আজ আমার বিয়ে, তুমি কাঁদছ কেন মা?
বল, বিদায়ের বেলা দেউরীর পাশে গিয়ে দাঁড়াবে,
আমায় পালকিতে তুলে দিয়ে পথের দিকে তাকিয়ে রবে।
মা তোমার চোখে জল! মা তুমি কাঁদছ কেন?
আজ আমার বিয়ে মা, এ ঘটনা নয় যেন-তেন,
আজ তা খুশি হবার কথা, তোমার চোখে জল কেন মা?

আজ আমার বিয়ের দিনে সবাই কাঁদছে কেন মা?
আজ আমি লাল শাড়িটা পরব মা, তুমি বাধা দিবে না।
মা শোন, আজ আমায় গয়না পরাবে, কোথাও খালি রাখবে না।
খালি রাখল ওরা কি বলবে মা! বলবে দেখ কেমন বউ,
হাত খালি, গলা খালি, এভাবে শশুর বাড়ি আসে কেউ?
ওরা যদি এসব বলে, আমি তোমায় ধরব, বলে দিলাম মা।

মা, ও মা, আমায় স্নান করাব কখন গো মা?
আজ আমায় হলুদ-চন্দন মেখে স্নান করাবে,
স্নান করিয়ে মা, লাল শাড়িটা পরাবে, কপালে সিঁদুর দেবে,
আজ তোমার মেয়ে শিবকে পেয়েছে গো মা, শিবকে পেয়েছে।
একসাথে থেকে সবাইকে ফাঁকি দিয়েছে, সবাইকে হারিয়েছে।
মা, তুমি কাঁদছ কেন মা? আজ তোমার মেয়ের বিয়ে মা।

ঐ যে দেখ মা, আমার লম্বা পালকিটা এসে গেছে মা,
ঐ লম্বা পালকিতে সাদা চাদর পেতে আমাকে শোয়াবে।
বল মা, পালকির চারদিকে ফুলে ফুলে ভরিয়ে দেবে।
ঐ দেখ মা, বাবা কাঁদছে, ভাই কাঁদছে, কাঁদলে হবে না,
পালকির হাতলে ওরা না ধরলে আমার যাত্রা হবে না।
ওরা ধরলেই যাত্রা উঠবে, বাপের বাড়ি থেকে শেষ যাত্রা মা।

ওদের বেশি কষ্ট দেব না, বেশি দূরে যেতে হবে না মা
ঐ যে দেখ শশান ঘাট দেখা যাচ্ছে মা, ওখানটায় যাবে,
আমার জন্য আমের কাঠ সাজিয়ে রেখেছে মা, ওতে শোয়াবে।
আমার মুখাগ্নি কে করবে গো মা? বাবা, না আমার ভাই?
এক জনকে তো করতেই হবে মা, আমার আর তো কেউ নাই।
সবাইকে কাঁদতে মানা কর, আজ তোমার মেয়ের বিয়ে, বিয়ে মা।