একজন প্রবাসী দেশকে যতটা উপলব্ধি করতে পারে ততটা হয়ত অন্যকেউ পারে না! এই গল্পে একজন প্রবাসীর দেশের প্রতি ভালবাসা আর স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ পেয়েছে।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ জুলাই ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - বাংলাদেশ (ডিসেম্বর ২০১৯)

নিঠুর বেদনা
বাংলাদেশ

সংখ্যা

Hasan ibn Nazrul

comment ১  favorite ০  import_contacts ৬৭
ভাষা যখন প্রাণ হারায়; হারায় যখন তার বাকশক্তি। নিঠুর নিস্তব্ধতা ঘিরে উছলে উছলে পড়ে শত কথা; শত ভালবাসার উক্তি।
ক্ষেতের পাশে সারি সারি তাল গাছ আর দিগন্ত পানে তাকালে ধনুকের জ্যায়ের মত হালকা বাঁকানো গাছ-গাছালির তৈরি ধনুক বলে মনে হয়। সরিষা ক্ষেতে হলুদাভে ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ। ফাঁকা মাঠের ভিতর দিয়ে দূ...রে তাকালে একটা ছোট্ট কুঠির নজরে আসে। সেই কুঠির চক্ষু মুদে দেখলেই সাগর শিহরিত হয়। স্যান্ডেল জোড়া হাতে নিয়ে ক্ষেতের আইল দিয়ে কলপাড়ে হাতমুখ ধুয়ে বারান্দার দিকে হাটলেই কানে আসে_
বাজান, আমার জন্য মিষ্টি আনবা কিন্তু।
-হুম। আনবোনে। এখন পড়তে বয় দেখি।
দোচালা ঘরের ছোট্ট বারান্দায় একটি মাদুর পেতে ছেলেটি পড়তে বসে। কি জানি কি পড়বে! ওর মনে তো পড়া থেকে মিষ্টি খাওয়ার আনন্দই বেশী। বাবা মনে মনে ভাবে ছেলে আমার বড় হবে অনেক বড় হবে। দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।
কেমন জানি স্মৃতিগুলো ভাবতেই ভাল লাগে,আর তনুমন পুলকিত হয় বারবার। মনপাখি যেন গেয়ে উঠে,

❝লাল পাহাড়ির দ্যাশে যা
রাঙা মাটির দ্যাশে যা
হেথায় তুকে মানাইছে নাই গ..., ইক্কেবারেই মানাইছে নাই গ...।❞

গ্রাম গাঁয়ের মুদি ময়রা আর ছন-খড়ের ছাওনি দেওয়া দোকানঘর আহ! দেশের অনন্য মুখ যেন এই।
চায়ের দোকানে বন্ধু মহলে এক আনন্দঘন মুহূর্ত! এ যেন বাংলার চির চেন মুখ। চায়ের দোকানে গল্প করতে করতে__
-রানা বলল, কিরে দ্যাশ-গাঁয়ের জন্যি তোরা কেউ কিছু ভাবিস-টাবিস তো নাকি? দেশের জন্যি তো আমাদের কিছু করন লাগব নাকি?

-দেশের ভালবাসার কি আছে? দেশ তো দেশই নিত্য আমাদের যা ঘটে এই নিয়ে জীবন আমাদের, আলাদা করে আবার দেশকে নিয়ে ক্যামনে ভাবেরে?
-বুঝবি একদিন বুঝবি, যখন সময় হবে তখন ঠিকই বুঝবি।
আজ বড্ড মনে পড়ে 'সাগরের' সেই সব কথা। সত্যিই সময় না হলে কেউ বোঝে না।
'আসলে প্রিয় জিনিস কোন কালেই প্রিয় মনে হয় না যতকাল না তার থেকে দূরে অবস্থান করে তার বিরহ সহ্য করা যায়' এটা সরল মনের সহজ উক্তি সাগরের৷ সাগর এই কথাগুলো ভাবছিল, দুপুরে খাওয়ার সময়ের অবশরে; কড়া রোদে বসে ঐ সুদূর আরব-আমিরাতে বসে!
আজ কেন জানি ছোট্ট দোচালা ঘরটাও ভালবাসার কণা মনে হয়, কর্দমাক্ত রাস্তাটাতেও আদরে হাটতে মন চাই। মন চাই দেশের মানুষের মুখে একটু বাংলা ভাষা শুনি আর বুকটা জুড়ায় পরমানন্দে।
দেশ যে পরম ধন আমার দেশ যে প্রিয় রতন! কে বুঝিবে এই বেদনা আমারই মতন?
নিঠুর বেদনা ভরা মনে চাই উড়ে গিয়ে ছুঁয়ে দেয় প্রাণ প্রিয় দেশকে। তক্ষুনি বাস্তবতায় হুমড়ি খাই আর নিঃশব্দে নির্গত হয় একফোঁটা কেমন অনল...
আর ডি,এল, রায়ের সেই প্রিয় গানটি কানে বাজতে থাকে...

❝এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না'ক তুমি,
সকল দেশের রানী সে যে
আমার জন্মভূমি.., ও'
সে আমার জন্মভূমি।❞

দুপুরের খাবার শেষ করে উদাসিনতা কাটিয়ে চোখের জল মুছে আবার কাজে লাগল সাগর। আর মনে মনে গুনগুনিয়ে গাইতে লাগল...
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি.....

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement