গোধূলি যখন রঙিন নেশায় রঙ ছড়ালো অবেলার পথে
রবিটাও রক্তিম আভায় পাল গোছালো সায়াহ্নের নায়ে
সান্ধ্য পাখিরা নীড়ের খুঁজে পাখা মেললো নীলিমার বুকে
আমিও তখন মনপবনের নাও ভাসিয়েছি
দিগন্তের দিকে l
যখনই দিগন্তের নীলে পাখা মেললাম স্বপ্ন ছড়াবো বলে
গোধূলির আভা ধীরে ধীরে আঁধারের কোলে রঙ হারালো
রঙহারা স্বপ্নগুলো আঁধারের ক্যানভাসে তোমাকে পেলো
তুমি আমার হাতটি ধরলে নিশির নির্জনে
দুজনে মিলে আঁধারের গায়ে স্বপ্ন আঁকবো বলে l

সেই থেকে শুরু -
হাতে হাত রেখে চলা,চোখে চোখে কথা বলা
গগনে তখন পিদিম জ্বলেছে,জোনাকি সাজিয়েছে বাসর
আঁধারের ক্যানভাসে রঙ ছড়িয়েছে পূর্ণিমার পসর
যখনই দীঘির জলে জলকেলিতে মগ্ন হংসমিথুন
তখনি তোমার আমার স্বপ্ন বুনেছে মায়াবী শিশির প্রহর l

তারপর ! কতকাল গত হলো -
কত আঁধার! কত ভোর!
কত রৌদ্রউজ্জ্বল দুপুর পেরিয়ে গেলো
কখনো গ্রীষ্মের খরা, কখনো শরতের শুভ্রতা
কখনো বর্ষার ধারা, কখনো বসন্তের ছোঁয়ায় জীবনের পূর্ণতা
আজও আঁধারের ক্যানভাস হাসে তোমার আমার স্বপ্নিল ছোঁয়ায়
আজও প্রহর স্বপ্ন বুনে তোমার আমার রঙিন কাঁথায়
আজও আমার হাতটি থাকে তোমার হাতের মুঠোর'পরে
আজও আমার আঁখি নীড়ে তোমার ভাষা খেলা করে l

হঠাৎ সেদিন মৃদু হেসে প্রহর বলে -
আর কতদিন ! জীবন এবার সায়াহ্নের কোলে অস্তাচলের ভেলায়
আমি বললাম, তাই বুঝি !
তুমি বললে, ভালোই হলো -
এবার দুজন দুজনের হাতটি ধরে
চোখে চোখ রেখে
হারাবো অনন্ত ধামে
একসাথে পথ চলবো অনন্তের প্রহরে l