বগার নয়নে খরার সময়ে
কোথা হতে আসিয়াছে এত জল।
এদিক ওদিক তাকাই কোথাও মেঘপুঞ্জ নাই,
তবু কেন গাল বেয়ে চলছে বৃষ্টি কোলাহল ।
জিজ্ঞেস করলাম বগা রে,
করছিস কেন তুই এইরকম অশ্রু খেলা।
সুখের সময়ে সাগরে তুলেছিস ঢেউয়ের মেলা ।
বগা কহে, কেমনে কস্ তুই সুখের সময়,
বাহির হইতে কেহ কি বুঝতে পারে,
অন্তর ফাটে মোর কিসের জ্বালায় ।
আমি দুঃখের সাগরে পতিত হইয়া
কেমন কইরা পাই সুখে রে ।
গোপনে আঁখিলোচন মুছে ফেলিয়া,
সুখের আলো মন খুঁজে রে ।
কহে মন চারিদিক নির্জন,
নাহি কেহ হাত ধরে তুলিবার।
শ্বাস লইতে কত কষ্ট হয়,
দুঃখের মোহনায় সবাই কি ছাড়িয়া যায় ।
গতকালের শোরগোল আজিকে নিঝুম।
গতকালের সুখ আজিকে দিয়েছে ঘুম ।
কম্পিত হৃদয় করিতেছে শোরগোল অন্তরে,
আঁখি দুটি চাহিয়া রহে কাহার আশায় দূরে ।
জানি না মুই ভৃত কম্পিত হৃদয় লয়ে,
কি করিয়া থামাইব এই সাগরের ঢেউ ।
কেমনে মুক্তি পাইব এই বিপদ হতে ,
চারিদিক নির্জন, নাহি রে এখানে কেউ ।
ধন্য মোর জীবন এ ভুবনে জন্ম লইয়া ,
প্রভুর সাজানো সংসারে পাইয়াছি বহু অভিজ্ঞতা ।
হয়ত আজি মোর অন্তিম দেখা এ ভুবনের মহিমা ।
উপায় নাই বন্ধ আঁখি, চলিতে রহে অপেক্ষারত শ্বাস ।
কখন যেন হারিয়েছি চেতনা, হারিয়েছি বাচার প্রয়াস ।
যদ্যপি আঁখি খুলি, দেখি সেই একই আসমানের লীলা ।
শুধু বদলে গেছে ভুবনের রূপ নতুন করে বাঁচার খেলা ।
এ দুনিয়া এমনে সাজে, সুখ সাগরে সকলেই পাশে ।
দুঃখ সাগরে পতিত হইলে, সকলে ব্যস্ত আপন কাজে ।