মাঝে মাঝে মনে হয়
আমি রাজাকার হয়ে যাই।
রাজাকারদের সাথে ভাব জমিয়ে
তাদের রক্ত-মাংস, হাড়-মজ্জায় মিশে যাই।
যারা দেশে স্বাধীনতার বিরোধী শত্রু
যারা সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে
সহায় সম্বলহীন করে ছুড়েছিল নর্দমায়
যারা দেশ ও জনগণের অভিশাপ।
তাদের রক্তে মিশে গিয়ে
তাদেরই রক্তে ধুয়ে ফেলি দেশের ইতিহাস।
মুছে ফেলতে ইচ্ছে করে
কলঙ্কিত এক অধ্যায়।
আবার মনে হয়,
আমি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাই।
বেছে বেছে বের করি সেইসব যোদ্ধাদের
যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিল।
কেড়ে নিয়েছিল নীরিহ মানুষের জান মাল।
স্বপ্ন দেখেছিল ধনী হবার এবং
স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়েছিল নির্মমভাবে।
যারা অস্ত্র দেখিয়ে লুট করেছিল
জনগণের টাকা-পয়সা, সোনা-দানা।
আজ তারা সমাজের রাঘব বোয়াল।
সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে ধুতে চাই
কর্দমাক্ত বাংলা মায়ের পা।
আজ কে রাজাকার? কে মুক্তিযোদ্ধা?
বোঝার সাধ্য নেই স্বয়ং বিধাতার।
রাজাকাররা পেয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট
কিছু মুক্তিযোদ্ধাও পায়নি সে অধিকার।
আমি একজন অতি সাধারণ ব্যক্তি
কিইবা আছে আমার ক্ষমতা
চোখ মেলে শুধু অবলোকন করা ছাড়া।
কারণ আজ রাজাকার ও সেইসব মুক্তিযোদ্ধারা
একই ছাদের নিচে বসতি গড়েছে
আমিও সেখানকার এক ঘরের বাসিন্দা।