স্বাধীনতার স্বাদ

স্বাধীনতা সংখ্যা

গীতু
  • ২০
  • ৭৫২
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মত অফিসে যাবার জন্য তৈরি হল মুক্তি। মার তড়িৎ গতিতে হাত চলছে। কারণ অফিসে যাবার আগে তার দুপুরের খাবার দেয়া নৈতিক দায়িত্ব তার কাছে। ভাত, মাছের ঝোল টিফিন বঙ্ এনিয়ে বোতলটা ভরিয়ে দে দৌড়। এটাই যে গত একমাসের চিত্র মুক্তির জীবনে। অফিসে গিয়ে নিজের চেয়ার-টেবিলে বসে কাজগুলো গুছিয়ে নিল। মনে মনে সময়টাও ভাগ করছে চটপট। এমন সময় পিছনে কেউ আলতো করে মাথায় টোকা দিল। পেছন ঘুরে দেখে শানতা। ওকে ইশারায় বলে আজ মালপানি জুটবে। মনটা আনন্দে নেচে উঠল। আজকের দিনটা একমাসের মাঝে অন্যরকম হয়ে গেল।

খামটা হাতে নিয়ে বিকালে অফিস থেকে বের হয়ে মুক্তি প্রথমেই মার্কেট গেল। মার্কেটে গিয়ে প্রথমেই নিজের পছন্দের একটা শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, বডি সপ্রে কিনল। এরপর মার জন্য একটা চুলের কাঁটা, বোনের জন্য দামী কালার বঙ্, বাবার জন্য কি কিনবে ভাবতে গিয়ে মনে হল একটা কুষ্টিয়ার গামছা। ব্যস্! কেনাকাটা শেষ। এবার বাড়ি ফিরে আসতে আসতে খরচের হিসাবটা করতে লাগল। চোখের নিমিষে হাজার টাকার উপর খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু সে খেয়াল করে দেখল, কই তার তো কোন কষ্ট লাগছে না! মনের মধ্যে কচ্কচ্ করছে না। মনের মাঝে অন্যরকম এক তৃপ্তি কাজ করছে। যা আগে করত না। এটাই কি স্বাধীনতা! নিজের অর্থ নিজের মত করে খরচ করা। যার জন্য অন্যের কাছে জবাবদিহি থাকে না।

আজ ছুটি। মুক্তি নিজের কিছু কাজ নিয়ে সকাল থেকে ঘরের পেছনে লেগেছে। ঘর-কাপড় সব পরিস্কার করে নিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে বিছানায় বসতেই হুট করে শর্মি এসে হাজির।
_ উঠ্, উঠ্ একটু ঝযড়ঢ়রহম-এ যাব চল্।
_ আরে কি কিনবি ?
_ এই কিছু টুকটাক জিনিস।
_ ঠিক আছে চল্।
ঝযড়ঢ়রহম করে ওরা একটা ঋধংঃ ঋড়ড়ফ-এ ঢুকলো কফি খেতে। দু'জনে গল্প করছে। ওপারের টেবিলে ও একটা মেয়েকে দেখতে পেল। বেশ চেনাচেনা লাগছে। কিন্তু তবু একটা খট্কা। ওরা দু'জনে গল্প করছে। হঠাৎ সেই মেয়েটি এসে বলল _ আচ্ছা তুমি কি মুক্তি?
_হঁ্যা।
_ চিনতে পারছ?
_আসলে চেনাচেনা লাগছে। কিন্তু ...
_ আমি শাম্মি। কলেজে একসাথে পড়তাম। মুমুদের সাথে।
_ ওহ্। হঁ্যা হঁ্যা।
_ কেমন আছ ?
_ ভাল। তুমি ? আসলে তোমার ঋধপব অনেক পাল্টে গেছে। মোটা হয়েছ, চুল ছোট করেছ। মোটা চশমাটা নেই?
_ লেন্স ব্যবহার করি।
_ বস্ এখানে।
_ না না। বরং তোমরা চল আমাদের টেবিলে। ও ওখানে ধিরঃ করছে তো। আমি ওর টেবিলের দিকে লক্ষ্য করে দেখলাম বেশ লম্বা, ফরসা একটা সুপুরুষ বসে আছে। বলল ওর নাম ইউসূফ। সে পাকিসতানি। এখানে একটা ওহঃবৎহধঃরড়হধষ কোম্পানিতে লড়ন করছে। তাই বাংলাদেশে থাকতে হয়। এখানে থাকতেই শাম্মির সাথে পরিচয়, তারপর ভাললাগা _ ভালবাসা। অবশেষে ভালবেসে বিয়ের সিদ্ধানত। দু'জনের ভাষা আলাদা কিন্তু শানতা হিন্দী ভাষা দিয়ে কথা বলে। ইউসূফ একটু একটু বাংলা শিখেছে। বলতে পারে না-বুঝতে পাওে কিছু কিছু। মুক্তি হিন্দী- ইংরেজী মিশিয়ে আলাপ শুরু করল। কথায় কথায় দুই দেশের পরিবার, পরিবেশ, সমাজ নিয়ে কথা উঠল। সেই কথার মাঝে সে জানতে পারল যে বাংলাদেশে এভাবে মেয়েদের স্বাধীন চলাচল তার কাছে বেশ অবাক লেগেছে। এভাবে নিজেদের প্রয়োজনে একাই বাহিরে বের হওয়া, বাজার করা, বন্ধু-বান্ধব মিলে আড্ডা দেয়া যা _ নাকি তার মনে হয় মুসলিম দেশে অসম্ভব। মুক্তি _ শর্মি দু'জনেই অবাক হয়। ইউসূফ একজন প্রকৌশলী। তার নিজের বোনও প্রকৌশলী। সে পাকিসতানেই চাকুরি করে। কিন্তু কোন প্রয়োজনে বাহিরে গেলে তার সাথে কোন না কোন ভাই বা মা সাথে থাকে।

মুক্তি অবাক হয়ে ভাবে শহরে বসবাস করা শিক্ষিত পরিবারের মেয়েদের যদি এভাবে চলতে হয় তবে পত্রিকায় দেখা সেই দেশে ফতোয়ার নামে নির্যাতিত মেয়েদের যে ভয়াল অবস্থা ফুটে উঠে তা বাসতবে কতটা নির্মম তা অনুভব করা যায়।

সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে তাই মুক্তি ও শর্মি ওদের কাছে বিদায় নিয়ে বাহিরে আসে। মনে মনে ভাবে ুআমরা নারীরা এদেশে সমঅধিকার এখনও পাইনি, পাইনি সমমর্যাদা। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা এক হলেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাকে সসম্মানে স্বীকার করতে দ্বিধা বোধ করে। এখনও ফতোয়ার নামে চলে প্রহসন। কিন্তু এতকিছুর পরও কিছুতো আছে যা দিয়েছে আমাদের স্বাধীনতার স্বাদ। আমাদের জন্য এই একটি চাকুরি, পরিশ্রমের অর্থ প্রয়োজনে খরচ, একটু বাহিরের মুক্ত হাওয়ায় ঘোরা। ব্যাস্ মেয়েদের জন্য এই সমাজ একেই স্বাধীনতা নাম দিয়েছে। আর আমার মতই অন্য মেয়েরা হয়ত ইউসূফের কাছে এই কথাগুলো শুনে ভাববে- যাক্ বাংলাদেশে ওর চেয়ে তো স্বাধীনভাবে বেঁচে আছি। এটাই আমাদের নারী হিসাবে জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি পিতা-স্বামী-পুত্র রূপে কোন না কোন পুরুষের অধীনে থেকে স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করা ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
বিন আরফান. ভোট দেব কোথায় ওটাতো নাই. হা-হা-হা.
বিষণ্ন সুমন সমসামিক একটা গল্প. পরে ভালো লাগলো. আমার লিখাগুলু পরবার আমন্ত্রণ থাকলো.
গীতু Thanks tuhin.Do u vote me?Vote fr me plz
গীতু Thanks to all who coments nd vote me.
রংধনু লেখায় একটা অন্য /ভিন্ন ধারা আছে...
মোঃ মুস্তাগীর রহমান নারী স্বাধীনতা বাংলাদেশের নারীরা একটু বেশীই পাচ্ছে...................।লেখা ভাল............শুভকামনা রইলো ১ মার্চ
বিন আরফান. ভোট অনেক আগেই দিয়েছি, আবার-ও দেখতে আসলাম তোমার আগমনে. আমার বঙ্গলিপি পরার আমন্ত্রণ.
গীতু @ namhen..I agree it..
নামহীন পরিবার কিংবা সমাজের পুরষদের সার্বিক সহায়তা প্রকৃত অর্থে নারীদের মুক্তি দিতে পারে। আর তার আগে কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে মুক্ত হতে হবে মানুষকে...

২৪ ফেব্রুয়ারী - ২০১১ গল্প/কবিতা: ১ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "কষ্ট”
কবিতার বিষয় "কষ্ট”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুন,২০২১