আমি বলব না ধন্য ধরায়,
আমি এক ছিন্ন মুকুল,
তবে,
জীবনের লীলা খেলায় নিজেকে মাঝে মাঝে
বড়ই অবাঞ্চিত মনে হয়।

একটি ফুল বাগান বা ফসলের মাঠ,
ফুল ফসলে মনোহর,
কিন্তু
আগাছার বলিষ্ঠ উত্থানে,
বিনষ্ট, বিচলিত ফুলের সেই স্বাভাবিক সৌন্দর্য।

হয়তবা হতাশায় না হয় অভিপ্রায়,
বন্ধু আমার জিজ্ঞাসিল- জীবন কি?
বলতে পারো?
দিতে পার কি জীবনের সংঙ্গা?
সাধ্য কি আছে তাই মহাকাব্যের মহিমায়
বলে দিতে পারি তার উত্তর।

আমি হয়তবা জীবনের প্রকৃত সংজ্ঞা দিতে পারব না,
তবে আমার বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি,
আর
জীবন নাট্যের নাট্য মঞ্চে মঞ্চস্থিত অভিনয় টুকু
তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

ছেলে বেলায়-
গাঁয়ের অবারিত সবুজ আর
মনোহরিনি, সুশীতল পরিবেশে দুষ্টুপনা,
সমবয়সীদের সাথে মিশে অবলিলায়
চিন্তাহীন, মুক্তপ্রাণে, ছেলেমি খেলাচ্ছলে সময় কাঁটাতাম।
ভাবতাম- এটাই জীবন।

সারাদিন ক্লান্ত কৃষক মাঠে,
বিকেলে কেনাবেচার প্রয়োজনে হাটে,
সকালের উষা নবীন দিবসের ডাক,
সহজ সরলতায় সামান্য গড়লতায়
গ্রামীন জীবন পরিপূর্ণ,
হয়তো- এটাই জীবন।

অভাব অনটন কত কি প্রয়োজন-
সব কিছু আয়োজনে ব্যস্ত সবাই।
এটা আছে ওটা নাই, কোথা গিয়ে খূজে পাই,
হাহাকারে কাটে ক্ষণ, সুখ পিপাসু এই মন।
মধ্য বিত্তের চিত্তকে জানায় আলিঙ্গন।
গুনী জনে কহেন “সংসার ধর্ম বড় ধর্ম”
জটিল নিয়মের বাস্তবতার হাতুরি দর্পে
ভেঙ্গে চুরে চৌচির, আবার শান্ত।
নতুন আশায় গড়ে ওঠে নতুন স্বপন-
হয়তো- এটাই জীবন।

পিছনের পিছুটানে মোহের মায়াটানে
বিত্তের চিত্তকে হাতের লাঠি করতে,
জীবন কে আরাম আয়েশের বস্তু গড়তে,
স্বপ্ন একটাই-“উচ্চ শিক্ষা”
কিন্তু
সময়ের পরিক্রমায় জীবনের অর্ধেকটাই পার।
আর হয়তো- এটাই জীবন।

চলার চলতি পথে সামাজিকতার টানে
মিশে যাই সবার সাথে সমান তালে,
প্রকৃতিগতভাবেই জুটে যায় বন্ধুত্ব,
হারিয়ে যাই-
অজানা ভালবাসা নামক নতুন এক জগতে,
যেখানে পাওয়ার প্রাপ্তি যতটা তার থেকে
হারানোর বেদনা নেহায়েত কম নয়।

তবুও ভালবাসায় মন ভাসে
উদাসীন পালতোলা নাবিকহীন নৌকার মত,
সেখানেই যেন সকল সুখ আবার সকল বাঁধা।

সকল তৃপ্তির মাঝে যেন গুপ্ত তুষে আগুনে পড়ে,
কুড়ে কুড়ে গড়ল পান করা।
হয়তো- এটাই জীবন।

শিক্ষা জীবন শেষে অনিশ্চিত স্থায়িত্ব,
বেকারত্বের দহন জ্বালা দিবিনিশি,
চোখে অমানিশার অন্ধকার,
তবুও
অন্ধকার কেটে উষার ভোর দেখার লোভে,
দু’চোখ প্রতিনিয়ত চাতকের দায়িত্ব পালন করে।
বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরন,
হয়তো আমিই শেষ অবলম্বন,
শুধু স্বপ্ন আকাশ সম,
কিন্তু
হতাশার বাস্তবতায় দিশেহারা নাবিকের
কঠিন বরফে টাইটানিক চূর্ণতার নামান্তর।
তবুও
ছোট নৌকায় প্রাণ বাচানোর আকুতি,
কিন্তু নিরুপায়,
যেখানে লক্ষাধিক জনসমূদ্র, সেখানে
সামান্য ডিঙ্গি নৌকা কতটুকুই বা ভরসা দিতে পারে।
সেই তো হাল ছেড়ে মৃত্যুর প্রহর গোনা।
হয়তো এটাই জীবন।

মাঝে মাঝে শহরের কোলাহলে,
ইট পাথরে গড়া কৃত্তিম নগরে,
বিষন্নতায় দিন কাটে।
উচু তলার ভদ্র সমাজে তাকালে নিজেকে
ক্ষুদ্র, তুচ্ছ, দীন মনে হয়।
আবার
যখন রাস্তার পাশে জরাজীর্ণ,
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানহীন
বিবর্ন মানুষ নামের অবহেলিত জীবদের দেখি,
তখন মনে হয়-
বিধাতার অপার মহিমায়, তার দয়ার সাগরে ডুবে,
এই তো বেশ আছি।
মেনে নিতে হবে অসমান নিয়তির লিলাখেলা,
হয়তো এটাই জীবন।

চাকুরিকালে বনবাসী মন,
বৈরি আবহাওয়ায় পরাধীনতার গ্লানি,
স্বৈরাচারী শোষকের শোষন চাবুকে প্রষ্ট যখন গা,
তখন বিবেকের দংশনে প্রতিনিয়ত,
বসের অনিষ্ট কামনা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
নিরুপায় হয়ে পাঠাবলি নচেৎ অন্যত্র গমন,
সীমাহীন পাথারে তরীহীন ডুবু ডুবু ভ্রমণ।
সেথায় নিজ ইচ্ছার দেশান্তরি বসের মনোরঞ্জনে,
মনে বিষন্নতা তবু চশমগিরি নিবেদিত প্রানে।
আবার
যেথায় সহযোগিতার মিলন মেলা ,
কর্মে মূল্যায়ন-
সেথায় যেন তৃপ্তির হলিখেলা,
আর আনন্দ আয়োজন।
ভাল আর মন্দে- মিলন আর দন্ধে,
হয়তো বৈরিতায় না হয় ছন্দে কর্মে অবিচল।
মানসিক ছন্দের দন্ধে কেটে যায় কর্মজীবন।
আর হয়তো এটাই জীবন।

পৃথিবীর পরম্পরায় জীবনের গতিধারায়,
এক সময় নিজের কাঁধে সংসারের হাল,
বিয়ে,
অতপরঃ
ছেলে ছিলাম বাবা হলাম,
এ যেন চিরচেনা এক রুপ।
যেখানে সকলের সাথে মিশে,
সকলের খুশিতে মন হাসে,
আবার
দুঃখ বেদনায় সমব্যাথী।
আছে অভিযোগ, আছে অভিমান
আর আছে মায়ের মত পরশ পাথর,
সুবিশাল বটছায়ের তুল্য বাবা,
ভাই বোন স্ত্রী সন্তান আরুও কত আত্বীয়তার বন্ধন,
ভাঙ্গা গড়ার মিল বন্ধনে চলছে অবিচল।
হয়তো এটাই জীবন।

উচু-নিচু, আশা-নিরাশা
প্রাপ্তি আর না পাওয়ার মিল বন্ধনে-
এক সময় আর সময় থাকে না-
নিতে হয় চির বিদায়,
আর…..হয়তো এটাই জীবন।