শিখা একটি ওয়েবসাইটের নিয়মিত লেখিকা। পত্রিকাতেও তার কিছু লেখা প্রকাশ পায়। দেশের বাইরেও তার লেখা কোন একটি জনপ্রিয় প্রকাশনীর প্রকাশ করছে। শিখা অবশ্যই সপ্তম শ্রেণী থেকে লিখে আসছিল। অনেক লিখাই জমা হয়েছিল কিন্তুু তার সুযোগের অভাবে প্রকাশ পায় নি। অনেকে তার লেখা পড়ে বাহাবা দিয়েছিল। যখন দশম শ্রেণীর ছাত্রী শিখা, যে কোন একজনের উপর রাগ করে লেখা বন্ধ করে দিয়েছিল, আর যত লিখা ছিল সব লিখা নষ্ট করে দিয়েছিল। হঠাৎ একদিন সেই পুরোনো লেখার হাত আবার জাগ্রত হল। ইন্টার ফাইনাল ইয়ার পরীক্ষা দেওয়ার পর নতুন করে আবার কিছু কিছু লেখা শুরু করে। এভাবে করেই আবার লিখতে থাকে আর বিভিন্ন মাধ্যমে লিখে থাকে শিখা। আর সেই লিখার সুবাদেই একদিন সেই ওয়েবসাইটটির সন্ধান পায়। আর নতুন নতুন লেখকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের কাছ থেকেই তার লেখার আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়েই পিছনের ভুল ত্রুটি শোধরানোর সুযোগ পায়। এখন সে মোটামোটি ভালই লেখে। আর এখান থেকেই তার মনের মাঝে চেতনা জাগে। পিছনের সব বাধা অতিক্রম করে তাকে নতুন পথে পারি দিতে হবে। তার ভবিষ্যতকে আলোর পথে নিয়ে যাবে। একসপ্তাহ আগে থেকেই শিখা ভাবতে থাকে এবারের বনভোজনে কি কি মজা করবে। তার কতটুকু যোগ্যতা আছে তা এবার বনভোজনে প্রকাশ করবে। কারণ লেখা পড়ার পাশাপাশি প্রত্যেকটা মানুষেরই কিছু না কিছু যোগ্যতা থাকে। যেমন: গান, নাচ, যাদু, খেলাধূলা ইত্যাদি। তাই শিখার সকল প্রস্তুতিই শেষ। আজ সকাল ৫ টায় ঘুম থেকে উঠে শিখা। রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হয় সকাল ৮ টায়। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গাড়ি ছাড়বে। সবার আগেই শিখা পৌছে গেল কিন্তু অনেকেই আসতে দেরী করল। তাই বাস ও একটু দেরীতে ছাড়ল। সবার মনে অনেক আনন্দ। তার চেয়ে বেশী আনন্দ বইছিল শিখার মনে। তাই ঐ বাসটিতে যারা উঠেছিল সবাইকে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে তিন থেকে পাঁচ মিনিট সময় দিয়েছিল উপস্থাপক সিমান্ত। শিখা মনে মনে ভাবছে তাঁকে কখন মাইক্রোফোনটি দিবে সিমান্ত। মনে মনে অনেক কথার ফুলের ঝুড়ি সাজিয়েছিল শিখা। সিমান্ত সবাইকে ডাকছিল কিন্তু এর মধ্যে শিখাকে আর ডাকলো না। তাই মনটা খারাপ হয়ে গেল শিখার। কি আর করবে বেচারী ভাবল তার হয়তো যোগ্যতা নাই কিছু বলার তাই তাকে দেওয়া হলো না। কতক্ষণ পর গন্তব্যস্থানে পৌছল বাস। সবাই নামল বাস থেকে অনেক সুন্দর পরিবেশ চারদিক। যেন সবুজের সমারোহ। চারদিকে মিষ্টি রোদ আর ঠান্ডা মিলিয়ে যেন পরিবেশটি সবার মন কেড়ে নিল। একদিকে রান্না চলছে অন্যদিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখানে শিখার কষ্ট পাওয়া মনটাকে যদি শোধরানো যায় তাই ভাবছে শিখা। কারণ শিখা বাসা থেকে আসার সময় যাদু দেখাবে বলে যাদুর সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। গান গাইবে বলে গান প্র্যাকটিস করে এসেছে। নিজের কবিতা ও অন্যের কবিতা লিখে এনেছে আবৃত্তি করবে বলে। কৌতুক বলে সবাইকে হাসাবে। কত কি প্রস্তুতি নিয়ে আজ এসেছে সে। সিমান্ত সবার কবিতা কমবেশি বলার সুযোগ দিচ্ছে সবাই মোটামোটি কবিতা বলছে শিখা ভাবছে এবার তাকেও ডাকবে অনেক আগ্রহ নিয়ে বসে আছে কিন্তু এবারও শিখার ডাক এলো না। এখন কি অবস্থা শিখার মনের? কেউ কি ভেবেছে? না কেউ ভাবে নি এর মধ্যে আবার অন্য একটি খেলা চলছিল কবিতার ছন্দে মানুষকে খুঁজে বের করা। সবাইকে নিয়ে লেখা হয়েছিল খেলাটিও। এখানে একটি মানুষের নাম নেই। যে কিনা গভীর আগ্রহ নিয়ে সুন্দর একটি মন নিয়ে এসেছিল যে মেয়েটি সেই মেয়েটি আর কেউ নয় সে হলো সেই শিখা। ওর মনটা আরো একবার ভেঙ্গে গেল। সবাই গান করছে মজা করছে ওর মনের আকাশে যেন কালো মেঘে ডেকে গেছে। চোখের কোনে একটু একটু পানি জমছে সে আর বসে থাকতে পারলো না অতিথিদের ছোট বাচ্চাদের নিয়ে একটু দূরে চলে গেল খেলার ছলে। কিন্তু ওখানে একটি গাছের নিকট যে শিখা কয়েক ফোটা চোখের জল ফেলল আর নীল আকাশের দিকে তাকালো মনের দুঃখের কথা শিখা আকাশের সঙ্গে, গাছের সঙ্গে, খেলার মাঠের সঙ্গে বলল। আর মনটা একটু হাল্কা হলো। আবার সবার মাঝে ফিরে এলো শিখা। তখন খাবার সময় হয়েছে। ওর মনে অনেক কষ্ট নিয়ে সবার সঙ্গে আনন্দ করল। এখন শুরু হলো হাড়ি ভাঙ্গা খেলা। এখানেও সবাইকে ডাকছে কিন্তু শিখা ইচ্ছা করেই সবার চোখ বাঁধার দায়িত্ব নিল যাতে ওকে ঐ খেলা খেলতে না হয়। এর মধ্যে শিখাকেও বলছে এখন শিখা যাবে কিন্তু শিখা রাজি হচ্ছিল না। সবার অনুরোধ রাখতে গিয়ে এখানেও মনের বিরুদ্ধে যেতে হলো কিন্তু শিখা কিছুই হতে পারলো না। এরপর আবার বালিশ খেলা হলো ওখানে শিখা ইচ্ছা করে অংশ নিল। ওখানেও শিখা দেখতে পেল একটু অনিয়ম বেশ কয়েকজন আউট হওয়ার পরও তাদের এক দুইবার সুযোগ দিল। শিখা মনে মনে আল্লাহকে ডাকল। হে আল্লাহ আজ আমার সাহায্যকারী তুমি। আমার এই ভরাক্রান্ত মনের অবস্থা তোমার অজানা নয়। তুমি আমাকে সাহায্য কর। কিন্তু শিখা আর পাড়লো না। আউট হলো। কিন্তু কৈ শিখাকে কেউ আর একটি সুযোগ দেয় নি। কারণ শিখার পক্ষে বলার কেউ ছিল না। এই মুহুর্তে শিখার অবস্থাকি কেউ কি ভেবেছে? না কেউ ভাবে নি। যাক সে কথা এখন খেলা শেষ শুরু হল লটারী টিকিটের খেলা। শিখা ১০০ টাকার টিকিট কিনেছিল। এখানে ১০টি পুরষ্কার রয়েছে। ভরাক্রান্ত মনে যেন শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিখার। মনে মনে নিজের ভাগ্যকে গালি দিচ্ছে শিখা। সবাই হয়তো শিখার মনের অবস্থা জানে না। আল্লাহ তো জানে তার মনের অবস্থা। সবাই তাকে বুঝল না। আল্লাহ তো বুঝেছে তাই শিখা মনে মনে আল্লাহকে বলছে যে, হে খোদা এত কষ্ট থেকে তুমি আমাকে মুক্তি দাও। কেন এমন হচ্ছে আমার সঙ্গে তুমি কি দেখছো না? শিখার মনে মুক্তির চেতনা জাগলো। কি ভাবে সে মুক্তি পাবে? সবাই যদিও নিরাশ করলো তাকে কিন্তু আল্লাহ তাকে নিরাশ করেন নি। তার দুঃখী মনটাকে প্রাণ ফিরিয়ে দিল। সত্যি কিন্তু এত যন্ত্রণার পর মন খুলে হাসলো শিখা। কি হলো? সে যে লটারী খেলা? ১ম ১০টি পুরষ্কারের মধ্যে ১ম পুরষ্কারটিই শিখা জিতে নিল। যে পুরষ্কারটির জন্য সবার আকাঙ্খা ছিল। আর সেই মুহুর্তের শিখার মনের সাড়া দিনের কষ্ট দুর হয়ে গেল। বেলা প্রায় বয়ে গেছে। সূর্য্য পশ্চিম দিকে হেলে গেছে। ফেরার পালা, তাই সবাই বাসে গিয়ে বসলো। যেতে যেতে আবার শুরু হলো কেমন লাগলো আজকের দিনটি। সবাইকে অনুভূতি প্রকাশ করতে আবরও দিল। কিনু্তু শিখাকে দিল না। সবাই গান গাইছে কিন্তু শিখা হাসছে। আর ভাবছে রাস্তার লোকগুলো শুনছে না তো? কারণ না আছে গানের সুর, না আছে গানের লয়, না আছে গানের তাল, না আছে গানের শেষ না আছে গানের শুরু। এ অবস্থায় একটি কথা গান কিন্তুু সবারটি যে এমন হয়েছে তা নয় দু একজনের গান ভাল লেগেছিল। তবে সবার বিবেকের কাছে কিছু প্রশ্ন? শিখাকে যদি একটু আপন ভেবে এই পরিবারে একজন ভেবে কিছু সুযোগ দেওয়া হতো বনভোজনটি কি আরও সুন্দর হতো না? আরও মজার হতো না? শিখার জীবনে ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত কোন খেলাতেই পুরষ্কার না নিয়ে ঘরে ফিরতো না। শিখাকে যদি কেউ আপন ভাবতো তবে কি শিখা কি একটি পুরষ্কার আনতে পারত না। যাদু দেখিয়ে গান গেয়ে আরএকটু প্রানবন্ত করতে পারতো না শিখা? এই পরিবারের সাথে থেকে কি শিখা আর মুক্তির পথ খুজে পাবে? শিখার কাঙ্খিত স্বপ্নকে বাস্তবিত করতে পারবে?