তারা বলতো, শূন্যতা বিধ্বংসী পারমাণবিক বোমার মতো
সব অর্জন মুহূর্তেই ধ্বংস করে দেয়,
তারা বলতো, শুন্যতা শহরজুড়ে নেমে আসা তুষারের মতো
জীবন্ত শহরটাকে লাশঘর বানিয়ে দেয়।
আজ নির্বাক আমি, শূন্যতা আমার শিরায় শিরায়।
নাহলে কেন আমি প্রার্থনা করি-
কেন আজ এত মিনতি
শুধু দুটো উষ্ণ হাতের জন্য?
যখন আমি নিজেকে ছাড়িয়ে যাবো,
ভেঙ্গেচুড়ে আবার গড়বো-
তখন সেই দুটি হাত আমায় ধরবে,
বলবে- এইতো আরেকটু বাকি।

আজ নিঃস্ব আমি, শূন্যতার বৃত্তে বন্দি।
নাহলে কেন আমি প্রার্থনা করি-
একটা শক্ত আলিঙ্গনের জন্য?
এতটা শক্ত যেন দুটো হৃৎস্পন্দন এক হয়ে যায়
আর আমি শুনতে পাই-‘তোমার জন্য অপেক্ষা করছি, এত কিসের ভয়?
আমার মাঝে রেখেছি তোমায়, এ হৃদয় শুধু তুমিময়।’

আজ দিশেহারা আমি, শূন্যতা আমার ছায়াসঙ্গী।
যদিও জানি, অচেনা পথটুকু আমাকেই হাঁটতে হবে-
তবু যদি কেউ দাঁড়িয়ে থাকতো পথের শেষপ্রান্তে
এক ফোঁটা জীবনীশক্তি নিয়ে!
জানো- কখন একজন পথিকের পরাজয়?
যখন সে হারিয়ে ফেলা পথটা আর খুঁজতে না চায়।
তোমরা জানো না আমি কত অসহায়!
এই পথ জুড়ে শুধু শূন্যতা আর শূন্যতা।
অনাচারে লিপ্ত পৃথিবীতে আমি নির্জন,
সবাই ভাবে আমি কঠোর-সাহসী-বীর্যবান।
তবে জেনে রেখো- দিনের আলোতে শিকারী পাখিটিও দিনশেষে আশ্রয় খোঁজে,
শূন্যতা তার সঙ্গী জেনেও কোমল স্পর্শে চোখ বুজে।