ফেরার চিঠি

মুক্তিযুদ্ধ (ডিসেম্বর ২০২৫)

মেহেদী মারুফ
  • ১২৭
যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আমার দায়িত্ব পড়ে গেলো সাউথ এরিয়ার অঞ্চলে। যতগুলো জোন আছে, সবজায়গার লাশগুলো গণকবর দিতে হবে ২ দিনের মধ্যেই। আমি আর্ম ফোর্স ডিস্ট্রিবিউশন করে বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে দিলাম। সাথে আমিও একটা জোনে সরাসরি উপস্থিত হলাম। লাশের দুর্গন্ধে কোন এলাকায় দাড়ানো যাচ্ছে না। অথচ এদের অনেকেই বেঁচে থাকতে দেশের জন্য লড়ে গেছে।

গাড়ি থামিয়ে মুখে মাস্ক পরে একহাতে রুমাল চেপে জায়গার অবস্থা বুঝে নিলাম। গন্ধে মনে হচ্ছে এখনই বমি চলে আসবে। একটা গ্রুপ মাটি খননের কাজে লেগে গেলো। বাকি একটা গ্রুপ লাশগুলো সংগ্রহ করছে।
লাশ সংগ্রহের দিকটায় আমি এগিয়ে গেলাম। বেশিরভাগ লাশই মনে হচ্ছে তিন থেকে চার দিন আগেই মারা গেছে। আর কিছু আছে, যেগুলোতে মাংসের অস্তিত্ব নেই।

আরেকটু দূরে দেখতে পেলাম একটা শুকনো কংকাল। কিন্তু গায়ের শার্টটা অক্ষত আছে। প্যান্টের কিছু জায়গায় ছেড়া আর রক্তাক্ত। ফরেনসিকের আবিদকে ডাক দিয়ে বললাম, " অনুমান করে দেখো তো। এটা কতদিন আগের লাশ?"
--"স্যার, আমার মনে হচ্ছে এটা আরও দুই মাস আগে মারা গেছে। লাশে কোন গন্ধ নেই। হাড়গুলো শুকিয়ে গেছে। হাত দিলেই জয়েন্ট থেকে খুলে যাবে।"

ও লাশের পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে বললো, "এই দেখুন স্যার একটা কাগজ। ভাঁজ করা।"
--"আচ্ছা, তুমি যাওয়ার সময় সায়েমকে বলো এখান থেকে লাশটা নিয়ে যেতে।" বাকিদেরকে কাজে রেখে আমি আরেকটু এগিয়ে গেলাম। পাশে স্রোত বহমান একটা নদী। ঘাটে নৌকা ভিড়ানো, কিন্তু লোক নেই। হয়তো পালিয়েছে নয়তো লাশের ভিড়ের মধ্যে পড়ে আছে।

আমি নৌকায় বসে কাগজের ভাঁজটা খুললাম। একটা চিঠি! ছোট ছোট অক্ষর বেশ গুছিয়ে লেখা। আমি পড়তে শুরু করলাম।



প্রাণপ্রিয় স্বামী,

দীর্ঘদিন হয়ে গেলো আপনার কোন খোঁজ খবর পাচ্ছি না। সেই যে মাস তিন আগে বাড়ি থেকে ঘুরে গেলেন। আর তো কোন চিঠিপত্রও দিলেন না। সারাদিন কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে গেছেন যে বাড়ির মানুষের খোঁজ নেওয়ার সময়টুকু হয়না আপনার?

শুনলাম, আপনাদের এলাকায় নাকি মিলিটারি বাহিনী গিয়ে অনেক মানুষ মেরে ফেলেছে? আপনি ঠিক আছেন তো? দোহাই আপনার, আপনি বাড়িতে চলে আসেন। আপনার ছোট মেয়েটা সারাদিন আব্বা আব্বা করে। আমার মন স্থির রাখতে পারি না একদম। সবসময় খালি আনচান করে। যত দ্রুত সম্ভব চলে আসেন। আপনার অপেক্ষায় পথপানে চেয়ে রইলাম।

ইতি আপনার ভালোবাসার স্ত্রী সায়মা।
নফরডাঙা, ইধিপুর।

আমার জানা মতে নফরডাঙাতে আমার স্ত্রীর বড় বোনের শশুরবাড়ি। তার নামও সায়মা। দীর্ঘদিন তার স্বামীর কোন খোঁজ খবর নেই। আর দুলাভাইও শুনেছি এই এলাকাতেই একটা ছোট কোম্পানিতে চাকরি করে। তবে কি ইনিই সেই..!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
মোঃ মাইদুল সরকার ছোট পরিসরে হলেও গল্পটার আলাদা একটা গভীরতা আছে।
ধন্যবাদ মাইদুল ভাই। বরাবরের মতো আপনার লেখাটাও অনেক ভালো ছিলো। শুভ কামনা! ✋
ফয়জুল মহী অপূর্ব মননশীল ভাবনার নিখুঁত বাস্তবায়ন কবির কলম ভাবনার প্রকাশ করেছেন লেখায় সমৃদ্ধ হলাম পাঠে শুভেচ্ছা সহ শুভকামনা অবিরত ✍️????
কৃতজ্ঞতা জানিবেন প্রিয় কবি ভাই ফয়জুল মহী। আপনার অনুপ্রেরণা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে আশা যোগায়। ❤️
মাহাবুব হাসান ছোট্ট লেখায় একটা সুন্দর টুইস্ট আছে। সব মিলিয়ে আকর্ষণীয় লেখা। কিন্তু আপনার কাছ থেকে বড় বড় লেখা পেয়ে হঠাৎ ছোট লেখায় ঠিক মন ভরল না যেন!
ধন্যবাদ মাহাবুব ভাই গল্পটা পড়ে আপনার মন্তব্য প্রকাশ করার জন্য। অনেক বিষয় থাকে, যে বিষয়গুলো খুব বেশি বড় হয়ে গেলে পাঠকের মনোযোগ হারিয়ে যায় (ব্যক্তিগত অভিমত)। তাই অল্প কথায় যুদ্ধ শেষের একটা পরিস্থিতির কাহিনী দিয়েই গল্পটা লিখলাম। একটা সময় যখন ক্লাস ফাইভ সিক্সে পড়তাম। তখন বিটিভিতে যুদ্ধের সিনেমা হলে আর দেখতে মন চাইতো না। মনে হতো পুরো সপ্তাহটাই নষ্ট হলো। কিন্তু এখন সেই যুদ্ধের মর্মটা বুঝতে পারি। কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় একটা যুদ্ধে। কত মানুষ তার পরিবার হারায়। এবং সেই সাথে যারা দেশের স্বার্থে যুদ্ধ করেছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা চলে আসে।
সাদিয়া আক্তার রিমি সত্যি খুব সুন্দর হয়েছে গল্পটা। আমন্ত্রণ রইলো আমার লেখাতে ????????
ধন্যবাদ সাদিয়া আক্তার রিমি গল্পটা পড়ে আপনার মতামত ব্যক্ত করার জন্য। নিশ্চয়ই আপনার লেখাটাও পড়বো।

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

অনুগল্পটা একজন আর্মি অফিসারের হয়ে লেখা। যিনি যুদ্ধ শেষে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাশগুলো গণকবর দেওয়ার দায়িত্ব পান। একসময় একটা লাশের বুক পকেটে থাকা চিঠি পড়ে বুঝতে পারেন লাশটা তার নিকট আত্মীয়ের। যিনি মুক্তিযুদ্ধে অনেক শহীদ হয়ে যাওয়া মানুষদের মধ্যে একজন।

১১ মে - ২০২৫ গল্প/কবিতা: ১২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "মাতৃভাষা”
কবিতার বিষয় "মাতৃভাষা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জানুয়ারী,২০২৬