লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৭১টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftশহীদ দিবস (মার্চ ২০১৮)

গণকবর
শহীদ দিবস

সংখ্যা

আযাহা সুলতান

comment ০  favorite ০  import_contacts ৮৫
এখানে আমার বাবার কবর
এখানে পাশের ঘরের মেহের হোচেন
এখানে বাবার বন্ধুকাকা নন্দলাল
এখানে আমাদের স্বপ্ন ধূলিস্মর--

এটা বাংলার গণকবর!

এখানে দাঁড়ালে রাখতে পারি না চোখের জল
এখানে তাকালে ফেলতে পারি না পলকচোখের
এখানে এলে আবেগাপ্লুতহৃদয় ফিরে যেতে পারে না বাড়ি
এখানে দেখলে ভেসে ওঠে বারবার--
ভেসে ওঠে চোখের সামনে সেই বর্বরতার চিত্র

বন্ধু শোন--

এ তবে শোনাচ্ছি
বাংলার শিহরিত গল্প
করুণকাহিনী--
এখানে কুকুরেরা করছে টানাটানি লাশ
ওখানে দাউদাউ জ্বলছে বাড়িঘর
নদীতে ভেসে যাচ্ছে লাশের সারি
কতক গলিত মুণ্ডু ছাড়া কোনেক অঙ্গহীন রক্তমাখা
শকুনে খেয়েছে কতক
হয়ত সদানন্দ ভাইকারও--আরও কত কাছের জন
হয়ত ভেসে যাচ্ছে মা তাদের কিবা ধর্ষিতা বোনটি
কূলে বসে কাঁদছে ন-বোধ নয় বছরের শিশুটি--

ভর্য়াত মন
তরতর কাঁপন
ছলছল চোখে জল
চাপা ক্রন্দন
মৃত্যুকূপের জীবন

এসব দৃশ্য দেখার শক্তি কার?

স্রষ্টার চোখে পানি
সৃষ্টির মনে ডর
বাতাসের গায়ে আগুন
আকাশের দেহ লাল
মাটির বুকে তুফান
উড়ছে ঘরের চাল
সময় বেহাল--বিধ্বস্ত বাংলা
পথেঘাটে মরছে পাখিরা
শূন্য হাট
শূন্য মাঠ
উজাড় বাগান

ভুলা যায় কি এসব দুঃখের হাহুতাশ?

কী চেয়েছিল আমাদের পূর্বপুরুষেরা
এ স্বাধীন? এ শান্তি? এ দেশ?
একি তবে স্বাধীনতা?
এ স্বাধীনতার জন্যে বুকপেতে দিয়েছিল তাঁরা!
রক্ত ঢেলে দিয়েছিল অগ্রজেরা!
এটাই কি স্বাধীনতা?
এরাই কি তবে স্বাধীনদেশের জনতা?
যারা স্বাধীনের বিপক্ষে যুদ্ধঘোষণা করে
ধর্মের দোহাই দিয়ে রক্তের হোলি খেলে
অধর্মাচারী বলে ধর্মচারীকে ধিক্কৃত করে
তারাই ধার্মিক! একমাত্র নাগরিক!

কোথায় বিবেক?

জ্বল বন্ধু জ্বল...
জ্বালাও বন্ধু জ্বালাও...
এদেশ বারবার জ্বলতে রাজি আছে
আমরা বারবার মরতে রাজি আছি

তবে--

কেন এ বাঁচামরার লড়াই!
কেন?
অন্ধত্বের পা-তলে আর কত পিষ্ট মনুষ্যতা!
আর কত?
আর কত খুনের রঙে রঞ্জিত হবে দেশ!
ধর্মান্ধতার জাঁতিকলে আর কত কর্তন ধার্মিকতা!

বন্ধু--

হাসতে পারি না আর
বিদ্রূপের হাসিতে বড়বেশি জ্বালা
দৈত্যের কবল থেকে মুক্ত হতে পেরেছি ঠিক
কিন্তু হায়েনা থেকে মুক্ত হতে পেরেছি কি?
এদেশ এখনো কি রাক্ষসের হাতে জিম্মি নয়?

গুপ্তশত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ কখনো শেষ নয়...

এযুদ্ধ না হোক ধ্বংসের--হোক শান্তি প্রতিষ্ঠার
বিনয়ীসোচ্চারে হোক মৌনমিছিল
আভাসের ভাষায় হোক তীব্র প্রতিবাদ
তাতে জ্বলবে না কোন লোকালয়
হবে না কোন ক্ষয়ক্ষতি
এটাই ইনসানিয়াত--গণহত্যার দ্বিমত
আমাদের রাজনীতি হোক--সন্ধি হোক
রাজনীতি হোক অহিংস, সন্ধি হোক দৃষ্টান্ত
আমাদের না হোক হিংস্র আচরণ

আমরা হিংস্র হলে মানুষ কি আর?

ভাই আমার, বন্ধু আমার
একবার ভেবে দেখ বিবেকবান
ভেবে দেখ একান্তে বসেনিরালায়
অনুভব করতে পার কিনা
তোমার মানসপটে ভেসে উঠে কিনা--

বাহান্ন...একাত্তর...

কার বিপক্ষে বিদ্রোহ--এতই হিংসুটে আজ!
কোন্ মানহানির বিরুদ্ধে লড়াই?
কে আনছে তোমার সম্মানে আঘাত?
সম্মানেরচেয়েমানবতাঅনেকঊর্ধ্বে...

বন্ধু--

আরকোনগণকবরকাম্যনয়
কাম্যনয়কোনশোকেরমাতম--দুঃখেরআহাজারি
কাম্যনয়আরকোনপরাধীনতা

আমরাস্বাধীন...

এসহাতেহাতরাখি
যেযেখানেআছি
শুদ্ধস্বরে প্রার্থনা করি--
বাংলা হোক বিশ্বশান্তির মাটি
বাঙালি হোক তুলনাহীন জাতি

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement