নিঃশব্দের নাম

বাবা (জুন ২০২৬)

শাহীন আল মামুন
  • 0
  • 0
  • 0
বাবা—শব্দটা ছোট, কিন্তু তার ভেতরে কী এক বিশাল শূন্যতা লুকানো থাকে, তা আমি ছোটবেলা থেকেই টের পেতাম। স্কুলের খাতায় যখন নিজের নাম লিখতাম, তখন তার পাশে থাকা “পিতার নাম” অংশটা যেন আমাকে চুপ করে দাঁড় করিয়ে দিত।

আমার বাবা ছিলেন জীবিত, তবু আমার জীবনে তিনি ছিলেন অনুপস্থিত—এ কথাটা আমি প্রথম বুঝিনি, ধীরে ধীরে শিখেছি। মানুষের উপস্থিতি শুধু চোখে দেখা যায় না, তা ছায়ার মতো পাশে থাকার ভেতরেও থাকে। কিন্তু আমার জীবনে সেই ছায়া কখনো নামেনি।

মা ছিলেন আমার পৃথিবীর একমাত্র আলো। তিনি ছিলেন সকাল, তিনি ছিলেন সন্ধ্যা, তিনি ছিলেন আমার সব প্রশ্নের একমাত্র উত্তর। সংসারের প্রতিটি দায় তিনি এমনভাবে কাঁধে নিয়েছিলেন, যেন কোনো অভিযোগ তাঁর অভিধানে নেই। তবু রাতে যখন আমি ঘুমাতাম, আমি শুনতাম তাঁর নীরব দীর্ঘশ্বাস—যা শব্দ হয়ে উঠতে চাইত না।

পাড়ার মানুষ, আত্মীয়স্বজন—সবাই একদিন না একদিন প্রশ্ন করেছে, “তোমার বাবা কোথায়?”

আমি তখন তাকাতাম মায়ের দিকে। মা কখনো উত্তর দিতেন না, শুধু চোখ নামিয়ে নিতেন। সেই নীরবতাই হয়ে উঠত আমার সবচেয়ে কঠিন উত্তর।

সময় এগিয়েছে। আমি বড় হয়েছি। বুঝতে শিখেছি—সব অনুপস্থিতি কেবল হারিয়ে যাওয়া নয়, কিছু অনুপস্থিতি মানুষকে গড়ে তোলে, আবার ভেঙেও দেয়। আমার ভেতরে যে শূন্যতা ছিল, তা ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতার রূপ নিয়েছে।

একদিন মায়ের পাশে বসে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম,
“মা, বাবা কি আমাদের কথা কখনো মনে করেন না?”

মা দীর্ঘক্ষণ চুপ ছিলেন। জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলেন তিনি, যেন দূরে কোথাও অতীত হাঁটছে।

তারপর খুব ধীরে বললেন,
“মানুষ কখনো কখনো দায়িত্ব এড়িয়ে যায়, কিন্তু তার ছায়া থেকে যায় অন্য কারও জীবনে।”

আমি আর কিছু বলিনি। কারণ তখন আমি বুঝে গিয়েছিলাম—সব প্রশ্নের উত্তর শব্দে আসে না।

আজ আমি জানি, বাবা মানে শুধু একজন মানুষ নয়। তিনি কখনো স্মৃতি, কখনো অভাব, আবার কখনো এক অদৃশ্য শিক্ষাও। আমার জীবনে সেই শিক্ষাটা এসেছে অনুপস্থিতির ভেতর দিয়ে।

আর এখন যখন কেউ প্রশ্ন করে, আমি আর থমকে যাই না। কারণ আমি শিখেছি—জীবনের সব গল্পে উপস্থিতি সমানভাবে লেখা থাকে না, তবু গল্প থেমে থাকে না।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

একজন সন্তানের জীবনে বাবার উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবে তিনি অনুপস্থিত। এই অনুপস্থিতি তাকে ছোটবেলা থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও মানসিকভাবে অস্থির করে তোলে। “বাবা কোথায়?”—এই প্রশ্ন তার পরিচয়ের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে তার মা সংসারের সব দায়িত্ব একাই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে তাকে বড় করে তোলেন। বাবার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও মা তাকে ভালোবাসা ও শক্তির মাধ্যমে গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে সন্তান বুঝতে শেখে যে জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর সবসময় পাওয়া যায় না, কিন্তু অনুপস্থিতির ভেতর দিয়েও মানুষ শক্ত হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত সে শূন্যতাকে মেনে নিয়ে জীবনের বাস্তবতা ও দায়িত্বকে গ্রহণ করে।

১২ মার্চ - ২০২৬ গল্প/কবিতা: ৫ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বিশালতা”
কবিতার বিষয় "বিশালতা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুন,২০২৬