শৈশবের গন্ধ মাখা দিনগুলি
চোখ বন্ধ করলেই যেন পাই;
কচুরীপানার পার্পল পার্পল ফুল
হাঁটু পানিতে নেমে ছিঁড়ে ছিঁড়ে.
হাতের মুঠোয় করেছি কত!!

কাদায় মাখামাখি আর পার্পল বেগুনি ফুল
হাতে নিয়ে সে কি উল্লাস ছিল ।
কচুরীপানার ফুলের মায়ায় যেন!
এখনো জড়িয়ে আছি বেগুনী রঙের মতো ।

জারুল গাছের ফুলগুলোও তো ছিল বেগুনী
জারুল ফুল দেখলে থমকে দাঁড়াই এখনো!
কি যে সুন্দর একটা রং প্রভু তুমি করেছ সৃজন ।
বেগুনী মায়ায় জড়ানো আমার পার্পল শৈশব ।

অদ্ভূত ছোটাছুটি সারা বাড়িময়
ভেজা থাকত দিনভর হাঁটুতক ।
পাখির বাচ্চা চিউ চিউ করে কোথায় যেন
ছুটে গেছি সেথায়; উঠেছি গাছ বেয়ে কত!
পাখি পালা অভ্যাসে ধরে গিয়েছিল;
অদ্ভুত ভালা লাগা এখনো কাকলী কুহু কুজন ।
ভ্রমরার গুঞ্জন আর কলকাকলী ভরা আমার পাখপাখালি শৈশব ।

তেতুল গাছে ঢিল; তেঁতুল চুরি
আহ! কি স্বাদ জিহ্বায় লেগে আছে যেন আজো,
অদম্য ছোটাছুটি বনে বাঁদারে
কাঠবিড়ালীর পিছন পিছন ছুট ...
বিকেলের সোনালী আলোয় দৌঁড়ঝাপ ।

আঁখখেতে মড় মড় করে সবে মিলে
চুরি করে খাওয়া; সে যেন অমৃত এক
ডুব সাঁতারে পুকুর পার হওয়ার প্রতিযোগিতায় মত্ত
চোখ লাল করে ঘরে ফেরা; সে ছিল দৈনিক রুটিন,
উপেক্ষায় ছিল যতই হতো রৌদ্দুরের তাপ ।
টক টক মিষ্টি মিষ্টি ভরা আমার ডুব সাঁতার শৈশব ।
নীল ফড়িং লাল ফড়িং হলুদ ফড়িং
লেজে সুতা বেঁধে দিতাম ছেড়ে !
পিছন পিছন ছুট ছুট
আহা! হাত হতে সুতা গেল উড়ে,
উড়ু উড়ু উড়ু ফড়িং দেয় ছুট
নীল আকাশে নেয় ঠাঁই ।

জোছনা ভরা রাত্তিরে ভাই বোনে মিলে
খেলাখেলি...কানামাছি, গোল্লাছুট আর বউছি,
এলোমেলো বায়ে প্রাণ খুলে নি:শ্বাস যেন
এখনো আছে নাকে লেগে ;
আহ! সেই শৈশব যদি ফিরে পাই?
নীল লাল হলুদ, জোছনায় আঁকা স্বপ্ন ;
যেন ছিল আমার ফড়িং শৈশব
বগলে বই নিয়ে ছুট স্কুল পানে
মিলে মিশে দুষ্টের দল......
শীতকালের সেই শিশিরমাখা ভোর
দুর্বায় আটকে থাকা শিশিরে খালি পায়ে হাঁটা
শিউলী ফুলের মাদকতায় মত্ত আমি যেন;
সেই ঘ্রান পাই আজও ।

শিউলীর মালা গেঁথেছি রোজ;
আলতো ছুঁয়ে ভেজা মাটিতে
আঁকিবুঁকি; নিজের নামটি লিখে রাখি ফুল দিয়ে ।
হলুদ সুনারু ফুলের ঝুমকো টেনে হিঁছড়ে নিচে নামিয়ে
হাতে নিয়ে ছুট ।
আমগাছের সেই আগাছা অর্কিডগুলো,
কি সুন্দর থোকায় থোকায় ফুটে থাকতো
অপূর্ব রঙ্গের অর্কিডগুলো যেন
চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই আজও ।
শিশিরমাখা ভোর, শিউলী ফুলের ঘ্রান আর
যেন অর্কিডের মতই আমার শৈশব ।

আমার শৈশব আমি ধরে রেখেছি
রাখতে পেরেছি,
এখনো খালি পায়ে হাঁটি ভোরের শিশিরে
বন বাঁদার থেকে তুলে আনি বুনো ফুল,
ফড়িং ধরতে ছুটে যাই আনমনে,
এখনো আমি অবাক চোখে আকাশ দেখি
পাখির কলকাকলী শুনতে কাক ডাকা ভোরে,
মেটো পথ ধরে একা একা হাঁটি,
ঘ্রান নেই ভেজা মাটির;
ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই শিশির ভেজা সবুজাব
স্নিগ্ধ কিশলয়......
আমার শৈশব হারাতে দিব না, অনুভবের স্পর্শে ছোঁবো আমার শৈশব,
আমি আর আমার শৈশব নিয়ে থাকব
অনন্তকাল ধরে......।