রূপকথা ছিঁড়ে ছিঁড়ে পরে থাকে ধানক্ষেতে,
খালি পা, দাগি রক্ত, কুয়াশা গড়িয়ে নামে নিচে I
সালোয়ার ছেড়ে ফিরে গেছে আলগা মন,
দায় নেই আর লজ্জা শরম এখন I

কানাকানি পথে, চায়ের দোকানে,
জটলা স্টেশনে, উঠে পরে ট্রেনে I
লাট খাওয়া পায়রার মতো,
ঘুরে ঘুরে আসে শব্দের ক্ষত,
শান্তিবালা বালিকা বিদ্যালয়, নবম শ্রেণী,
জেলা করিমগঞ্জ, গ্রাম শালবনি I

তারও আগে ধরেছিলো রাস্তার ঝোপে,
চার জোড়া হাত, পা ধরে টানাটানি,
পাকিয়ে পাকিয়ে যন্ত্রনায় গোঙ্গানি I
ভয়েছিলো, চিনেফেলা....
তাই মুণ্ড কাটা শব পরে থাকে ধান ক্ষেতে I

তারও আগে ঘুরছিলো পা মেপে মেপে ,
ঝুটি ধরে তুলে নেবে মুঠোতে বুক,
কোষে কোষে বুঝে নেবে উদ্দাম সুখ,
বঁড়শিতে ফালাফালা..........
শাহওয়াত ধুয়ে যাবে, গালিব দোসর যদি থাকে I

তারও আগে ছিল সবুজ সকাল, ঝাপটানো ডানা,
স্বপ্ন কাঁধে আলপথ ধরে নামে বৃষ্টি,
ডাকিয়া মেঘের ঠোঁটে নবান্নের চিঠি,
বাতাসের ঘায়ে ......
খসে পরে ওড়না, সবেতেই সহজ নয় সামলানোটা I

উল্টো বাতাস বল্লমের ফলার মতো কুঁচে বিদ্ধ,
গদের আঠায় লেগে থাকে শব্দকণা,
জেগে ওঠে উঁচু নিচু বিষাক্ত ফনা,
এসব সময়......
ডুবন্ত মুখ থেকে খসে পরে সমাজের দেহ I

তারও পর স্মৃতিরা ছড়িয়ে পরে ঝিনুকের সাথে
লেগে থাকে বালির গায়
ঠিকানারও তারা থাকে, পরিযায়ী পাখিদের ঝাঁক
ঋতু বদলায়,
ভরসার জল নেমে গেলে, কিনারে কিনারে
লেগে থাকে ভয়,
কিছু গল্প গুজব পিঠে, শান্তিবালা হোঁচট সামলে নেয় I

তারও পর কোনো সকালে বিঁধে যায় শেয়ালকাঁটা,
পরিচিত কোনো সালোয়ার, ছেঁড়া, কুয়াশায় ডাকা I
গল্পের ধারে উবু হয় বসা এক যে বালিকা ,
যুগ পেরিয়ে শুনে যায় তার ভাঙা স্বপ্নের ইতিকথা I