আজতক আমি নিজেকেই চিনতে পারিনি।

একটা সবাক দেহের আবডালে
অচেনা আমাকেই মনে হয় আত্ন জন।
অযাচিত সম্পর্কের টানা-পোড়েন
আমাকে সবার কাছে আড়াল করে তোলে।

সহজাত কথার ফল্গুধার
নদীর মত ছোটে অবিরাম।
মোহনায় হারাবার পথ না পেয়ে
উৎসের বিবর্তনে খোঁজে অমৃত আশ্রয়।

অথচ সদা বর্ণচোরা লাম্পট্যের ভীড়ে
কত সহজেই না কাছে আসি সবার।
বুকের পাজরে যতগুলো দীর্ঘশ্বাস ছোটে
তার চেয়ে বেশী করে বাঁধি আপন আলয়।
জোড়া হাতের অকস্মাৎ তুবড়ীতে ফোঁটে লাল গোলাপ
রন্ধ্রে রন্ধ্রে বয়ে যাই গোপন আশ্বাসে।

তোমাদের সাতকাহনে নেই তবু আমার বন্দনা।

তোমরাতো সদাই ব্যাস্ত আঘ্রানের মশাল প্রজ্জলনে
অফুরান আনন্দের আতিশায্যে কর নব আস্বাদন।
লহমার পর লহমার ব্যাবচ্ছেদে
অলীক সম্পর্কের বেড়াজালে গড় ছলনার জীবন।
লালায়িত চাহিদার ভোল পাল্টিয়ে
একছত্র স্বার্থপরতায় হও অতীব স্বজন।
তাই বুঝি তোমাদের চেনা বলয়ে নেই
আমার মলিন যাতনার অটল অবশেষ।
অদৃশ্য অবগুন্ঠনে সেথা রাখি সম বাজে
নিরন্তর চাওয়ার মসৃণ লহরী অঢেল।

জানি এ কান্না কখনোই টলবে না তোমায়
লম্ভিবে না কভূ পরম মমতায়।
এক রত্তি বন্ধু নও তো তুমি
নও তুমি আমৃতু্য অপারের সতত বিয়োজন।
তোমার মাঝেই তবু বিলীন হয়ে
আদিগন্ত অবসাদে যাই খোঁজে ফেরে
আত্নার বাহিরের অমোঘ সম্বন্ধের আদলে
আমার অকপট বিশেষিত পরম আত্ন জন।

(আত্ন জন = প্রিয় জন বা বন্ধূ)