রক্তে ভেজা বর্ণমালা, শ্মশান-জাগা গান,
একাত্তরের মেঘনা-পদ্মা, জীবন-বাজি প্রাণ।
যে ভাষার তরে বায়ান্নতে রাজপথ হলো লাল,
সেই ভাষারই শপথ নিয়ে কাটল জঠর-কাল।
পঁচিশের ঐ কালরাত্রিতে যখন নামল যম,
বাঙালি তখন জ্বলে উঠল—তীব্র, নিরুপম।
অস্ত্রে নয়, মন্ত্রে ছিল মুখের বুলি জয়,
মা হারাল পুত্র তাহার, বোন হারাল সতী,
ত্রিশ লক্ষ শহীদান আজ বাংলার আরতি।
গ্রামের ধূলায়, বনের ছায়ায়, গেরিলার ঐ বেশ,
মায়ের ভাষায় ডাক দিল যে—"মুক্ত বাংলাদেশ।"
উর্দুর ঐ শিকল ছিঁড়ে বাংলা পেল ঘর,
মায়ের ভাষায় কথা বলে আজ বীরের চরাচর।
অক্ষরগুলো অস্ত্র হয়ে বিঁধল শত্রুর বুকে,
বিজয় নিশান উড়ল শেষে রক্ত-রাঙা মুখে।
এই মাটি নয় কেবল মাটি, এই মাটি এক কায়া,
হাজার বছরের বাংলা ভাষার শীতল নিবিড় ছায়া।
যতদিন রবে চন্দ্র-সূর্য, রবে বীরের গাথা,
ততদিন রবে উচ্চশিরে বাঙালির এই মাথা।
একাত্তর মানে ভাষার মুক্তি, একাত্তর মানে দেশ,
একটি অমর কবিতা যার নেইকো কোনো শেষ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
আমার এই কবিতাটিতে মাতৃভাষা কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি বাঙালির স্বাধীনতার মূল বীজ হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের রক্তদানই যে একাত্তরের সশস্ত্র সংগ্রামের প্রধান প্রেরণা ছিল, পঙ্ক্তিগুলোতে সেই ঐতিহাসিক সত্যটিই ফুটে উঠেছে। এখানে 'বর্ণমালা' আর 'অস্ত্র' একীভূত হয়ে গেছে, যা দেশপ্রেমের এক অনন্য উচ্চতা তৈরি করে। ভাষার অবমাননা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই শেষ পর্যন্ত একটি স্বাধীন মানচিত্রের জন্ম দিয়েছে। অর্থাৎ, মাতৃভাষা ও মুক্তিযুদ্ধ এখানে একে অপরের পরিপূরক এবং অবিচ্ছেদ্য সত্তা।
এস এফ শামীম হাসান
৩১ মে - ২০২৫
গল্প/কবিতা:
১০ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
প্রতি মাসেই পুরস্কার
বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।
লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন
প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার
প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার
প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।