কবিতাটি বাংলাদেশের ওপর, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর আলোকপাত করে লেখা
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৭ জানুয়ারী ১৯৬৫
গল্প/কবিতা: ৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - বাংলাদেশ (ডিসেম্বর ২০১৯)

বাংলাদেশ
বাংলাদেশ

সংখ্যা

Gazi Saiful Islam

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৪৪
(এক)
আমার জন্মের আগে তুমি ছিলে
আমার মা-বাবার আদর্শ এক স্বপ্নরূপে
এর আগে ছিলে দাদা ও দাদীর কৃষিজ জমিতে
পুঁই কলমির মাঁচায়, লাউ ফুলের বুনো ঘ্রাণে,
তারও হাজার বছর আগের অতীতেও তুমি ছিলে
ঈসা খাঁর ভাটি অঞ্চলে, সোনার গায়ের প্রাচীন
ঐশ্বর্য্যে এবং লাল রঙ মাটির বিধ্বস্ত ভিটিতে।
তারাই সে ইতিহাস বলে আমায়,‘‘ও পথিক
যখনই ক্লান্ত ও নিঃশেষিত হয়ে পড়ো
তাকিও বিশাল আকাশের দিকে, ওখানে তোমার
মহতী স্বাধীন সত্তাটি একটি গল্প হয়ে আছে
পড়ে নিও সানুগ্রহে, যখন তোমাকে লিখতেই হবে
তোমার জন্মভূমি, বাংলাদেশকে নিয়ে...

(দুই)
বাংলাদেশ! বাহান্নতে তুমি ছিলে আমাদের ভাষা আন্দোলনে। ঊনসত্তরেও গণ আন্দোলনে, শহীদ আসাদ সেই আন্দোলনের প্রথম শহীদ-সাধীকারের দাবীতে। এরপর এলো সত্তরের সাধারণ নির্বাচন কী যে ভয়ানক দিন, এরপরও ভোট যুদ্ধে জয়ী হলো তুমি। সাতকোটি মানুষ সাতকোটি সূর্য দীপ্তিমান হলো শোধিতে পরাধীনতার ঋণ। কিন্তু হায়, বিশ্ব বেহায়া আইয়ুব খান দেখা দিল মূর্তিমান আতঙ্করূপে, রাহুর গ্রাসে পড়ল প্রিয় মাতৃভূমি, ওষ্ঠাগত হলো শেখ মুজিবের প্রাণ। এরপর এলো একাত্তর, তোমার পঁচিশ মার্চ, ভয়ানক সেই কালো রাতের গল্প, যেমনটি কেউ শুনেনি কোনোদিন। হঠাৎ, আচানক। মধ্যরাতে ঘুমন্ত নারী-শিশু মা বোনের ওপর অতর্কিতে চালালো গুলি পাক হানাদার ক্ষুধার্ত সার্দুল। এরপরের গল্প জানা সবার, রক্তে হলো লাল পদ্মা-মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা।

(তিন)

আজও তোমার দু’চোখের কোণে
কষ্টের করুণ অশ্রুপাত দেখি,
তোমার সে অশ্রুকে কালি করেই
আজও প্রতিবাদী কবিতা লিখি।
‘স্বাধীন’ নামের চিত্রা হরিণীটি
আজও যে পায়নি মুক্তির স্বাদ
আজও ঠুকছে কিশোরীর মাথা
দুষ্টু কীটসব, পাতিয়া জঘন্য ফাঁদ।

(চার)
আজও চকিত দু’হাত আমার
অসীম সাহসে উর্ধ্বেই রেখেছি তুলে
তিরিশ লাখ শহীদ মা-বোনের কথা
একদিনের জন্যও আমি যাইনি ভুলে।
আজও রক্তের অক্ষরেই লিখি
রফিক শফিক নূর হোসেনের নাম
সুউচ্চ অট্টালিকার আভিজাত্যে শুয়ে
ভুলে যাইনি তাদের পরিচয়, ধাম।
বাংলার নদী-খাল-বিল জলপোত
শেখের বীরত্বে গাঁথা অগ্রদূত।
সৃজন আনন্দে উড়ে আঁখি পাতিহাঁস
ব্রহ্মপুত্রে কৃষক বুনে স্বপ্ন বারোমাস।

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement