মুর্হুমুহু গুলির শব্দে তখন কী পাখিরাও লুকিয়েছিলো পাতার আড়ালে
বিজয়ের ধ্বনি শুনে পাখিরাও কী করেছিলো উল্লাস?
শুনিনি স্টেনগানের আওয়াজ, দেখিনি সেই ভয়াবহ দিন
দেখিনি মা ভাই বোন বাবা কে কাকে হারালে!
লিখে যেতে চাই অজানা সেই দিনগুলো, যেখানে কেবল ভয় শিহরণ
শিশিরের টুপটাপ শব্দেও কেঁপে উঠতো কারো কারো মন;
ইতিহাস বলে দিলো আমায়, কত লাশ ভেসেছিলো জলের ভেলায়
কাশবনে কংকালের হাঁট, কত মানুষ পঁচে গলে গেলো, কত অবহেলায়।
কুকুর শকুন খেয়েছিলো মানুষের মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে
কত মায়ের বুক করে দিয়ে খালি, পাক হানাদার শুয়েছিলো শান্তিতে নীড়ে
কত ভাই হারিয়েছিলো বোন, কত মেয়ে হারিয়েছিলো মান সম্ভ্রম
ধুলোয় জমাট বাঁধা রক্ত, সবুজের বুকে লাল আভা, আহা সেকি বিভ্রম।
আহা সেই বীরেদের কাহিনী, লিখে যেতে চাই আবারও কবিতার খাতায়
রন্ধ্রে রন্ধ্রে বদলা নেয়ার হোলি, আগুন আগুন রক্তে শিরা উপশিরায়
সেদিনও কী শিশির সুরেরা সুর ঝংকারে ঝরেছিলো পাতায় পাতায়?
কেড়ে নিতে বাংলার স্বাধীনতা, আচানক এখানেই এসে নাও ভিড়ায়।
বিজয় ছিনিয়ে আনার মানসে অঙ্গীকারবদ্ধ আমাদের বীরের দল
অস্ফুট মিছিলে কেবল বিজয় ছিনিয়ে আনার গান,
"একটি ফুলকে বাঁবাবো বলে যুদ্ধ করি"
ওরা ভেবেই নিয়েছিলো ওরা সরবে না, যাবে না, ওরা জগদ্দল
রক্তের বন্যায় ভেসেছিলো সেদিন দেশ, আমাদের সাজানো বাগান;
একটাই কথা, একটাই অঙ্গীকার, দেশ আমাদের
বিজয় আনবোই, বিজয় আসবেই, একতায় এবার চলো দেশ গড়ি।
প্রতিবাদের মিছিলে সয়লাব দেশ, বেজে উঠে বিজয়ের দামামা
ছেলে হারা মা'ও উঠে দাঁড়ালো লাল সবুজ পতাকার নিচে, হাতে নিয়ে
ছেলের রক্ত ভেজা জামা
সব হারানোর ব্যথা ভুলে মানুষ বিজয়ের গান গেয়ে উঠেছিলো সমস্বরে
না ওরা পারেনি নিতে আমাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে;
বিজয়ের আনন্দ আজও মহাসমারোহে পালিত হয় বাঙলার ঘরে ঘরে।
বিজয়ের ধ্বনি বাজে হাওয়ায় পাতায় পাতায় আহা মোহনীয় সুর
লিখবো আজ উন্মাদনায় শব্দে শব্দে বিজয়ের গান
বুলেটের আঘাতে কী করে ধরাশায়ী হয়েছিলো অসুর
লিখবো স্বাধীনতার কথা, বিজয়ের কথা,
আহা সেকি শক্ত ছিলো মাটির টান।