আমি একজন মানুষ আমার কথা বলার জন্য মুখ আছে, আঁকড়ে ধরার জন্য হাত আছে, চলাফেরা করার জন্য পা আছে, উপলব্ধি করার জন্য মন আছে কিন্তু কেউ কি জানে আমার ভেতরে এক আমি আছে। তার ভেতরে খুব যন্ত্রণা। সে কখনও বাইরে বেরোয় না তাই তার যন্ত্রণার কথা কেউ বোঝে না। উপরের যে আমি আছে, সে বড় সুখে আছে। তার কিছু প্রিয় বন্ধু আছে। সে তার মনের ব্যথা বন্ধুদের সাথে সহজেই ভাগাভাগি করতে পারে কিন্তু ভেতরে যে আমি আছে সে বড্ড বোকা। সে কারও সাথে মেশে না। সে তার ব্যথা কারও সাথে ভাগাভাগি করতে পারে না। সে তার ব্যথা তার ভেতরেই চেপে রাখে। সে এমন জটিল যন্ত্রণা ভোগ করে যা সে কাউকে বলতে পারে না।

আমার এই জীবনটা বহুরুপী। বারবার এই জীবনের রঙ বদলেছে। আর এই রদবদলের চাকার নিচে পড়ে আমার কিছু জীবন্ত আকাঙ্খাও দুমড়ে মুচড়ে পিষে গেছে। যাক ওদেরকে যেতে দেয়াই হয়ত ভাল। আর এখন পেছনের কথা ভাবি না। মাঝে মাঝে উপরের আমি এই ভেতরের আমিটাকে জ্বালাতন করে। আর তখন ভেতরের আমিটাকে লাঠিপেটা করি। বলি, তোর কেউ নেই। তোর যন্ত্রণায় তুই পোড় তাতে আমাকে জ্বালাস কেন? সত্যিই ও বড় একা, ওর যন্ত্রণা বড় বিষাদময়।

আমি জানি আমার এই দ্বৈতসত্তা মানুষিকতা নিয়ে আজীবন কাটাতে হবে। আমার মনের সবচেয়ে গভীর গলিটার আগুন কখনও নেভানো যাবে না। কখনও না। তাই ভেতরে আমিটা একাকী জ্বলবে আর উপরের আমিটা তাকে লাঠিপেটা করে যাবে। আর বলবে তোর কেউ নেই, তুই একাই পোড়। তোর পোড়া আগুনে একটা ইতিহাসের সৃষ্টি হোক। একটা মানুষ ভেতরে এত বড় যন্ত্রণা ভোগ করেছে কিন্তু তা সে জীবনে কারও সাথে শেয়ার করতে পারেনি।