ব্ল্যাক মুন

ভালবাসার গল্প (ফেব্রুয়ারী ২০২৪)

রুহুল আমীন রাজু
  • ২৪
  • ১২
  • ২০৩
পৃথিবীটা যেমন আজব এর চেয়েও বড় আজব মানুষ। জড়িপ করলে হয়তো এ দিক দিয়ে সেরা হবে আমাদের দেশ এবং এদেশের মানুষ।
অদ্ভ’ত এক কাবাব ! এই কাবাব কেউ খায় না। মানুষের কাবাবতো... ধর্মে এগুলো খাওয়া হারাম। গণতন্ত্রের...(?) জন্যে লাগাতার অবরোধ-হরতাল চলছে সারা দেশে। গণতЯের জন্য এক শ্্েরনীর রাজনৈতীক দল বাসে ট্্রাকে ট্্েরনে আগুন দিয়ে মানুষ মারছে। পেট্রোল বোমায় তৈরী হচ্ছে এই মানব কাবাব।

সরকার বলছে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতীক দল আন্দোলনের নামে এসব বর্বর নাশকতা চালাচ্ছে। অপরদিকে প্রতিপক্ষরা বলছে, তাদের শান্তিপূর্ন আন্দোলনকে ভুলু›িঠত করতে সরকারের এজেন্টরা এসব করছে।

এমন এক ভয়ংকর সময়ে সুলক্ষীর জন্মদিন। এবার একটু অন্যরকম ভাবে দিনটি পালন করতে চেয়েছিলো সুলক্ষ¥ী। সামনের সোমবার তার কেক কাটা হবে শুধু’ই শুভকে নিয়ে । ঐদিন দূর দিগন্তে কোথাও কোনো এক অরণ্যে হারিয়ে যাবে ওরা। জন্মদিনের অতিথি হবে নীল আকাশ অগণিত পাখি আর বৃক্ষ-তরুলতা। কিন্তু চলমান অ¯িহর পরিবেশের কারনে শুভ’কে তা জানাতে সাহস পাচ্ছে না। শুভ বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয়- রোগী সেজে এ্যাম্বুলেন্সে করে হলেও সে কটিয়াদী থেকে রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। ওর জন্মদিনে তার উপ¯িহতিটা হবে অনেক বড় সারপ্রাইজ।

শুভ’র আকাশে সুলক্ষ¥ী যেনো নতুন এক ধূমকেতু। ওর কথা মনে হলেই কেমন বৃষ্টি পড়ার শব্দ হয় তার বুকের ভেতর। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার অনন্য প্লাটফর্ম ¯হাপন হয়েছে তার ভালবাসার ছোঁয়ায়। ও দেখতে যেমন সুন্দর এর চেয়েও বেশী সুন্দর তার হ্নদয়। ওর ভেতরের এই সৌন্দর্য্যকেই আবিস্কার করেছে শুভ। তবে দৃশ্যমান একটা দেয়াল উভয়ের মাঝে বিদ্যমান - তবুও চমৎকার বোঝাপড়া ওদের। শুভ’র বক্তব্য- এজীবনে যদি সম্ভব না হয়, পরজীবনে যেনো সুলক্ষী তার হয়। উত্তরে সুলক্ষীর সরল জবাব- আমি তোমার পাশে ছায়া হয়ে আছি, থাকবো...।
গেলো বর্ষায় জল দর্শনে ওরা পাড়ি দেয় হাওড়ে। সাঁতার জানে না শুভ- তবুও সুলক্ষ¥ীকে নিয়ে নৌকা ভাসায় বিশাল হাওড়ের বুকে। নৌকা যখন হাওড়ের গহীনে- তখন মনে হচ্ছে, এ যেনো আটলান্টিক মহাসাগর। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে নৌকায়। তবুও বিন্দুমাত্র ভয় নেই ওদের। হঠাৎ একটা মিষ্টি গন্ধ অনুভব করলো শুভ ..। গন্ধটা আসছে সুলক্ষ¥ীর ক্ষোপা থেকে। যে গন্ধে শুভ হারিয়ে যায় অন্য ভূবনে।

এ্যাম্বুলেন্স ছুটে চলেছে ঢাকার দিকে। পথে পথে বাধা ব্যারিকেড..রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয়া হয়েছে। শুভ ভেবে পায় না এভাবে রাজপথ বন্ধ রাখলে গণতন্ত্র আসবে কিভাবে...? পথ বন্ধ রেখে গণতন্ত্রের অপেক্ষা...!
রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট পার হওয়ার পর গজারী গড়ে চার/পাঁচ যুবক অতর্কিত ভাবে হামলা চালায় এ্যাম্বুলেন্সটির উপর। কিছু বুঝে উঠার আগে’ই গাড়ীতে দাউ দাউ আগুনের লেলীহান শিখা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে শুভকে রাখা হয়েছে। শরীরের বিশ ভাগ পুড়ে গেছে তার। চালক দগ্ধ হয়েছে নব্বই ভাগ। তার বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে শুভও আশংকামুক্ত নয়। সে মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে। জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত কিছু বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা।
রাত তখন অনেক গভীর। শুভ’র জন্য সুলক্ষ¥ী কি অপেক্ষা করছে ? আজ তার জন্মদিন। যদি টেলিভিশনের সামনে থাকে তাহলে খবরটি চোখে পরবে-কিছুক্ষণ আগে শুভও কাবাব হয়েছে। শুভ’র দেহের চারদিকে মাকড়সার জালের মতো ইলেকট্রিক তার জড়ানো।
এ অব¯হায় হঠাৎ বৃষ্টি পড়ার শব্দ শুনতে পায় সে। নীল শাড়ী নিয়ে শুভ সুলক্ষ¥ীর কাছে। সুলক্ষ¥ী কেক সাজিয়ে একা বসে আছে সমুদ্র তীরে। মোমবাতি গুলো অর্ধেক পুড়ে গেছে । তার পড়নে নীল শাড়ী। চুলগুলো ছড়ানো। যেনো এক নীল পরী। শুভকে দেখে ও ছুটে আসে। শুভকে জড়িয়ে ধরে গভীর আলীঙ্গনে। সুলক্ষ¥ীর চুলের গন্ধ আজ আরো অদ্ভ’ত লাগছে। এভাবেই বেশ কিছুক্ষণ পর শুভ’র চোখ পড়লো আয়নার দিকে। সমুদ্র পাড়ে আয়না এলো কি করে...! বুঝতে পারছে না সে। সুলক্ষ¥ীর শাড়ীর আঁচল পড়ে যাওয়ায় আয়নায় তার পিঠ দেখা যাচ্ছে। ও কি শুধু শাড়ী’ই পড়ে আছে ...? উদ্দাম উদোম শরীর। যেনো জোছনা রাতের আকাশ তার শরীর। পিঠের উপরে একটি ছোট্র তিল দেখা যাচ্ছে। তিলটাকে মনে হচ্ছে- কালো চাঁদ। মিষ্টি গন্ধটা আর নেই। হঠাৎ পোড়া মানুষের গন্ধ আসছে।

জ্ঞান ফিরে আসে শুভ’র। ওর কাঁপা কাঁপা ঝাপসা চোখ পড়ে পাশে দাঁড়ানো এক নারীর। স্বপ্নে দেখা ঠিক সেই কালো চাঁদের আকাশের মতো উদোম পিঠ তার চোখের সামনে। সুলক্ষ¥ী শুভ’র কপালে হাত রেখে ক্ষীণ কন্ঠে বললো,এখন কেমন আছো।
সহাস্যে ও বললো , ভালো। তুমি কখন এলে।
ঃ এইতো সেই কখন..এই অব¯হায় তোমার মুখে হাসি... ?
ঃ হাসলাম তোমার পিঠের কালো তিলটা দেখে।
ঃ না,আমার পিঠেতো কোনো তিল নেই ।
ঃ আয়নায় চেয়ে দেখো।

সুলক্ষ¥ী আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। অবাক কান্ড! হ্যাঁ, তাইতো। এখানেতো তার কখনো তিল ছিলো না! আজ হঠাৎ... তবে তিলের ¯হানটিতে কিছুক্ষন ধরে কেমন যেনো জ্বালা-পোড়া করছে। ও বুঝতে পারলো তিল রহস্যের ঘটনাটির। শুভ’র খবর পেয়ে হাসপাতালে আসার পথে তার গাড়ীটিও পেট্রল বোমা হামলার শিকার হয়। হয়তো আগুনের ফুলকি তার পিঠে লেগেছিলো।

বার্ন ইউনিটে প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক্র মিডিয়ার বহু সাংবাদিক ছুটে এসেছে। এই মাত্র যে বাসটিতে পেট্রল বোমা হামলা হয়েছে তাতে তিন জনের মৃত্যু ও বিশ জন দগ্ধ হয়েছে। সবচেয়ে হ্নদয় বিদারক যে ঘটনাটি ঘটে গেলো তা হচ্ছে, আগুনে দগ্ধ এক গর্ভবতী মা মৃত্যুর আগে সন্তান প্রসব করেছে। তার প্রত্যক্ষ্যদর্শী সুলক্ষী । ওর সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য সাংবাদিকরা হন্যে হয়ে খুঁজছে তাকে।

টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সুলক্ষ¥ীর সাক্ষাৎকারটি সরাসরি সম্প্রচার করছে। সুলক্ষ¥ী বর্বর এই পৈশাচিক ঘটনার বর্নণা দিলো...পরিশেষে ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে লাগলো- যে জাতি ৫২’ এ ভাষার জন্য রক্ত দেয় ৭১’ এ দেশের জন্য রক্ত দেয় সেই জাতি আজ এমন জঘণ্য কর্মে লিপ্ত হলো কিভাবে ?
আল-কায়দা আইএস জঙ্গীরাওতো হত্যাযজ্ঞ্যের দায় শিকার করে। আর এদেশের রাজনীতিতে এ কি হচ্ছে ? এরাতো আল-কায়দার চেয়েও ভয়ংকর !

শুনুন বাচ্চাটির হতভাগী মা কি বলে গেছে - নিরাপদ প্রসবের জন্যে মফস্বল থেকে রাজধানীতে আসতে ছিলো দিন মজুর পরিবারটি। আমার পাশের সিটটি ছিলো তার। অনেক কথা’ই হয়েছে মহিলার সাথে। তার সন্তানকে লেখা পড়া শিখিয়ে অনেক বড় ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন ছিলো। হালের গরু বিক্রি করে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করে ছিলো সে।
হতভাগী মায়ের মৃত্যুর পূর্বে তার কাছ থেকে নবজাতকটির দায়িত্ব আমি চেয়ে নিয়েছি। ওর মা এখন আমি। ওকে আমি বড় করবো। ওকে আমি ভালো মানুষ বানাবো বলে হাউমাউ করে কেঁেদ উঠলো সুলক্ষ¥ী। অঝর কান্নায় সে আরো বলতে লাগলো- নবজাতকটির মা বলে গেছে, ও যেদিন বুঝতে শিখবে সেদিন প্রথম থু-থু টি যেনো এই নষ্ট রাজনীতির মুখে নিক্ষেপ করে !

শুভ নিজে’ই তার মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক সরিয়ে ফেলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বললো, আমি ওর বাবা। আমি নবজাতকটির নাম রাখলাম- ‘বø্যাক মুন ’।

-সমাপ্ত -
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
ফয়জুল মহী অপুর্ব সুন্দর লেখা , খুব ভালো লাগলো পড়ে লেখাটি।
আশরাফুল হক অনেক অনেক মানসম্মত একটি গল্প মাশাল্লাহ।
শ্রেয়া চৌধুরী সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগুন হামলার বর্তমান জঘন্য ও নির্মম পরিস্থিতির চিত্র বেশ চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। পাশাপাশি ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গল্পটিতে। আর সুলক্ষ্মী চরিত্রতো ক্রমেই মায়ায় ফেলে দিচ্ছে।
বিশ্বরঞ্জন দত্তগুপ্ত গল্পের প্রেক্ষাপট, চরিত্র, উপস্থাপনা - সামগ্রিক ভাবে খুব সুন্দর। ভালবাসা আর শুভকামনা রইলো।
নীলাঞ্জনা নীল কোন লেখা পড়ে যদি একজন পাঠকের মনে ঝাকুনি দেয়, তাহলে সেই লেখাটি নিঃসন্দেহে সার্থক।সার্থক গল্পের লেখকও।
নার্গিস আক্তার জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে ওরা রাজনীতির নামে লাশনীতি কায়েম করতে চায়। ওদের থু থু থু..... এক কালজয়ী গল্প লিখেছেন লেখক । অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা লেখকের জন্য।
Faisal Bipu এদের নির্মুল করা ছাড়া দেশে কখনোই শান্তি মিলবে না। এরা অল্প কিছু টাকার জন্য গন্ধের নেশায় পুরা লাশের গন্ধ নেয়। আর তাদের আদেশকর্তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে খেলে মানুষ পোড়ানো খেলা। সরকারী নয় বিরোধীদল নয় এই ব্যক্তিগুলো অমানুষ। সাথে প্রেমের গল্পটাও সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে ভাই। ধন্যবাদ সুন্দর গল্পটা উপহার দেওয়ার জন্য
অপর্ণা রায় সব মিলিয়ে অসাধারণ গল্প। গল্পকারের হাতে জাদু আছে নি সন্দেহে।
শ্রাবনী রাজু গল্প না যেন বাস্তব জীবনের চিত্র দেখলাম। ভীষণ ভালো লাগলো। সামনে এমন লেখার আশা করছি। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি গল্পকারকে।
পার্বতী সাহা দারুণ এক গল্প। ভালোবাসার কাহিনীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ করেছেন অত্যন্ত সাহসীকতার সাথে। সুলক্ষ্মী চরিত্রটির প্রতি আকর্ষণ ক্রমেই বেড়ে উঠেছে।

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

পৃথিবীটা যেমন আজব এর চেয়েও বড় আজব মানুষ।

০৬ এপ্রিল - ২০১১ গল্প/কবিতা: ৩৪ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "মুক্তির গান”
কবিতার বিষয় "মুক্তির গান”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারী,২০২৪