"যে অশ্রু কথা বলে"
আমি আসাদ, বয়স ১৯। এইচ, এস, সি পরীক্ষা সবে মাত্র শেষ করলাম। একটু আহ্লাদী টাইপের ছেলে আমি। অন্য ১০জন ছেলের মত আমি নই, জীবনকে ভাল মত বুঝতে শিখিনী তখনও। বাবা মাকে ছেড়ে একটি রাতও দুরে থাকিনি। আসলে বাবা মা'ই আমাকে কোনদিন দুরে থাকতে দেয়নি। একদিন ১১ কি ১২ ঘণ্টা ফুপু বাড়িতে ছিলাম। সেই আমি আজ ঢাকা যাচ্ছি কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে। আমাদের গ্রামে ভাল কোনো কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার নেই, তাই ঢাকা যাওয়া। থাকবো বোনের বাসায়। আমি খুবই ভালো থাকবো একথা আমি, মা বাবা সবাই জানতো। অনেক আগে থকেই ঠিক করা ছিল পরীক্ষা শেষ হলেই ঢাকা যাবো ডিজাইন শিখতে। অবশেষে সেই দিন এসেছে। আমার ব্যাগ কত বড় হয়েছে সেই দিকে যাবোনা। আমি বিদায় নিচ্ছি সবার কাছে, আমার আনন্দই লাগছে, মনে হচ্ছে একটা স্বাধীনতার টেপ বাজছে বুকের কনসার্টে। সবাই কিছুদূর এগিয়ে দিয়ে গেলো, কিন্তু মা আমার সাথে সাথে বাস পর্যন্ত যাবে। যদিও সাথে আমার ভগ্নিপতি আছে তারপরেও। প্রায় ২ কিলোমিটার হাটতে হবে বাস ধরতে। কথায় কথায় অনেক পথ চলে এসেছি আমরা তিন জন। ভালই পথ এগুচ্ছে, হঠাৎ আমার চোখ পড়লো আমার মায়ের চোখে, পদ্ম পাতার কার্নিশে জমে ওঠা জলের মত মায়ের চোখের বারান্দায় দেখতে পেলাম জলের কোলাহল। কেমন যেন একটা অনুভূতি ছেয়ে গেল আমার প্রতিটি শীরায় উপশিরায়, আমি আর হাটতে পারছি না, মনে হচ্ছে আমার পা দুটো পাথর হয়ে আসছে, এই বুঝি আমি মাটিতে পরে যাবো। আমি আর মায়ের চোখে তাকাতে পারিনি, অথচ আজও যেন সেই একজোড়া চোখেই তাকিয়ে আছি আমি। তারপর কেটে গেছে আরও ২৩ বছর। মা আজ বৃদ্ধা, আজও বিদায়ের দিন মা কাঁদে। মায়ের সেই অশ্রু কি বলে আমি আজ বুঝি। আজও আমি মাকে মুখ ফুটে বলতে পারিনা '' মা- আমি যে তোকে সান্ত্বনা দিতে জানিনা - তুই কাঁদলে আমার অ-দ্বিতীয় হৃদয়ে ২বার কষ্ট হয় '' । তাই ছেড়ে দেই দায়ভার সব তার হাতে - যে অশ্রু বলতে যানে।