আজও খদ্দেরের দিকে চায়ের গ্লাস এগিয়ে দিতে গিয়ে অনেকখানি চা ছলকে কাঠের উপর পড়লো। চোখ কুঁচকে বৃদ্ধ হোসেন আলী নিজের হাতের দিক একবার তাকালেন। হোসেন আলীর চোখের চারপাশে মাকড়সার জালের মত অসংখ্য রেখা ফুটে উঠলো। ক্লান্ত ভাবে তিনি খদ্দেরের সামনে চায়ের গ্লাস নামিয়ে রাখলেন। কিছুক্ষণের ভেতরই কাঠের বেঞ্চটা কালো পিপড়ায় ভরে যাবে। মঞ্জু থাকলে এতক্ষণে আধময়লা গামছাটা দিয়ে যত্ন করে বেঞ্চটা মুছে ফেলতো।
পনেরো ষোল বছরের এই ছেলেটা কাজেকর্মে খুব চটপটে। হোসেন আলীর দোকানে পেটে ভাতে থাকলেও এই দোকানটাকে মঞ্জু নিজের বলে মনে করে। বাপ মা মরা ছেলে মঞ্জুও হোসেন আলীর বিশেষ স্নেহভাজন।
হোসেন আলী অন্য সব ব্যাপারে উদাসীন থাকলেও গোপনে তিনি নিজের দুই শতাংশ পৈত্রিক ভিটা আর বাড়ির সামনের ছোট চায়ের দোকানটা মঞ্জুর নামে দলিল করে দিয়েছেন।
মঞ্জুকেও তিনি জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি।

হোসেন আলীর চায়ের দোকানে সবসময় ভীড় লেগে থাকে। তিনি ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে চা দিলেও লোকজন বিরক্ত হয়না। কারন হোসেন আলী কাউকে চায়ের দামের জন্য তাগাদা দেন না। কেউ যেচে দাম দিলে উদাসীন হাত বাড়িয়ে টাকাটা নিয়ে টিনের বাক্সে ভরে রাখেন। দুটি মাত্র পেট এই চায়ের দোকানের আয় দিয়ে কোনমতে চলে গেলেও হোসেন আলীর এহেন আচরণের জন্য মঞ্জুর অভিযোগের শেষ নেই।
আজকাল বেশিক্ষণ দোকানে বসলে মাথা ঝিম ঝিম করে হোসেন আলীর। কিছুদিন ধরে হোসেন আলীর শরীরটা ভালো যাচ্ছেনা। গলা অনবরত খুশখুশ করছে। তুলসীপাতার সাথে আদা মিশিয়ে চা খেতে পারলে উপকার পাওয়া যেত। দোকানের পেছনের জংলায় তুলসীগাছের ঝাড় আছে। মঞ্জু নানাবাড়ি থেকে ফিরলে অনেক করে আনিয়ে রাখতে হবে।
দুপুর ছুঁই ছুঁই করছে সময়।
দোকান আরো কিছু সময় খোলা রাখতে হবে হোসেন আলীকে। কিছুক্ষণ পরে স্কুল ছুটি হবে। স্কুল ছুটি হলে স্কুলের ছেলেমেয়েরা হোসেন আলীর দোকানে আসে বিস্কুট,লজেন্স কিনতে। মাঝেমধ্যে শিক্ষকেরা আসেন চা খেতে।

এখন দোকানের সামনের বেঞ্চদুটো ফাঁকা। কয়েকটা মাছি পড়ে যাওয়া সেই চায়ের উপর ঘুরে ঘুরে উড়ছে। নারকেল গাছের চিরল চিরল ছায়া পড়েছে দোকানের সামনে। সেদিকে তাকিয়ে হোসেন আলী বুঝলেন স্কুল ছুটি হতে অনেক দেরী। মাথাটা আবার ঝিমঝিম করছে। কিছুক্ষণ শুয়ে নিতে পারলে হতো। মঞ্জু বোধহয় সন্ধার আগে ফিরবেনা।
দোকানের ঝাপ খোলা রেখেই গামছা মাথার নিচে দিয়ে হোসেন আলী শুয়ে পড়লেন।
দোকানের ভেতর একটা ওয়াড় বিহীন বালিশ আর একটা কাঁথা আছে। সেসব বের করার শক্তিও যেন হোসেন আলীর গায়ে অবশিষ্ট নেই। মাথার ভেতরে অসংখ্য ছারপোকা কুটকুট করে কামড়াচ্ছে। শুতে না শুতেই কিছুক্ষণের ভেতর হোসেন আলীর দুচোখ ঘুমে জড়িয়ে এলো। ক্লান্তভাবে পাশ ফিরে হোসেন আলী ঘুমের অতলে তলিয়ে গেলেন।

মাগরিবের নামজ শেষ করে মিলিনা ছেলেদের ভাত খাওয়াতে বসলেন।
ভাত দিতে দেরী হলে বেশিরভাগ দিন ওরা ভাতের থালায় হাত রেখেই ঘুমিয়ে পরে। ঐ অবস্থায় ওদের হাত মুখ ধুইয়ে কোলে করে কাঠের চৌকির উপর উঠাতে মিলিনার নিশ্বাস ভারী হয়ে আসে। আজকাল ভারী কাজ করতে গেলে মিলিনার পেটের ভেতর আরেকজন তার ছোট্ট হাত পা নেড়ে মায়ের কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। হয়তো বোঝাতে চায়,মা কষ্ট পাচ্ছি।

ছেড়া মশারিটা গুজে দিয়ে মিলিনা ঘুমন্ত ছেলেদের পাশে শুয়ে পড়লেন। চৈত্র মাস। দিনের বেলা সূর্যের অক্লান্ত আক্রোশে চারদিক পুড়তে থাকলেও আলো বিদায় নেয়ার সাথে সাথে শহরটা যেন ক্লান্তিতে নীরব হয়ে ঘুমুচ্ছে।
শুয়ে থাকতে থাকতে মিলিনার দুচোখ ঘুমে ঢুলু ঢুলু হয়ে এলো। কিন্তু ঘুমালে চলবেনা। মিলিনার স্বামী হোসেন আলী যেকোন মুহূর্তে চলে আসবেন।
হোসেন আলী তার ভাইয়ের বাসার উদ্দেশ্যে সেই ভোরে বেরিয়েছেন। বিকেল নাগাদ চলে আসার কথা। মিরপুর থেকে পলাশী আসতে বেশি সময় লাগার কথা নয়।
এখন মিলিনার হিসেবে অনেক রাত। বস্তির সব ঘরেই লোকজনের সাড়াশব্দ আস্তে আস্তে কমে আসছে। মিলিনা উঠে ঘরের দরজা খুলে বাইরে উঁকি দিলেন। কৃষ্ণপক্ষের ঘোর অন্ধকার রাতে মিলিনা কিছু দেখতে পেলেননা। গুমোট অন্ধকার চারদিকে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোটা আজ কোন কারনে নিভু নিভু হয়ে আছে।

হোসেন আলীর চিন্তায় মিলিনার মনে কুডাক ডাকতে লাগলো। ভোরে রিকশা নিয়ে বের হওয়ার সময় হোসেন আলী বলেছিলেন অসুস্থ ভাইকে দেখে দুপুরের পরেই ফিরে আসবেন। কয়েকদিন ধরে হোসেন আলী রিকশা চালিয়ে ঘরে ফিরে প্রায়ই বলেন দিনকাল ভালো না। যেকোন সময় দেশে যুদ্ধ লাগতে পারে। মিলিনা এই স্ফীত শরীর নিয়ে ঘরের বাইরে প্রায় বের হয়না বলে দেশের বর্তমান খবরাখবর হোসেন আলীর কাছেই পায়।
হোসেন আলীর কাছে যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা শুনে মিলিনা মাঝেমাঝে অবাক হয়ে বলতেন, আপনি যে কি কন। নিজিরা নিজিরা যুদ্ধ করবি এডা ক্যামন কতা?
এইমুহূর্তে শুনশান অন্ধকারের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে মিলিনার মনে হয় হোসেন আলীর কথাই কি তালি সত্যি? দ্যাশে কি সত্যিই যুদ্ধ শুরু হবি? তা নালি ঢাহা শহরটা এমন মড়ামানষির মতন চুপচাপ ক্যা?

রাতের নিস্তব্ধতা যত বাড়ছে ততই হোসেন আলীর জন্য দুশ্চিন্তায় মিলিনা অস্থির হয়ে পড়ছেন। হোসেন আলী পথেঘাটের কোন দুর্ঘটনা শিকার হলেন নাতো?
আরেকবার দরজা খুলে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে মিলিনা সময় আন্দাজ করতে চেষ্টা করলেন। রাতের প্রথম প্রহর কি শেষ? এই ঘুটঘুটে কালো রাতে মিলিনা একা এখন কি করবেন ভেবে পেলননা। একটা অমঙ্গল আশঙ্কায় বুক শুকিয়ে আসছে মিলিনার।
হোসেন আলীর জন্য মঙ্গল কামনায় মিলিনা তায়াম্মুম করে নামাজ পড়তে বসলেন।
ওযু করতে কলপাড়ে যাওয়ার সাহস হলোনা। একটা গা ছমছমে ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে তিনি দু রাকাত নামাজ পড়লেন। হোসেন আলীর জন্য আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে প্রার্থনা করলেন। সাথে প্রতিদিনের মত বললেন তাদের এবারের সন্তান যেন মেয়ে হয়। হোসেন আলীর মেয়ের বড় শখ। মিলিনার পর পর তিন ছেলে হওয়ায় হোসেন আলীর শখ অপূর্ণ রয়ে গেছে।
হোসেন আলীর জন্য অপেক্ষা করতে করতে মিলিনা আজ রাতে খাওয়ার কথা ভুলে গেলেন।
ক্ষুধা আর দুশ্চিন্তায় পেটের ভেতর অস্বস্তি দলা পাকিয়ে উঠছে। আজ মিলিনা হোসেন আলীর প্রিয় কুমড়োর বড়ি দিয়ে মাছের ঝোল করেছেন। ভেবেছিলেন হোসেন আলী ফিরলে দুজনে মিলে একসাথে খাবেন। খেতে খেতে হোসেন আলী নানান ধরনের গল্প করেন। হোসেন আলীর বেশিরভাগ গল্পই রিকশার যাত্রীদের মুখে শোনা। সে সব গল্পে নিজের সাধ্য মত তেল মশলা মিশিয়ে মিলিনাকে শোনান। মিলিনা বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে দুলতে আগ্রহভরে শোনেন সে সব।

ঘুমন্ত শিশু সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে মিলিনা দুরু দুরু বুকে জায়নামাজে বসে রইলেন। হোসেন আলী এত রাতে কখনো বাইরে থাকেন না। যত রাতই হোক হোসেন আলী নিশ্চয়ই ঘরে ফিরবেন এই স্থির বিশ্বাস নিয়ে মিলিনা জেগে বসে রইলেন। মনে একরাশ ব্যাকুলতা নিয়ে বসে বসে আল্লাহকে ডাকতে লাগলেন।
মিলিনা অনেকক্ষণ একাগ্রভাবে বসে থাকার পর হঠাৎ বাইরে থেকে একটা হুড়োহুড়ির আওয়াজ হলো।
কয়েকটা কুকুর ঘুমন্ত রাজধানীর নিস্তব্ধতা ভেঙে মরন চিৎকার করে উঠলো। আর তারপরই মিলিনার মনে হলো দিগন্ত বিদীর্ণ করে গোটা আকাশটা হুড়মুড় করে শহরের বুকের উপর আছড়ে পড়লো। বিকট শব্দে নিরিবিলি রাত ভেঙে খান খান হয়ে গেলো। মুহূর্তেই চারপাশ নরক গুলজার হয়ে উঠলো।

বিরতিহীন গোলাগুলির শব্দে মিলিনার সন্তানেরা ঘুম জড়ানো চোখে উঠে বসলো। শব্দের তান্ডবে ভয় পেয়ে ওরা কাঁদতে শুরু করলো।
মিলিনা সন্তানদের মুখ চেপে ধরে ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলেন। কান ফাটানো তীব্র শব্দের ফাঁকে বস্তির ভেতর থেকে কয়েকজনের দৌড়ে পালানোর শব্দ পেলেন মিলিনা। তিনি ছেলেদের আরো শক্ত করে জাপটে ধরলেন।
এই শরীরে ছোট ছোট তিনটি সন্তান নিয়ে কোথায় পালাবেন তিনি? বাইরে বৃষ্টির মত চলছে গোলাগুলি। চারদিক থেকে ভেসে আসছে অসহায় মানুষের মর্মান্তিক আর্তনাদ। এ অবস্থায় ঘরই মিলিনার কাছে নিরাপদ মনে হলো।
মিলিনার মনে পড়লো যুদ্ধের সময় মাইয়ে মানুষ আর বাচ্চাকাচ্চার গায়ে হাত দিতি নবী করিম (সঃ) বারন করিছেন। মিলিনার সাথে মাসুম বাচ্চারা আছে। ট্যাংক-মর্টারের গোলা আর ভারি মেশিনগানের ক্রমাগত গুলির বিভীষিকায় ও মিলিনার মনে একটু সাহস সঞ্চার হলো। মিলিনা নিজের শরীর দিয়ে মৃত্যুভয়ে বিবর্ণ হওয়া সন্তানদের আড়াল করে বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
হঠাৎ মিলিনার চোখের সামনে থেকে নিশছিদ্র আঁধারের পর্দা সরে গিয়ে গনগনে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলে উঠলো। গান পাউডার দিয়ে দেয়া আগুনে মুহূর্তে বস্তির ছোট ছোট ঘরগুলো পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। কোন অপরাধে এমন পরিনতি হলো তা ভাবারও অবকাশ পেলেন না কেউ। প্রায় সাড়ে চারশো ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মিলিনা আর মিলিনার সন্তানেরাও চোখের পলকে জ্বলন্ত অঙ্গারে পরিনত হলেন।

সপ্নের এ জায়গায় এসে হোসেন আলীর গোঙানি শুরু হলো। তিনি গো গো করে কাটা মুরগির মত ছটফট করতে লাগলেন।
আজকাল এ দুঃসপ্নটা প্রায়ই দেখেন হোসেন আলী। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দুঃস্বপ্নটাই হোসেন আলীকে বাঁচিয়ে রেখেছিলো,হাতে অস্ত্র তুলতে সহায়তা করেছিলো। হোসেন আলী মুর্খ মানুষ,তিনি ভাষার দাম বোঝেন না। তিনি শুধু উপলব্ধি করেছিলেন নিজের এবং অন্যদের প্রিয়জন হারানোর ভয়াবহ শোক।
যুদ্ধ করতে গিয়ে হোসেন আলীর এক পায়ে গুলি লেগেছিলো। ডানদিকে ঝুঁকে একটু খুড়িয়ে হাটতে হয় হোসেন আলীকে। গুলিটা বেরিয়ে গিয়েছিল বলে হোসেন আলীর পা টা বেঁচে গিয়েছে। এখনো মাঝেমাঝে গুলি খাওয়া জায়গাটা টনটন করে। বিশেষ করে শীতকালে।

মঞ্জুর ধাক্কায় হোসেন আলীর ঘুম ভেঙে গেলো। নানা বাড়ি থেকে মঞ্জু আগেই চলে এসেছে। মঞ্জু নিজের চোখেই দেখে গেছে হোসেন আলীর শরীরটা বিশেষ ভালোনা,এ অবস্থায় নানাবাড়িতে মঞ্জুর মন বসেনি।
ঘুমিয়ে ওঠার পর হোসেন আলীর শরীরটা ঝরঝরে হয়ে গেলো। তবে দুঃসপ্নের রেশ এখনো হেসেন আলীর দুই চোখে জড়িয়ে আছে।
কয়েকজন যুবক এসেছে চা খেতে। হোসেন আলী নিষ্প্রাণ দৃষ্টিতে দেখলেন তাদের। মঞ্জু ইতিমধ্যেই কেটলিতে চায়ের পানি বসিয়ে দিয়েছে।

চা খেতে খেতে যুবকদের মধ্য থেকে একজন হঠাৎ শীস বাজালো। হোসেন আলী বসে বসে ঝিমাচ্ছিলেন। হঠাৎ শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখলেন পনেরো ষোল বছরের দুটি মেয়ে ভয়ে জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে আছে আর যুবকেরা ওদের পথ আটকিয়ে দাড়িয়ে আছে। মেয়েগুলো ভয়ার্ত মুখে এদিক ওদিকে তাকাচ্ছে।
মেয়েদুটির উদ্দেশ্য যুবকদের ছুড়ে দেয়া মন্তব্যে হোসেন আলীর কান ঝা ঝা করে উঠলো। মেয়ে দুটির ভয়ার্ত মুখ দেখে হঠাৎ হোসেন আলীর মাথার ভেতরটা কে যেন সাড়াশি দিয়ে এঁটে ধরলো। হোসেন আলী দোকান থেকে নেমে যুবকদের দিকে এগিয়ে গেলেন।
হোসেন আলীকে যুবকেরা পাত্তা না দিলেও তিনি একজন যুবকের হাত ধরে বললেন, বাপ, মনি দুটারে ছাইড়ে দ্যাও। উরা তো তোমাগের বুন।
যুবকেরা হোসেন আলীর কথা শুনে হাসতে লাগলো। এ ধরনের বাধাকে তারা সরাজ্ঞান করে। যুবকদের একজন হোসেন আলীকে আরো ভড়কে দিতে একটা মেয়ের ওড়না ধরে টান দিলো। মেয়েটি চোখের দৃষ্টিতে মর্মঘাতী নালিশ জানিয়ে হোসেন আলীকে বললো,চাচা আমাগের বাঁচান।
যুবকদল এ কথায় আরো মজা পেলো। কিন্তু হোসেন আলীর মাথায় এখনো দুঃসপ্নের রেশ। তিনি দেখছেন একটা স্বাধীন দেশের জন্য জন্য তার ছোট ছোট সন্তানেরা দাউদাউ আগুনে পুড়ছে,পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
একজন যুবকের হাত ধরে হোসেন আলী হঠাৎ অত্যন্ত কাতর,দুঃখিত গলায় বললেন,বাপরে,এই দ্যাশটারে স্বাধীন বানাবার জন্যি আমার ছোট ছোট বাচ্চাগুলো আগুনে পুড়িছে,পোয়াতি বৌ টা পুড়িছে। বাপ, এই স্বাধীনতারে তোরা অপমান করিসনে। এদেশের মানুষ মেলা কষ্ট করি এই স্বাধীনতা পেয়িছে।
যুবকেরা মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে হোসেন আলীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলেন। ধাক্কা খেয়ে হোসেন আলী টাল সামলাতে না পেরে অবসন্ন ভাবে ধুলোর উপর বসে পড়লেন।

মঞ্জু মুখের পেশী শক্ত করে এতক্ষন সব দেখছিলো। এবার একটা বড় বাশের লাঠি নিয়ে লাফ দিয়ে দোকান থেকে নেমে এলো। মঞ্জুকে দেখে মনে হলো একটা লুকানো অঙ্গার হঠাৎ যেন হাওয়া পেয়ে দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো। পাকা যোদ্ধার মত লাঠি ঘোরাতে ঘোরাতে মঞ্জু যুবকদের উদ্দেশ্যে হুংকার ছাড়লো, তোরা যাবি না এই বাঁশ তোগার মাথায় ভাঙবো?
হোসেন আলী অবাক হয়ে মঞ্জুর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
মঞ্জুর চোখে জ্বলে ওঠা চেতনার আগুনে হোসেন আলী হঠাৎ বুঝতে পারলেন তার চারটি সন্তানের বিনিময়ে পাওয়া চার অক্ষরের সাধীনতা বিফলে যায়নি। বিফলে যেতে পারেনা।