বিনি সূতোর মালা

বন্ধুত্ব (অক্টোবর ২০২১)

Dipok Kumar Bhadra
  • 0
  • ১৪৪
সখ্যতা গড়ে উঠে মনের অজান্তেই।তবে এর জন্য মনের মানুষ খুঁজতে হয় না। ধীরে ধীরে মানুষের প্রাণের স্পন্দন জেগে উঠে একে অপরের প্রতি।একসময় তা নি:স্বার্থ চিন্তাধারায় সম্বিলিতভাবে গাঁথতে চায় ছন্দবিহীন বিনা সূতোর মালা ।
এ যেন অন্তরের এক ঐতিহাসিক বন্ধন।যা পৃথিবীর কোন কিছুর সাথেই তুলনা হয় না।
রক্তের সম্পর্ককেও হার মানায় এই বন্ধন।
জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে মহুয়ার। মাঝে মাঝেই এমনটি হয়। আবার জ্বর সেরেও যায়। চোখের কোটরে কালি পড়ে গেছে। এক সময়ের এই সুন্দরী মহুহা আজ শুধুই স্বামীর সংসারে সবার অবহেলার পাত্র। ইদানিং কেও তাকে ভাল নজরে দেখে না।
মেয়েদের জীবনে স্বামীই সবকিছু।তাই মহুয়া অন্তত তার স্বামীর সোহাগ আশা করতেই পারে। এটা তার বেশী চাওয়া-পাওয়ার কিছু না। কিন্তু না, তার স্বামীও আজ আর মেহুয়াকে দেখতে পারে না।
কিন্তু কেন মহুয়ার জীবনে এমন ঘন অন্ধকার নেমে আসল ? আজ দশ বছর হল মহুয়ার বিয়ে হয়েছে। সন্তান জম্ম দিতে না পারায় দিবানিশি মহুয়াকে শাশুরীর অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। এখন হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় সহানুভূতি তো দূরের কথা,অত্যাচারের মাত্রা আরও দিন দিন বেড়ে গিয়াছে।যার উপর ভরসা করে মহুয়াকে এই সংসারে অতি বর পক্ষের অতিআগ্রহের কারণে পাঠিয়েছিলেন মহুয়ার বাবা মা। আজ সেই এখন পর হয়েছে।
মহুয়া সুন্দরী বলে সবাই এক সময় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিত। কিন্ত মহুয়ার বাবা মা গরীব বলে মেয়েটা অন্তত মোটা ভাত মোটা কাপর যেন পড়তে পারে এই ভেবে একজন সরকারী চাকুরীজীবির সাথে বিয়ের রাজী হয়েছিল।মহুয়া দেখতে খুবই সুন্দরী ছিল। তাই লেখা পড়া বেশী না করলেও অনেকেরই মহুয়ার প্রতি আকর্ষণ ছিল।
মহুয়া যখন দশম শ্রেণীতে পড়ে তখনই ছেলে পক্ষের পীড়াপীড়িতে বিয়ে হয়।শুধুমাত্র মহুয়ার রুপে পাগল হয়ে বিয়ে করেছিল সরকারী একজন চাকুরীজীবি ছেলে।
বিয়ের পর বেশকিছুদিন ভালই চলছিল দাম্পত্য জীবন।তারপর যখন মহুয়ার সন্তান হচ্ছিল না,তখন থেকে মহুয়ার শাশুড়ী অত্যাচার শুরু করতে থাকে। মাঝে মাঝে মহুয়াকে যৌতুকের কথাও শুনতে হয়। মহুয়ার স্বামী বিষয়টি জেনেও এড়িয়ে চলে।
দিন দিন মহুয়া শুকিয়ে যাচ্ছিল এবং মাঝে মাঝে জ্বর হচ্ছিল।কিন্তু মহুয়ার স্বামী মহুয়াকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সবসময় উদাসীন থাকতো।
এদিকে অসুস্থতার কারণে মহুয়ার রুপের জৌলুস কমতে থাকায় মহুয়ার স্বামীও অত্যাচার করতো।সব কিছু মিলিয়ে মহুয়ার জীবনটা আজ মহাসংকটাপন্ন।
বিয়ের দশ বছরের শুরু থেকেই মহুয়া তার ছোট বেলার বন্ধু সুজনকে ভুলতে পারে না।একই গ্রামের ছেলে এই সুজন ছিল মহুয়ার জীবনের শুরু থেকেই খেলার সাথী। স্কুলে তারা একসাথে যেতো। নিজের মনের কথা একে অপরের সাথে শেয়ার করতো। তাদের বন্ধুত্ব খুব সংবেদনশীল ছিল ।একজনের দু:খে আরেকজন ব্যথিত ছিল।
সুজন এবং মহুয়ার মধ্যে ছোট বেলায় খুবই বন্ধুত্ব ভাব ছিল। অনেকদিন সুজনের খোঁজ খবর জানে না। আজ সেই প্রাণের বন্ধুর কথা বারবার মনে পড়ছে মহুয়ার। কি করবে এখন কোথায় থাকে তাও তো জানে না ।নিজের দু:খের কথা প্রাণের বন্ধুকে বলে কিছুটা হালকা হবার জন্য ব্যাকুল মহুয়া।
ছোট বেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় হঠাৎ পড়ে গিয়ে একবার মহুয়ার পা ভেঙ্গে গিয়াছিল।এতে সুজন এর ব্যাথিত মুখটা আজও খুব মনে পড়ে মহুয়ার। প্রতিদিন মহুয়ার বাসায় হরলিক্স,ফলমুল নিয়ে আসতো। এগুলো যে সুজনের প্রেম ভালবাসা ছিল তা কোনদিনই অনুভব করেনি মহুয়া।শুধু বন্ধুত্বের খাতিরে আসতো সুজন। কোনদিন কোন স্বার্থের কথা বলেনি সুজন। বরং বিয়ে ঠিক হলে শুধু বলেছিলো পড়াশুনা শেষ করে বিয়ে হলেই ভাল হতো। জম্মদিনে একগোছা ফুলের তোড়া নিয়ে আসতো মহুয়ার বাড়ী্তে। এতে কেও কিছু মনে করে নাই।কারন সবাই জানতো তারা একে অপরের একজন ভাল বন্ধু। এর বাইরে কিছু নয়।
একবার সুজন রোড এক্সসিডেন্ট করে। তার প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়। মহুয়াও বন্ধুর সুবাদে এক ব্যাগ রক্ত দিয়েছিল।হায়রে বন্ধত্ব। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ককেও যেন হার মানায়।
বন্ধত্ব হলো নি:স্বার্থ ভালবাসা। প্রকৃত বন্ধু একজন আরেকজনের কাছে কিছুই চায় না,শুধু দিতেই চায় ,এতেই যেন আনন্দ।
শুয়ে শুয়ে ভাবছে মহুয়া। আজ যেন আরও খারাপ লাগছে তার। জ্বরটা একটু কমলেও শরীর বেশ দূর্বল।খেতেও পারছে না।
রাতে মহুয়ার স্বামী এসে বিরক্তসুরে জানায় , আগামীকাল ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাবে শহরে।সিরিয়াল দিযে এসেছে।
রাতটা কোনমতে কাটলো। সকালে গ্রামের এক মহিলার সাথে করে মহুয়ার স্বামী মহুয়াকে ডাক্তার দেখানোর জন্য শহরে নিয়ে গেল।
ডাক্তার মহুয়াকে দেখে রক্ত,প্রস্রাব পরীক্ষা ও আলট্রাসনোগ্রাম করতে দিল।
মহুয়া রক্ত পরীক্ষা করতে দিয়ে যখন আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য ডাক্তারের কাছে গেল,তখন এক অদ্ভূত ঘটনা ঘটল।
ডাক্তারের মুখে মাস্ক পড়া ছিল। তাই চিনতে পারে নাই মহুয়া। কিন্তু ডাক্তার ঠিকই মহুয়াকে চিনতে পেরেছে।ডাক্তার আর কেও নয়, মহুয়ার সেই ছোট বেলার বন্ধু সুজন।হায়রে নিয়তি! ডাক্তার মহুয়াকে দেখেই চমকে উঠে বলল, তুমি মহুয়া না?
এতো সুন্দর রুপ ছিল তোমার? একি অবস্থা হয়েছে? কি হয়েছে মহুয়া? কি, আমাকে চিনতে পারছো না? আমি তোমার ছোট বেলার বন্ধু সুজন।
সুজনের পরিচয় পেয়ে মহুয়ার আনন্দের অস্রু চোখের কোঠরদিয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
চোখ মুছে ফেল মহুয়া। কি হয়েছে তোমার.আমায় খুলে বল। আচ্ছা আগে তোমার আলট্রাসনোগ্রামটা করে নেই।
ডা: সুজন আলট্রাসনোগ্রাম করে দেখতে পেল কিডনিতে পাথর হয়েছে। ইনফেকশন হয়ে গেছে।প্রস্রাব ও রক্তের রিপোর্ট ও খারাপ।
সুজন রিপোর্ট দেখেই ছোট বেলার এই বন্ধুর অসুস্থার কথা ভেবে ঘামতে শুরু করে।তবুও মহুয়াকে বলে চিন্তা করো না ,আমি কিডনির ডাক্তারকে বলে সব চিকিৎসা যাতে সুন্দরভাবে হয় সে ব্যবস্থা করে দিব।
মহুয়া স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে। বিপদের সময় যে পাশে দাঁড়ায় সেই তো প্রকৃত বন্ধু।আজ আমি আমার প্রকৃত বন্ধুর সন্ধান পেয়েছি। আজ যেন অনেকটাই ভাল লাগছে মহুয়ার।
সুজন ফোন তুলে কিডনির ডাক্তারকে ফোন করে বলল,মহুয়া নামে একজন রুগী পাঠাচ্ছি, ভালভাবে দেখবেন,আমার খুব কাছের বন্ধু কিন্তু। ওর চিকিৎসার সব দায়িত্ব আমার,আমি পরে আসছি ।
এতো কিছু ঘটে গেল,তা বাহির থেকে মহুয়ার স্বামী জানে না।
মহুয়াকে রিপোর্টসহ ডা: এর কাছে নিয়ে গেলে ডা: জরুরীভাবে কিডনির ডাক্তারের কাছে রেফার্ড করে।
মহুয়ার স্বামী ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করে,কি হয়েছে ডাক্তার সাহেব?
ডাক্তার বলে কিডনির সমস্যা হয়েছে।তাই কিডনির ডাক্তারের কাছে পাঠালাম।
তা কি রকম টাকা লাগতে পারে, চিকিৎসা করাতে? ডাক্তারকে বলল,মহুয়ার স্বামী।
ডাক্তার মহুয়ার স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলল,আগে রুগীকে নিয়ে যান কিডনির ডাক্তারের কাছে।
বাইরে এসে মহুয়ার স্বামী মহুয়াকে বলল, তোমার কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে,অনেক টাকা লাগবে। বাড়ী গিয়ে চিন্তা করে দেখি কি করা যায়।
মহুয়া স্বামীর এহেন আচারণে মনে মনে খুব ক্ষুব্ধ হচ্ছে কিন্তু কিছুই বলছে না।শুধু ভাবছে এ দুনিয়ায় কে আপন আর কে পর?
অনেক দিনের পুরানো বন্ধুর কথাগুলো শুনে যেমন মনটা ভরে গিয়েছিলো তেমনি স্বামীর কথা শুনে যেন মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ল।
আমার গয়নাগুলো বিক্রি করে তবুও চিকিৎসা করাও। না হলে যে আমি মরেই যাব।বলল, মহুয়া।
আচ্ছা আগে তো বাড়ী চল,তারপর দেখি কি করা যায়।বলল, মহুয়ার স্বামী।
অতপর অনিচ্ছা সত্বেও মহুয়াকে স্বামীর সাথে বাড়ী যেতে হলো।
ডাক্তার সুজন তাড়াহুড়া করে অন্যদের আলট্রাসনোগ্রামের কাজ সেরে কিডনির ডাক্তারের কাছে গেল।
মহুয়া নামের রুগীটা কেমন দেখলেন।কিডনির ডাক্তারকে বললেন, ডাক্তার সুমন।
কই, মহুয়া নামের রুগীণি তো আসেনি? বললেন, কিডনির ডাক্তার।
ডাক্তার সুমন তো আশ্চর্য হয়ে গেলেন। তাহলে গেল কোথায় মহুয়া? অনেক খোঁজাখুজির পর জানতে পারলেন, ডাক্তার না দেখিয়েই বাড়ী চলে গেছে। কিন্তু কেন? কেন এমন করল মহুয়া? এতোবড় একটি অসুখ।ভাবছে ডাক্তার সুমন।
বন্ধুর জন্য আজ ডাক্তার সুমন যেন দিশেহারা হয়ে গেল।মহুয়ার স্বামীর বাড়ীর বর্তমান ঠিকানাও জানে না সুমন।তাই আর কি করবে,মনে মনে খুব কষ্ট পেতে লাগল।
মহুয়ার স্বামী এবং শাশুড়ী পরামর্শ করে মহুয়াকে তার বাবার বাড়ী রেখে আসল। কয়েকদিন পর টাকা জোগার করে চিকিৎসা করাবে।আর মহুয়ার সুস্থ্যতার জন্য তাকে তার মায়ের কাছে থাকা দরকার বলে মনে করে মহুয়ার শাশুড়ী।
গরীবের মেয়ে মহুয়া। সে আর কি বলবে। তবে মহহুয়ার আর বুঝতে বাকী রইল না যে,তার স্বামী আর শাশুড়ী আপদ বিদায় করল।
মহুয়া তার বাবা মার কাছে এসে একটু সুস্থ্য বোধ করছিল।
যখন মহুয়ার বাবা মা জানতে পারল যে, মহুয়ার কিডনির সমস্যা হয়েছে,তখন খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন তারা।
চিকিৎসার জন্য এতো টাকা পাবেন কোথায়?
একদিন মহুয়া তার শ্বশুরবাড়ীর অত্যাচারের কথা এবং হাসপাতালে তার স্বামীর আচারণের কথা তার মা কে জানাল।
সবকিছু শুনে মা কাঁদতে লাগলেন আর বললেন,তোমার সেই ছোট বেলার বন্ধু সুমন নাকি শহরে বড় ডাক্তার হয়েছে,তাকেই আমরা তোমাকে দেখাবো।
আমাদের তো টাকা পয়সা নেই,দেখি যদি দয়া করে,তোমার চিকিৎসার ব্যাপারে সহযোগীতা করে সুজন ?বললেন মহুয়ার মা।
আচ্ছা মা! আমাকে যে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলো সেই হাসপাতালে সুমনের সাথে আমার দেখা হয়েছিল । সুমনই তো আমার আলট্রাসনোগ্রাম করাইয়াছিল।আমাকে বলছিল সব চিকিৎসা নাকি ও করবে।কিন্তু ডাক্তার না দেখাইয়েই তো আমার স্বামী আমাকে বাড়ী নিয়ে আসল।বলল মহুয়া।
তারপর একদিন সুমনের মোবাইল নম্বর নিয়ে মহুয়া নিজেই ফোন করল।
ডাক্তার সুমন মহুয়ার ফোন পেয়ে বলল, মহুয়া তুমি কোথায়? সেদিন ডাক্তার না দেখিয়ে চলে গিয়াছিলে কেন? এখন তুমি কেমন আছ...ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি আমার বাবার বাড়ী। আমায় ডাক্তার দেখাতে হবে।তুমি কি আমায় ডাক্তার দেখাইয়া দিবা?বলল মহুয়া।
কেন ডাক্তারকে দেখাবো না? অবশ্যই দেখাবো।
আমাদের যে টাকা পয়সা নেই? বলল মহুয়া।
হায়রে বন্ধু! তুমি কি যে ভাবছো। একজন বন্ধু তার বন্ধুর জন্য এইটুকু করবে না? তুমি কি করে ভাবলে? তোমার কিচ্ছু লাগবে না, আমি আগামীকালই গাড়ী পাঠাচ্ছি, তুমি তোমার বাবা মা সহ চলে আসবে।আমি তোমার চিকিৎসা করাইব। কেমন?-বলল সুমন।
পরদিন সুমন গাড়ী পাঠালো। মহুয়া তার বাবা মার সাথে নিজের বিয়ের গয়না গুলো নিয়ে ডাক্তার সুমনের কাছে গেল।
চিকিৎসার খরচের জন্য মহুয়া তার গয়নাগুলো ডাক্তার সুমনকে দিতে চাইলেও সুমন সেগুলো গ্রহন করল না।
মহুয়াকে জরুরীভাবে হাসপাতালে ভর্তি করলেন ডা: সুমন।মহুয়ার বাবা মাকেও ডাক্তার সুমনের বাসাতেই রাখলেন।
কয়েকদিন পর মহুয়ার কিডনি আপারেশন করানো হল। অপারেশন সাকসেসফুল হয়। অবশ্য মহুয়া সুস্থ্য হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে । তবে অবশেষে মহুয়া সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়।
মহুয়া সুস্থ্য হলে ডাক্তার সুমন মহুয়াকে তার বাসায় নিয়ে যান।মহুয়া তার শ্বশুরবাড়ীর অত্যাচারের সব কথা ডাক্তার সুমনকে বলে দেয়।
ডাক্তার সুমন সব শুনে বুঝতে আর বাকী থাকে না যে,দীর্ঘদিন অনিয়ম আর দু:চিন্তার কারনেই মহুয়ার এই সমস্থ আসুখ। তাছাড়া শ্বাশুড়ীর অত্যাচার হলো মহুয়ার সন্তান না হওয়ার কারন।
মহুয়ার মূলত মেয়েলী কিছু অসুখ থাকায় সন্তান হচ্ছিল না।সুচিকিৎসার অভাবে মহুয়া নি:সন্তান ছিল।
ডাক্তার সুমন এব্যাপারে গাইনি ডাক্তার দেখাবে বলে মহুয়ার বাবা মা কে বলল।
প্রকৃত বন্ধু হিসাবে একজন বন্ধুর ঘর গড়াই হচ্ছে ধর্ম।তাই মহুয়ার কাছ থেকে নম্বর নিয়ে মহুয়ার স্বামীকে ডাক্তার সুমন ফোন করেন। ফোন করে বলেন যে, মহুয়ার স্বামী যেন তার মাকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে আসে।
পরদিন মহুয়ার স্বামী তার মা কে সাথে নিয়ে হাসপাতালে যায়। ওখানে মহুয়ার স্বামী মহুয়াকে দেখে তো অবাক হয়ে যায়।এ যেন সেই অপরুপ সুন্দরী মহুয়া।মহুয়া সেই আগের মত রুপ লাবণ্য ফিরে পেয়েছে।
ডাক্তার সুমন সেই ছোট বেলার বন্ধুত্বের সুবাদে মহুয়ার চিকিৎসা করেছেন।
ডাক্তার সুমন আরো জানান যে মহুয়া বন্ধা নয়,চিকিৎসা করালে ফল পাওয়া যাবে।
ডাক্তার সুমনের ব্যবহারে এবং কথায় সবাই খূসি। একজন বন্ধু যে আরেকজন বন্ধুর জন্য নি:স্বার্থভাবে এতো কিছু করতে পারে তা মহুয়ার স্বামীর জানা ছিল না।
মহুয়ার স্বামী মহুয়ার বাবাসহ মহুয়াকে নিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ীর দিকে রওনা হলো।
একজন প্রকৃত বন্ধুই পারে জীবনের সব জটিল সমস্যার সমাধান।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
মোঃ মাইদুল সরকার মোটামুটি ভাল গল্প। ভোটের অপশন বন্ধ কেন ?
আমিও বুঝতে পারছি যে কেন ভোটের অপশন বন্ধ।

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

বন্ধুত্ব মানুষের সকল প্রকার ভেদাভেদকে ছিন্ন করে মনের ভিতরের জ্বালাকে দূর করে সুখের নীড় গড়তে সহায়তা করে। গল্পটিতে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের কাছ থেকে মহুয়া বিতারিত হলেও বন্ধুই তার জীবন বাঁচিয়েছে।মহুয়া এবং সুজনের বন্ধুত্বই মহুয়াকে স্বামীর সুখের নীড় নতুন ভাবে গড়ার প্রয়াস যোগীয়েছে। প্রকৃত বন্ধুই পারে নি:স্বার্থভাবে একে অপরের প্রতি সহানুভুতি দেখাতে। বন্ধুত্ব এমন এক বিনি সূতোর বন্ধন যা নি:স্বার্থ ভালবাসা।

২০ মে - ২০২০ গল্প/কবিতা: ৩৪ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "প্রত্যাশা”
কবিতার বিষয় "প্রত্যাশা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুলাই,২০২২