১।

ঝমঝমিয়ে হঠাৎ করে, নামলো সুখের বৃষ্টি,
বৃষ্টি ভেজা এমন রাতি, আহা লাগে মিষ্টি।
ঝড়ের বেগে গাছগুলো ঐ, রাখলো মাথা নুয়ে
ইচ্ছে লাগে বৃষ্টির ফোঁটা, দেখি একটু ছুঁয়ে!

হুড়মুড়িয়ে বইছে তুফান, সাথে ঝড়ো হাওয়া,
বৃষ্টির ছাটে গেলো ভিজে, দখিনমুখি দাওয়া!
বিজলি চমকায়, আকাশ ধমকায়, ভয় লাগে খুব বুকে
নৃত্য করছে পাতারা সব, অল্প ঝুঁকে ঝুঁকে।

ভেজা রাতের আকাশ জুড়ে, ঝলমলানো আলো,
বৃষ্টি ভেজা প্রহর আমার, লাগে বড় ভালো!
ও বৃষ্টিরে যাস না থেমে, রাত্রি ভরে ঝরিস
চোখের পাতায় আরাম দিনের, স্বপ্ন ঘুমও গড়িস।

২/
চুপচাপ ঝুপঝাপ বৃষ্টিরা তুলছে তুমুল নৃত্য,
আলগোছে জানালা ফাঁক করলেই ধুধু হাওয়া,
উড়িয়ে নিয়ে যায় চুল, এক সমুদ্দুর প্রশান্তি বুকে নেয় ঠাঁই,
ঝরুক বৃষ্টি আজ অঝোরে, ডুবে যাক মন শহর,
দীর্ঘশ্বাসের ঢেউগুলো ডুবিয়ে দেবো বৃষ্টির জলে।

আচ্ছা.…..জানতে চাচ্ছিলাম
তোমার শহরেও কী আজ অঝোর বর্ষা?
বৃষ্টি রুমুঝুমু শব্দের তালে তোমারও কী মন
দুলে উঠে সুখ শিহরণে?
ভালো লাগায় অস্থির মন তোমার,
চাইছো কী বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁয়ে দিতে?
না কী ঘুমিয়ে আছো আরামে কাঁথা মুড়িয়ে?
বৃষ্টির শব্দ কী কানে পৌঁছোয়নি তোমার?
হাওয়ার ঝাপটায় তালে তালে পাতাদের নাচন,
এসব দেখে তোমারও কী ছন্দ লিখতে ইচ্ছে হয় না?
ঠিক আমার মত!
দুচোখে বৃষ্টি ঝরিয়ে কাছে থেকেও দূরের তুমি!

আমাকে শিরোনামে রেখে তোমার কী
ইচ্ছে করে না এক দীর্ঘ কবিতা লিখতে?
অথচ দেখো বৃষ্টি এলেই আমি কবিতার খাতা খুলে বসি,
শব্দে শব্দে তুমিময় বাক্য,
চরণে চরণে ঝরে পরে কখনো দীর্ঘশ্বাস
কখনো বিরহ, কখনো বিষাদ, কখনো বা বিষণ্ণতা
অথবা সুখ সুর অনুরণন!
পাতার পর পাতা লিখে ফেলি যতক্ষণ না বৃষ্টি থেমে যায়,
আর তুমি স্বপ্নঘুমে কাতর, ভাবোই না আর আমাকে!