হাসান হকার

শীতের সকাল (জানুয়ারী ২০২৪)

মোঃ আব্দুল মুক্তাদির
মোট ভোট ২৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৯৮
  • ১১০
কি গো তোমরা যাবে নাকি বদরগঞ্জে?--স্বামীর মুখ থেকে কথাটা শুনে চুলার দিক থেকে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল সামিরা।
বাবার কথা শুনে রাজিয়া রান্নাঘরের কাছে এসে বলল, কোথায় যাবে বাবা?
বাবা বলল, এইতো ছুটিতে দাদার বাড়িতে যাবার প্ল্যান করছি।
বাবার কথা শেষ হওয়ামাত্র রায়হান বলল,বাহ এবার তো অনেক মজা হবে। গতবার দাদু বলেছিল আরেকদিন থাকলে আমাকে মেলায় নিয়ে যেত। মার জন্য সেবার বেড়াতে যাওয়া হয়নি।
রায়হানের মা সামিরা বলল, হ্যাঁ তোমাকে যেতে দেই, আর তুমি চাচাকে বিরক্ত কর...
সে বলল, কেন আমি দাদুকে বিরক্ত করব? আমি কি ছোট আছি?
মা বলল, ওসব তুমি বুঝবে না। একে তো আমরা ওখানে গিয়ে অনাহুতের মত থাকি। না জানি চাচী কিভাবে আমাদের দেখেন? তার উপর তোমাদের আবদার তো চাচাকেই মেটাতে হয়...
রাজু বলল, আরে সামিরা, ওসব অত ধরলে কোথাও যাওয়া হবে না। আমার সাথে বেড়াতে চাইলে ওসব দূরে রাখতে হবে। ...কি বলছ তুমি সামিরা, যাবে নাকি?
সামিরা ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল, চল তবে যাওয়া হোক।

রাজুর বাবার বাড়ি বদরগঞ্জে। চাকরিসূত্রে তাকে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতে হয়। সুযোগ পেলে কখনো কখনো বদরগঞ্জে যায়। প্রতিবছরই যে যায় তা নয়। তার বাবা অনেক আগেই বদরগঞ্জ থেকে এসেছেন। রাজুর এক চাচা এখনও বদরগঞ্জে থাকেন। তিনি গ্রামে বাড়ি করেছেন নতুন করে। কিন্তু রাজু যদি কখনো গ্রামে যায় তবে তার দাদার পুরাতন বাড়িতে থাকে। তবে আলাদা বাড়িতে থাকলেও তার চাচা চাচী তাদের ভালই খেয়াল রাখেন। সে এবার ঠিক করল ছুটিটা গ্রামেই কাটাবে।

দুইদিন পর। রাজুরা আজকে গ্রামে এসেছে। এখানে আসতে তার খারাপ লাগে না। বিশেষ করে এখানকার লোকজন যখন ছোটবেলার গল্প করে তখন তার ভালই লাগে। আজকে এসেই ওরা চাচার বাড়ি থেকে ঘুরে এল। আগেই খবর দেয়া ছিল। চাচা চাচী কাজের লোককে দিয়ে পুরাতন বাড়ি পরিস্কার করে নিয়েছেন। তাকে কয়দিন থাকতেও বলেছেন। গ্রামের বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়স্বজনের আনাগোনাতে বিকেল আর সন্ধ্যা দারুন কেটে গেল তাদের।

সেদিন রাতের বেলা। রাজু রায়হান আর রাজিয়াকে নিয়ে ঘরে বসে আছে। সামিরা বাহিরে থেকে এসে বলল, তোমরা এখন কিছু খাবে নাকি? ঈশিতা না কি যেন নাম, ওকে বলব গরম পানি করবে?
রাজু বলল, চা খাবার জন্য?
সামিরা বলল, হ্যাঁ, খুব শীত লাগছে আমার।
রাজু বলল, আরে তোমার চা খেতে মন চাইছে তুমি খাও। আমি আর কিছু খাব না।
সামিরা বলল, ঠিক আছে। শোন, চাচী ওদেরকে ঈশিতার সঙ্গে যেতে বললেন। চাচা ওদের চাচা ডেকেছেন।
রাজু ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে বলল, যাও।
ছেলেমেয়েরা খুশি হয়ে ঘর থেকে চলে গেল। রাজু ঘরেই শুয়ে থাকল। অনেকক্ষণ পরে ঈশিতার গলার আওয়াজ পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসল। সামিরা বলল, কিছু লাগবে নাকি?
রাজু বলল, না, এমনি আসলাম এখানে।
সে একটা টুল খুঁজে এনে তাতে বসল। ছোটবেলার কথা মনে পড়ল তার। আগে যখন এখানে মাঝে মাঝে আসত তখন রাতের বেলা চাচী এখানে রান্না করতেন। সে রান্নাঘরে এভাবে টুল নিয়ে বসে থাকত।
একটু পরে সে মেয়েটাকে বলল, তোমার নাম ঈশিতা?
মেয়েটা বলল, হ্যাঁ
রাজু বলল, কোন পাড়ায় বাড়ি?...প্রশ্নটা করেই হেসে নিয়ে বলল, আমি আবার তোমার ঠিকানা জেনেই বা কি করব? তোমার মত বয়সের কাউকে মনে হয় চিনব না। তোমার বাবা কে?
মেয়েটা বলল, আকবর আলী।
রাজু বলল, তোমার বাবার নাম শুনেছি।
রান্নাঘরের পাশে দেখিয়ে রাজু বলল, সামিরা, এখানে মনে হয় একটা ঘর ছিল...
রাজুর কথা শুনে ঈশিতা বলল, ভাই, আপনি মনে হয় অনেকদিন এখানে আসেন নি।
রাজু বলল, হ্যাঁ...
ঈশিতা বলল, এই ঘর ৪ বছর আগে ভেঙ্গে গেছে। চাচা ওখানে খড়ি রাখত।
রাজু বলল, হ্যাঁ... লোক থাকে না, কে আর ঘর ঠিক রাখে বল...
সামিরা বলল, বাবা এখানে তেমন আসেন না।
রাজু বলল, বাবা আসলে তেমন গ্রামে থাকেন নি। অনেক কাজ নিয়ে থাকেন। আমার মত অত ঘোরার সময় নাই।

রাতের খাবার সারতে সারতে দশটা বেজে গেল। রাজুর চাচী রাজিয়া আর রায়হানকে সঙ্গে করে নিয়ে আসলেন। ওরা ওখানে খেয়ে এসেছে। শুনে রাজু বলল, আহা চাচী, আপনি আবার ঝামেলা করতে গেলেন কেন? ঈশিতা তো এখানে রান্না করেইছে।
চাচী বললেন, আরে ছেলে, তোরা এখানে আসিস না বলে কি আমি তোদের আমার লোক মনে করিনা? এরা কি আমার নাতি নয়?
রাজু মাথা ঝাকিয়ে বলল, আমি তা বলছি না...তোমার ঝামেলা হয়েছে তাই বললাম...
চাচী রাজুর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, কেন? তোরা না আসলে আমি কি সব ঝামেলা সেরে বসে থাকতাম?
রাজু বুঝে গেল আর কিছু বলা ঠিক হবে না। চাচী মন খারাপ করতে পারে।

পরদিন রাজু সবাইকে নিয়ে একটু গ্রাম ঘুরতে বের হল। গ্রামে শীতের শুষ্ক পরিবেশ ভালই লাগছিল সামিরার। একবার বর্ষার মাঝে এসেছিল। সেসময় কাদা আর পানিতে একেবারে মাখামাখি অবস্থা হয়েছিল তার।
হাঁটতে হাঁটতে দুই একজন পরিচিত লোকদের সাথে কুশল বিনিময় হচ্ছিল রাজুর। এমন সময় একজন লোককে দেখে রাজু পথের একপাশে দাঁড়িয়ে গেল। লোকটা মোটরসাইকেলে চড়ে আসছিল। সেও রাজুকে দেখে মটর সাইকেল থামাল। বলল, আরে রাজু ভাই নাকি? আসসালামু আলাইকুম।
রাজু বলল, ওয়ালাইকুম আসসালাম। কেমন আছেন আপনি স্যার?
লোকটা বলল, আমি ভাল ভাই। কবে এলেন?
রাজু বলল, কালকে...
লোকটা বলল, কয়দিন থাকবেন?
রাজু বলল, এইতো ৫-৬ দিন।
লোকটা সামিরাদের দিকে তাকিয়ে বলল, এনারা নিশ্চয়ই...
রাজু স্যারের কথা শেষ করতে না দিয়ে বলল, আমার স্ত্রী আর ছেলেমেয়েকে নিয়ে একটু হাঁটছি স্যার।
স্যার সামিরার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, কেমন আছেন আপনি?
সামিরা "ভাল আছি" বলেই ছেলেমেয়েদের দিকে তাকাল, বলল, এই ওখানে থাম। আমরা আসি।
স্যার এবার রাজুর দিকে তাকিয়ে বললেন, রাজু ভাই, আপনাদের দেখে খুব ভাল লাগল। আসেন একদিন আমার গরিবের বাড়িতে।
রাজু বিনয়ের সাথে বলল, দেখি স্যার যাব ঘুরতে ঘুরতে।
স্যার আবার একবার সামিরা আর ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে মটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে চলে গেলেন।
সামিরা বলল, উনি এখানকার টিচার?
রাজু প্রশংসার সুরে বলল, হ্যাঁ হাসান ভাই এই গ্রামের ছেলে। বদরগঞ্জ হাই স্কুলের টিচার।
সামিরা বলল, বাহ, স্যারের তো ভাগ্য ভাল। যেখানে বাড়ি সেখানে চাকরি।
রাজু বলল, ভাগ্য ভাল কি না জানিনা। তবে তুমি তো জান না। উনি কত পরিশ্রম করেছেন এককালে। খুব কষ্টে কেটেছে তার কৈশোর। আমি তো শুনেছি ওর বাবা চলে যাবার পরে নিজের খরচে উনি লেখাপড়া করেছেন। খবরের কাগজ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।
সামিরা বলল, বুঝলাম।
রাজু বলল, এতদিন পরে তাকে দেখে ভাল লাগল।

সেদিন সন্ধ্যার পরে হাসান স্যারের বাড়িতে হাজির হল রাজু। সঙ্গে সামিরা আর ছেলেমেয়ে। হাসান স্যার ওদের দেখে বিস্মিত আর খুশি হলেন। বললেন, রাজু ভাই, আপনি এসেছেন আমি খুব খুশি হয়েছি।
স্যার ওদেরকে ভিতরে নিয়ে বসালেন। বললেন, ভাই গরিবের বাড়ি, কিছু মনে করবেন না।
রাজু বলল, আপনি আমাকে আপনি করে বলছেন কেন? আমি আপনার ছোট হব।
স্যার একটু হেসে বললেন, আরে... বয়সে ছোট হলেই তুমি করে বলতে হবে? আপনি যদি আমার চেয়ে অধিক সম্মানের যোগ্য হন, তবে আপনাকে সম্মান দেয়া আমার কর্তব্য। আমি যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মান জানাতে কুণ্ঠাবোধ করিনা।
তারপর সামিরার দিকে তাকিয়ে বললেন, ম্যাডাম তো আমার চেয়ে অনেক ছোট। কিন্তু আমি তাকে ম্যাডাম করে সম্বোধন করব। তিনি আমাদের গ্রামের অতিথিসদস্য।
রাজু বলল, তা সে যাই হোক স্যার, আপনি আমাকে আপনি বলতে পারবেন না।
স্যার হেসে বললেন, ঠিক আছে।
রাজু দরজার দিকে তাকিয়ে বলল, বাড়িতে আর কাওকে দেখছি না...
স্যার বললেন, আমার মা থাকে ঐ ঘরে।
এসময় সামিরা বলল, আপনার স্ত্রী? কোথায় তিনি?
স্যার একবার রাজু একবার সামিরার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে ম্যাডাম।
হাসান স্যারের মুখের প্রতিক্রিয়া দেখে রাজু বুঝতে পারল প্রশ্নটা করা বোধহয় ঠিক হয়নি। সে বলল, তেমন কিছু না স্যার, বাড়িটা চুপচাপ দেখছি, তাই বললাম আরকি...কিছু মনে করবেন না...
স্যার মুখে আবার হাসি এনে বললেন, আরে না না... তুমি আমার গ্রামের ছেলে। বলতে গেলে গ্রাম সম্পর্কের ভাই। তোমার বাবা শহরে সেটল হয়েছেন বলে তুমি তো আর পর নও, তুমি এই প্রশ্নটা করতেই পার।
রাজু বলল, আপনার চাকুরি কেমন লাগছে?
স্যার বললেন, যা চলছে তাতেই আমি খুশি ভাই। দিনটা ভদ্রভাবে যাচ্ছে...
রাজু বলল, আপনি স্যার আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বাবার টাকা ছাড়াও নিজের পরিশ্রমের জোরে সমাজে যে ভদ্রভাবে থাকা যায়, আপনি তার উদাহরণ।
স্যার বললেন, ওটা তেমন কিছু না। আচ্ছা যা হোক, আজকের রাতে এখানেই খাও তোমরা।
রাজু বলল, না স্যার আপনাকে ঝামেলায় ফেলার কোন ইচ্ছা আমাদের নেই। ঈশিতা আমাদের জন্য রান্না করে রেখেছে।

পরদিন সকালবেলা। সামিরা ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় আসল। পৌষ মাসের মাঝামাঝি। অনেক কুয়াশা পড়েছে আজকে। চারিদিকে সাদা হয়ে আছে। বারান্দার গেটের দিকে চোখ পড়ল সামিরার। সেখান থেকে চোখ গেল দেয়ালের দিকে। একটা লাল গোলাপ দেখতে পেল সে। অবাক হয়ে কাছে গিয়ে ফুলটা হাতে নিল সে। ওমা! তার নিচে আবার একটা কাগজ ভাঁজ করা! সামিরা কাগজটা খুলে দেখল-----------

"শীতের মতই কোমল তুমি"

ব্যাপার কি?! এসবের মানে কি?! সে ঘরে গিয়ে রাজুকে সব জানাল। রাজু বলল, দেখে তো চিঠি মনে হচ্ছে...বাপরে এই গ্রামে আবার এমন রোম্যান্টিক নায়ক কবে আসল? রাজু হাসতে লাগল।
সামিরা বলল, হাসছ কেন?
রাজু বলল, ঈশিতার নায়ক এখানে এসে পড়ল নাকি?
সামিরা বলল, ঐ মেয়েটা এই বয়সে এই ফাঁদে পড়েছে?
রাজু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে কি যেন ভাবল। তারপর বলল, রাজিয়ারা কি করছে?
সামিরা বলল, ওরা এখনো ওঠেনি।
রাজু কিছুটা চিন্তিত হয়ে বলল, রাজিয়াকে কেউ পছন্দ করল নাকি!?
সামিরা বিরক্ত হয়ে বলল, তুমি কেন যে ওদের এখানে আনলে?
রাজু বলল, আরে আমি তো তোমাকে এমনি বলছি, তুমি সিরিয়াস হয়ে গেলে? ওদেরকে এখানে না আনলে সবসময় কি ঘরে রাখব? আচ্ছা চিঠি আর গোলাপটা কে রাখতে পারে?
সামিরা বলল, রাতের বেলা কেউ রেখে গেছে। আচ্ছা গেট কে খুলে দিল?
রাজু হাসি নিয়ে বলল, আরে আমাদের আঙিনাতে তো গেটই নাই। খুলে দিবে কে?
সামিরা বলল, তাই তো
রাজু বলল, এজন্যই যে কারো পক্ষেই আঙিনাতে ঢুকে বারান্দায় আসা সম্ভব।
সামিরা বলল, বাড়িতে গেট নাই কেন?
রাজু বলল, আগে ছিল। ভেঙে গেছে। বাড়িতে কেউ থাকে না। গেটের কারো দরকার নাই। আচ্ছা, তোমাকে কেউ এই গোলাপ দেয় নি তো?----রাজু হাসতে লাগল। বলল, তোমাকেও দিতে পারে। যদিও মা হয়ে গেছ। তবে সুন্দরী আছ বটে।
রাজুর রসিকতা সামিরা কোনমতে হজম করে বলল, এহ...সুন্দরী...আশা করি তোমাদের গ্রামে তোমার মত অভদ্র আর দুটি নাই যে গ্রামের পুত্রবধুকে এমন চিঠি দেয়? মনে হয় তুমি গ্রামের বন্ধুদের সাথে ঘুরে কিছু নেশা করেছ?
রাজু বলল, আরে রাগ করছ কেন?
সামিরা হঠাৎ ভ্রু কুচকে রাজুর দিকে তাকাল। বলল, এই...এই... দাঁড়াও ...তুমি সব বাদে গ্রামে এলে কেন? এবার বুঝেছি।
রাজু বলল, কি বুঝেছ?
সামিরা বলল, তোমার প্রাচীন প্রেমিকা অনেক দিন পরে তোমাকে দেখতে পেয়ে এই চিঠি দিয়েছে।
রাজু বলল, আরে আমি যখন গ্রামে থেকেছি তখন ছোট ছিলাম। সেই প্রেমিকারা কি এখন এখানে আছে? ওদের কবেই বিয়ে হয়ে গেছে।
সামিরা দাঁত চেপে বলল, নিশ্চয় তাদের সাথে খুব মজা করেছ?
রাজু বলল, মজা আর হল কই? বাবা তো আমাদের নিয়ে চলে গেল।
সামিরা বলল, নিয়ে গেছে বেশ করেছে।
রাজু বলল, ঈশিতা হোক আর রাজিয়া হোক ছেলেটা ভীরু আর প্রাচীনকালের। এই সময়ে কেউ এসব করে?
সামিরা বলল, অথবা রোম্যান্টিক হতে পারে।
রাজু বলল, আমরা মনে হয় ব্যাপারটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। একটা ভীরু ছেলের চিঠিকে এত গুরুত্ব দেয়ার দরকার নাই।

পরদিন সকালবেলা। সামিরা ঘর থেকে বাহিরে এসে বসল। আবার গতকালের মত একটি ফুল ও কাগজ! আজকে লেখা-----

"শীতের মত রহস্যময়"

রাজু সব দেখে বলল, বাপরে একে ভীরু বলেছিলাম। এ তো দেখছি অধ্যবসায়ীও।
সামিরা বলল, মানে?
রাজু বলল, ও কি একটা বলতে চাইছে। সেটা না বলে প্রতিদিন ইনিয়ে বিনিয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে।
শুনে সামিরা কিছু বলল না।

সেদিন বিকেলবেলা। সামিরা চিঠিটা হাতে নিয়ে দেখতে লাগল। রায়হান কখন যে এসে পড়েছে সে বুঝতে পারেনি। রায়হান বলল, মা ওটা কার চিঠি?
সামিরা চমকে উঠে দেখল ছেলে কখন যেন এসে পড়েছে। সে এতক্ষণ ভাবছিল চিঠিটার কথা ওদের জানাবে কি না। ছেলে যখন দেখে ফেলেছে সে সব বলে ফেলল। এসময় ঘরে ঈশিতা আসল। বলল, ভাবি আজকে কি রান্না হবে?
সামিরা বলল, ঈশিতা এখানে বসতো...
ঈশিতা কিছুটা অবাক হয়ে বসল।
সামিরা বলল, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব, কিছু মনে করো না। চাচা চাচী বা কাউকে বলবে না কিন্তু।
ঈশিতা বলল, ভাবি এত অনুরোধ করতে হবে না। ঠিক আছে বলেন।
সামিরা আমতা আমতা করে বলল, তুমি কি কারো সাথে...মানে...কেউ কি তোমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়?
ঈশিতা কথা শুনে উঠে দাঁড়াল। বলল, বলেন কি ভাবি?! আমি?
সামিরা ওর প্রতিক্রিয়া দেখে বুঝতে পারল ওকে সব খুলে বলতে হবে। তাকে ধীরে ধীরে সব বলে দিল।
ঈশিতা বলল, আমি তো কিছু বুঝছি না।
সামিরা বলল, তুমি কাউকে কিছু বল না।
ঈশিতা বলল, আপনি বলতে বললেও আমি বলব না।

পরদিন সকালবেলা বারান্দায় আবার একটি ফুল আর চিঠি পেল সামিরা। এবার লেখা---------------

"শীতের মত রুক্ষ আমি"

সেদিন রাতের বেলা। সবাই একসাথে ঘরে বসে আছে। রাজিয়া আর রায়হানের মাঝে মিল থাকলেও কথার লড়াই চলে মাঝে মাঝে। রায়হান ক্লাস সেভেনে আর রাজিয়া নাইনে। বাবা মাকে চুপ থাকতে দেখে রায়হান বলল, বাহরে আপু তুই তো একটা দারুন কাজ করেছিস...
রাজিয়া সন্দেহের সুরে বলল, মানে?
রায়হান বলল, এই তো গ্রামে এসে লাভারবয় জুটিয়ে ফেলেছিস! না জানি তুই আরও কজনকে নাকানি চুবানি দিবি...
বাবার সামনে যদিও তারা সিরিয়াস কথা বলে থাকে, তবে আজকে যেন তার তেজটা একটু বেশি হয়ে গেল।
রাজিয়া চিৎকার করে বলল, রায়হান, চুপ কর। বাবার সামনে এ কি বলছিস?
রায়হান বলল, আমি কি ভুল বললাম? লুকিয়ে প্রেম করে কি হবে? সত্যি করে বলনা।
ঠাস!---রাজিয়া কিছু বলে উঠার আগে সামিরা ছেলের গালে চড় বসিয়ে দিল। বলল, এহ...কত বেয়াদব হয়েছিস তুই, বাবা মা বড় বোনের সাথে কি যা তা বলছিস?
রাজু দেখল সামিরা রাগে ফুঁসছে। রায়হান গালে দিয়ে বলল, স্যরি মা, স্যরি আপা। আমি শুধু মজা করছিলাম...
রাজু পরিবেশটা বদলানোর জন্য বলল, আমার কিন্তু ভালই লাগছিল। কেমন সিরিজের মত লাভলেটার আসছে।---বলেই কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে গেল সে। তারপর চিৎকার দিল---"ইউরেকা ইউরেকা!" সামিরা তাড়াতাড়ি সব চিঠি নিয়ে এস।
বাবার এমন উচ্ছ্বাস দেখে রায়হানের সব রাগ চলে গেল। সামিরা রাজুর দিকে তাকিয়ে বলল, পাগল হলে না কি?
রাজু বলল, চিঠি তিনটা আনো।
সামিরা বলল, ওসব আমি ফেলে দিয়েছি।
রাজু বলল, কেন?
সামিরা বলল, কেউ যেন আর ওটা দেখতে না পারে।
রাজু বলল, ঠিক আছে। ফেলে যখন দিয়েছ... একটা কাগজ কাগজ কলম দাও।
সামিরা এনে দিল। রাজু রায়হানকে বলল, বাবা তোর চিঠিগুলোর ভাষা মনে আছে?
রায়হান বলল, কিছু মনে আছে।
রাজু বলল,বল দেখি
রায়হান বলল, শীতের মত কোমল...রহস্যময়...রুক্ষ তুমি
খিক...খিক... রায়হানের কথা শুনে রাজিয়া হাসতে লাগল। মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, হয়নি...
রাজু মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, মা তুই বলতো
রাজিয়া বলল, শীতের মত কোমল তুমি, শীতের মত রহস্যময় আমি।
রাজু বলল, মনে হচ্ছে কিছু ভুল হল...ইসস সামিরা তুমি কেন ওগুলো ফেলে দিলে?
রাজু সামিরার দিকে তাকাল। সে উঠে জানালার কাছে গেছে। বাহিরের দিকে তাকাল সে। ওদিকে তাকিয়েই বলল,তোমার মনে হচ্ছে ওগুলোর খুব দরকার?
রাজু বলল, দরকার মানে কি একটু দেখতাম...
সামিরা জানালার দিকে তাকিয়ে থেকেই বলল, লিখে নাও, আমি বলছি...
"শীতের মত কোমল তুমি
শীতের মত রহস্যময়
শীতের মত রুক্ষ আমি"

রাজু বলল, হ্যাঁ তাই। আরিব্বাস! সামিরা তুমি তো একেবারে...
রায়হান বলল, বাবা তুমি কিছু আবিষ্কার করলে?
রাজু কাগজের দিকে তাকিয়ে বলল, ঠিক আবিষ্কার নয়, সেরকম কিছু। এই যে দেখ। পরপর তিন দিনের চিঠি একত্র করলে বোঝা যায় এটা সিরিজ লাভলেটার। আমি নিশ্চিত আরও চিঠি আসবে।
রাজিয়া বলল, বলছ কি বাবা?
সামিরা বলল, আরও আসবে মানে?
রাজু বলল, কলেজে থাকতে কবিতা নিয়ে কিছু পড়াশোনা করেছিলাম। তাতে বুঝতে পারছি প্রথম দুটো চিঠিতে সে প্রেমিকার গুন বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে ভাবের উপস্থাপন শুরু করেছে। তার পরের চিঠিতে সে নিজের কথা প্রকাশ করতে শুরু করেছে। আমার মতে তার ভাব প্রকাশ এখনো শেষ হয়নি। মানে চিঠি আরও আসবে।
রায়হান বলল, কিন্তু বাবা সে দিনে দিনে চিঠি না পাঠিয়ে একদিনে পাঠালেই তো পারত?
রাজু বলল, তা পারত। তবে আমার মনে হয় সে এমন এক লোক যার এ বাড়িতে আসতে কোন অসুবিধা হয় না।
সামিরা বলল, এমনভাবে বলছ মনে হচ্ছে ঐ লোককে তালা খুলে আসতে হয়। বাড়ির উঠানের গেট নাই। বারান্দা পর্যন্ত যে কেউ আসতে পারে।
রাজু বলল, সেটা ঠিক সামিরা। তবে বারান্দা পর্যন্ত সবাই আসতে পারলেও, চিঠি দেবার সাহস সবার হবে না।
রায়হান বলল, বাবা লোকটার কি ফুলের বাগান আছে?
রাজু বলল, কেন? প্রতিদিন ফুল দিচ্ছে বলে?
রায়হান বলল, হ্যাঁ প্রতি সকালে এত ফুল সে পাচ্ছে কিভাবে?
রাজু হেসে বলল, বাগান থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
রাজিয়া বলল, আচ্ছা বাবা একটা লোক প্রতিদিন এসে কাগজ আর ফুল রেখে যাচ্ছে কেউ তাকে দেখতে পাচ্ছে না। কোন ভূত নয় তো?
রায়হান ভয় দেখানোর ভঙ্গিতে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ দুনিয়ার সব ভূত এবার তোকে চিঠি দিচ্ছে। দাঁড়া এবার তোর ভূতের শ্বশুরবাড়ি হবে।
ছেলের কথা শুনে রাজু বলল, তোরা আবার লেগেছিস?
বাবার কথা শুনে রায়হান চুপ করে গেল।

রাতের বেলা রায়হান আর রাজিয়া শুয়ে আছে। রায়হান আগের রাগ ভুলে আবার মজা শুরু করল। বলল, আপা তুই কি ভূতে বিশ্বাস করিস?
রাজিয়া বলল, তুই করিস?
রায়হান বলল, না
রাজিয়া বলল, তবে কেউ কেউ বলে ভূত দেখতে পাওয়া না গেলেও ভূতের অস্তিত্ব আছে।
রায়হান বলল, আচ্ছা আপা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করলে হয় আস্তিক আর না বিশ্বাস করলে হয় নাস্তিক। তাহলে ভূতের বিশ্বাসের বেলায় কি হবে? ভূস্তিক আর নুভূস্তিক?
রাজিয়া বলল, কি জানি।

পরদিন সকালে আবার একটা চিঠি এল----

"কখনো কাছের হবেনা জানি"

এবার চিঠিটা পেল রাজু। বলল, সামিরা তুমি ঘুম থেকে উঠতে দেরি করেছ। এই দেখ আজকের চিঠিটা আমি পেয়েছি। কিন্তু লোকটাকে দেখতে পারিনি। আমি যা বলেছিলাম তাই!। এটা একটা সিরিজ লাভলেটার। আমার মনে হয় আর চিঠি আসবে না। প্রেমিকের মনের ভাব সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। ঘুম থেকে উঠে সামিরা কিছুক্ষণ চিঠি হাতে নিয়ে দেখল। বলল, আমরা কবে যাব?
রাজু বলল, এই তো কালকে।
সামিরা বলল, আমার এখানে ভাল লাগছে না। আজকে চল না।
রাজু বলল, চাচাদের বলেছি কালকের কথা। আজকে গেলে অন্য কিছু ভাবতে পারে।

সেদিন দুপুর বেলা। খাবার শেষ করার পরে সামিরা বারান্দায় বসে পড়ল। আনমনে তাকিয়ে আছে বাহিরের দিকে। রাজু দেখল সামিরা কেমন যেন নিষ্প্রভ হয়ে আছে। তার মনে হয় এখানে আর একেবারেই ভাল লাগছে না।

পরদিন রাজু, সামিরা ছেলেমেয়েকে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসল। গাড়ি ছেড়ে দিল। সামিরা বাহিরের দিকে তাকাল। অনেকক্ষণ ধরে আনমনা হয়ে তাকিয়ে থাকল সে। অতীত দিনের কথা একের পর এক মনে পড়ছে তার। তখন ক্লাস নাইনে পড়ে সে। তাদের ১ তলা বাড়ির সামনের দিকের একটা ঘরে থাকত সে। বাবা মা থাকত পূর্ব দিকের একটা ঘরে আর সামিরা থাকত পশ্চিম দিকের ঘরে। দুটো ঘরের সামনে ছিল গ্রিল ঘেরা বারান্দা। গ্রিলের মেইন গেট খুলে প্রতিদিন বাবার বারান্দায় পত্রিকা দিয়ে যেত এক তরুন হকার। বাবা তাকে ডাকত হাসান হকার। ছোটবেলা থেকেই খুব সকালে ওঠার অভ্যাস ছিল সামিরার। উঠে নিজের ঘরের বারান্দায় কিছুক্ষণ বসত সে। সেদিন ছিল সাদা কুয়াশায় ঢাকা। চারিদিকে কিছু দেখার ছিল না। তার চোখ গেল দেয়ালের দিকে। দেখল একটা গোলাপ!। কাছে গিয়ে আশেপাশে তাকাল। কোথাও কেউ নাই। বাহিরের গেট বন্ধ। সে গোলাপটা হাতে তুলে নিল। ওমা তার নিচে একটা ছোট কাগজ। তাতে লেখা----
"শীতের মত কোমল তুমি"
সামিরার কাছে এটা ছিল অপ্রত্যাশিত। তাকে গোপনে প্রেম নিবেদন করার মত কেউ আছে কিনা মনে করতে পারল না। পাড়ার কেউ কি একাজ করেছে? নাম ঠিকানা কিছুই লেখা নাই। ধ্যাত এতসব ভেবে লাভ নাই। সে কাউকে কিছু জানাল না। পরদিন সকালে বারান্দায় আবার এসে বসল সে। গতকালের মত আবার একটি চিঠি আর গোলাপ পেল সে। আজকের চিঠিতে লেখা----
"শীতের মত রহস্যময়"
তার এবার হাসি পেল। এ তো লাভ লেটার! ধাপে ধাপে দিচ্ছে। তার মনে হল পাড়ার কোন ছেলে একাজ করছে। বাবাকে বলতে গিয়ে বলল না। দেখা যাক আর কি হয়। পরদিন আবার একটি ফুল আর চিঠি এল। তাতে লেখা-----
"শীতের মত রুক্ষ আমি"
সামিরা এবারও কাউকে কিছু জানাল না। তবে ঠিক করল এবার পত্রবাহকে ধরে ফেলবে। সামিরা সেদিন খুব সকালে উঠল। দিনের আলো ফুটতে এখনো দেরি আছে। ঘরের লাইট নিভিয়ে জানালার পাশে বসে থাকল। বারান্দার দিককার জানালার পাল্লায় একটা ফুটো আবিষ্কার করেছে সে। তার পাশে একটা চেয়ার নিয়ে বসে পড়ল। কতক্ষণ বসে থাকতে হবে কে জানে? একটু পরপর চোখ লাগিয়ে দেখতে লাগল সে। ফজরের নামাজ শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির সামনে দিয়ে নামাজী লোকরা হেঁটে যাচ্ছে। একটু পরে মেইন গেট খোলার শব্দ পাওয়া গেল। সামিরা জানালার ফুটোতে চোখ রাখল। হাসান হকার এসেছে। বাবার বারান্দার দিকে গেল সে। তারপর আশেপাশে তাকিয়ে সামিরার বারান্দার দিকে আসতে লাগল সে। সামিরার বুক ঢিবঢিব করতে লাগল। হাসান হকার তার বারান্দার দিকে কি করতে আসছে? পকেটে হাত ঢুকাল সে। পকেট থেকে একটা গোলাপ আর কাগজ বের করল। সেটি রাখল সামিরার বারান্দার দেয়ালে!। সামিরা জানালা থেকে সরে গেল। হকার চলে যাবার পরে সে বারান্দায় গিয়ে কাগজটা দেখল। আজকে লেখা----
"কখনো আমার হবে না জানি"

'এই সামিরা'----রাজুর ধাক্কাতে বর্তমানে ফিরে আসল সামিরা।
রাজু বলল, আরে কি অত ভাবছ? সেই কতক্ষণ ধরে বাহিরে তাকিয়ে আছ...
সামিরা বলল, না তেমন কিছু না।

১ মাস কেটে গেল। সেদিন দুপুর বেলা। সামিরা কাজ সেরে বসে আছে। ছেলেমেয়েরা এখনো ফিরেনি। রাজু অফিসে আছে। কুরিয়ারে চিঠি এসে পৌছল। সামিরার নামে। সামিরা অবাক হয়ে চিঠিটা হাতে নিল। এই সময়ে কে আবার চিঠি লিখে? সে চিঠি খুলল---
সম্মানিত সামিরা ম্যাডাম,
আমার শুভেচ্ছা গ্রহন করবেন। আমাকে ক্ষমা করবেন। অনেক সময় ব্যয় করে আপনার বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করলাম। ইচ্ছা হল সরাসরি কথা বলি। কিন্তু আপনার এবং আমার সময় বের করা কঠিন মনে হল। আপনাকে ফোন করতে পারতাম। তবে পরিস্থিতি তাতে জটিল হতে পারে মনে করলাম। অগত্যা এই চিঠি। আশা করি এতে আপনাদের সাংসারিক জীবনে যদি ঝামেলা ঘটে থাকে তবে তার নিরসন হবে।
ম্যাডাম, আপনি আমার কথাগুলো মন দিয়ে পড়লে আমার সুবিধা হত। আমি আপনাকে আমার প্রেমিকা কখনো বলিনি। সেই তরুন বয়সে জীবিকার জন্য যখন আপনাদের শহরে যাই, তখন উদ্দেশ্য ছিল যেকোন প্রকারের একটা সৎ কাজ করে খরচ চালাতে হবে। তখন হকারের কাজটা পেয়ে যাই। ঘটনাক্রমে আপনাদের বাড়ি গিয়ে এক শীতের সকালে আপনার দেখা পাই। ম্যাডাম আমার মুখের ভাষার জন্য ক্ষমা করবেন। আমি দেখলাম চারিদিকে সাদা কুয়াশা। তারি মাঝে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখলাম সাদা মেঘের মাঝে এক অপার্থিব স্বপ্নকন্যা!। সেই তরুন বয়সে আমি এত পাগল হলাম যে মাঝে মাঝে আপনকে স্বপ্নে দেখতে পেলাম। কিছু ছেলেমানুষি চিন্তা আর সেই বয়সের পাগলামি চেপে বসেছিল মাথায়। তাই অমন কাজটা করেছিলাম। তারপর সংগ্রামময় ব্যস্ত রুটিনের চাপে আপনার কথা প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম। একদিন আপনাকে আমাদের গ্রামে দেখতে পেয়ে আবার তরুন বয়সের পাগলামি পেয়ে বসেছিল। আমার বারবার মনে পড়ছিল সেই হাসান হকারের কথা। সেই দিনগুলোর কথা মনে করে বারবার নস্টালজিক হয়ে পড়ছিলাম। আবার সেই দিনগুলোকে ফিরে আনতে চেয়ে এই অকাজটা করেছি। তবে আপনারা চলে আসার পর থেকে মনে হচ্ছে এই বয়সে এমন কাজটা করা অপরাধ হয়েছে। আপনার স্বামী সংসার হয়েছে। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন। বদরগঞ্জে এলে আমাদের বাড়িতে আসার আপনাদের নিমন্ত্রণ রইল।
ইতি,
আপনার ক্ষমাপ্রার্থী
হাসান মাস্টার।

১ সপ্তাহ কেটে গেল। সেদিন ছুটির দিন। হাসান স্যার সকালবেলা বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন। কুয়াশায় ঢাকা চারদিক। বসে থেকে ভাবছেন সামিরা কি তার চিঠির উত্তর দিবে? তিনি অবশ্য তার চিঠির উত্তরের প্রত্যাশা করেন না। সেরকম কোন অনুরোধও তিনি করেন নি। তাহলে তার মন সামিরার উত্তরের অপেক্ষা করছে কেন? তিনি কি এখনো সামিরাকে ভালবাসেন?---
অনেকক্ষণ বসে থাকতে থাকতে ঝিমুনির মত এসে গেল। সেই অবস্থায় তিনি দেখতে পেলেন কুয়াশা ভেদ করে তার বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে সামিরা!। হাতে গোলাপ এবং একটা খবরের কাগজ। তার ঘুম ছুটে গেল। সামিরা সত্যি তার কাছে এসেছে?! উফফফ...কি মায়াময় সৌন্দর্য বিরাজ করছে সামিরার মাঝে। হাতে একটা গোলাপ ধরিয়ে দিল সে। তারপর কাগজ খুলে বলল, এই দেখ হাসান হকার আজকের পেপারে কি লিখেছে?
হাসান স্যার তাড়াতাড়ি পেপার হাতে নিয়ে দেখলেন, বড় বড় অক্ষরের শিরোনামে লেখা-----"অবশেষে সামিরার ভালবাসায় সিক্ত হাসান হকার"
ঝপ!.........টিনের চালে কিছু একটা পড়ার শব্দে দিবানিদ্রা ছুটে গেল হাসান স্যারের...
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

এক কুয়াশাময় সকালে সামিরার রূপে বিভোর হয়ে পড়ে হাসান। সেইদিনগুলোর কথা মনে করে এখনো নস্টালজিক হয়ে যায় সে।

১১ জুন - ২০১৯ গল্প/কবিতা: ২০ টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৯৮

বিচারক স্কোরঃ ২.২২ / ৭.০ পাঠক স্কোরঃ ২.৭৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "মুক্তির গান”
কবিতার বিষয় "মুক্তির গান”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারী,২০২৪