কঠিন পৃষ্ঠের উপর তরল পদার্থ পড়লে দেখা যায় যে, তরলটি পৃষ্ঠের সর্বত্র ছড়িয়ে না পড়ে ফোঁটার আকার ধারণ করতে চায়। স্বল্প আয়তনের তরল পদার্থ সর্বদাই গোলকের আকৃ্তি গ্রহণ করে। এজন্যই শিশির বিন্দু, বৃষ্টির ফোঁটা, পারদ বিন্দু ইত্যাদির আকৃতি গোলাকার, কেননা নির্দিষ্ট আয়তনের তরলের মুক্ত তলের ক্ষেত্রফল গোলক আকৃ্তিতে সর্বনিম্ন হয়। সে কারণেই তরলবিন্দু আপনা থেকেই এমন জ্যামিতিক আকার গ্রহণ করে যেখানে ক্ষেত্রফল সর্বাপেক্ষা কম হয়।

ধুর! এই বৃষ্টির মধুময় ক্ষণে পদার্থের কাঠখোট্টা বিষয় কেন চিন্তা করছি! এমন দিনে এই রসহীন বিষয় একদম মানায় না। আজ শুধু প্রাণ খুলে গাওয়া উচিত বৃষ্টির জয়গান। কখন যে বিদ্যুৎ চলে এসেছে খেয়ালই করিনি। ডিভিডি প্লেয়ারে ছেড়ে দিলাম রবীন্দ্র সংগীত।

আজি ঝর ঝর মুখর বাদলদিনে
জানি নে, জানি নে কিছুতেই কেন মন লাগে না ।।
এই চঞ্চল সজল পবন-বেগে উদ্ভ্রান্ত মেঘে মন চায়
মন চায় ঐ বলাকার পথখানি নিতে চিনে ।।
মেঘমল্লারে সারা দিনমান
বাজে ঝরনার গান ।
মন হারাবার আজি বেলা, পথ ভুলিবার খেলা- মন চায়
মন চায় হৃদয় জড়াতে কার চিরঋণে ।।

কবিগুরুর এই গান শুনতে শুনতে মনটা যেন উদাস হয়ে যায়। আবারো ইচ্ছে করে বৃষ্টিতে ভিজি। এবার ভীষন রাগ হয় মায়ের উপর। শরীর খারাপ করলে আমার করবে উনার কি! মাকে মনে মনে কিছুক্ষণ বকাঝকাও করলাম, এই দুষ্টু মেয়ে জ্বর আসলে আমার আসবে তোমার তাতে কি! আমি কি তোমাকে কিছুতে বারণ করি, তাহলে তুমি কেন এমন করো! এবার বকাঝকা বন্ধ করে লক্ষী মেয়ের মতো মনে মনে বলি, মা বৃষ্টিতে ভিজতে দাওনা। মায়ের প্রতি অভিমান দেখাতে দেখাতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি ঠের পাইনি।


আমি হলুদ ডোরাআঁকা লাল শাড়ি পড়ে কোন এক গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টিতে আমি পুরোপুরি ভিজে গেছি। আস্ত শাড়ি আমার গায়ের সাথে লেপ্টে আছে। কাঁচা রাস্তার কাদামাটি আমার পায়ে লেগে অদ্ভুত লাগছে, তারপরও বেশ মজা পাচ্ছি। কাদা-পানিতে আমি লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটছি আর পাশের একটি লোক কটমট চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। বুঝতে পারলাম লোকটি আমার জন্য শান্তিতে যেতে পারছেনা। এ দেখে আমার উৎসাহ যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেলো, আমি আরো বেশী লাফাতে লাগলাম কাদা-পানিতে।

রাস্তা পেরিয়ে একটি বাড়ির পুকুর পাড়ে এসে দাঁড়ালাম। সারি সারি সুপারি আর নারকেল গাছ পুকুরটাকে যেন পর্দা দিয়ে রেখেছে। পুকুরের পানিতে বৃষ্টির পানি পড়ে অদ্ভুতভাবে নেচে উঠছিলো, ভীষণ ভালো লাগছিলো দেখতে। হঠাৎ চোখ পড়লো পুকুর ঘাটের পাশেই একটি গাছে অনেক জাম ঝুলে আছে। লোভে জিহবায় পানি এসে গেলো। কিন্ত সাহস পাচ্ছিলাম না গাছের ধারে যেতে। যদি কেউ এসে পড়ে তাহলে আর রক্ষে নেই। তারপরও সাহস করে গুটিপায়ে এগিয়ে গেলাম জাম গাছের দিকে।

পাকা কালো জামগুলো যেন আমায় ডাকছে, এসো তুমি মোর কাছে হে প্রিয়া! কিন্ত হাত দিয়ে নাগাল পাচ্ছিলাম না, লাফিয়েও কাজ হচ্ছিলো না। শেষ পর্যন্ত একটি লাঠি দিয়ে একগুচ্ছ জামে আঘাত করতেই বেশ কয়েকটি ডাউস আকারের জাম নিচে পড়লো। আমি খুশিতে আটখানা হয়ে জাম কুড়োচ্ছি হঠাৎ দেখি এক যুবক আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ভালো করে মুখের দিকে তাঁকাতেই আমি বেশ অবাক হলাম। মানুষ এতো সুন্দর কি করে হয়! এরকম ছেলে আমি আমার জীবনে একটিও দেখিনি। ছেলেটি আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে, আমিও ছেলেটির দিকে তাঁকিয়ে আছি। ছেলেটিকে যতোই দেখছি, ততোই অবাক হচ্ছি, এতো মিষ্টি করে ছেলেটা হাসে কীভাবে? একবার মনে হচ্ছিলো ছেলেটিকে বলি, এই ছেলে তুমি চলে যাও নাহলে তো আমি তোমার প্রেমে পড়ে যাবো! যতো সময় যাচ্ছিল ততো ছেলেটিকে আপন মনে হচ্ছিলো।

হঠাৎ কিসের শব্দে চেয়ে দেখি মা ডাকছেন, এই প্রিয়ন্তী, বেলা যে অনেক হলো, ভাত খাবি, ঘুম থেকে উঠ। আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। তাহলে কি আমি এতোক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম! মনটা ভীষন খারাপ হয়ে গেলো। কিন্ত স্বপ্নে দেখা মায়াবী ছেলেটির কথা মনে হতেই মনটা ভালো হয়ে যায়। মনে মনে বলি হে প্রিয়, আমি কি সত্যিই তোমাকে পাবো। আমার মন কেন জানি বলছে তোমাকে আমি আমার বাস্তবে খুঁজে পাবো। হে বৃষ্টি, হে বর্ষা, হে কবিগুরু তোমাদের কাছে প্রার্থনা আমি যেন আমার স্বপ্নকুমারকে খুঁজে পাই। হে স্বপ্নকুমার, আমি বৃষ্টিকন্যা হয়ে তোমার হৃদয়ে থাকতে চাই।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement