ডায়েরির পাতা থেকে মুছে যাওয়া দিন কেটে নিয়ে তুলে দিয়েছি তোমার আকাঙ্ক্ষায় ।
আমার চোখে তাই এখনো স্বপ্নের ঘোর লাগা।
আমাকে এই বিশল্যকরণী বৃক্ষের নীচে ফেলে রেখে পিতা চলে গেছেন তাঁর স্বপ্নের সন্ধানে।
সে কথা এতাবৎ কাউকে বলিনি –
অনুতাপে দগ্ধ আমি সেই থেকে স্থির এইখানে এবং তথাগত চারপাশ জুড়ে ঈশ্বরের মেঘলা বাগান।
যেখানে অন্ধকার পার হলে চোখে পড়ে সুদূর প্রান্তর, মানুষের ধান্যক্ষেত্র – হরিৎ উত্তাপ।
বস্তুত, এইসব আমার খেয়ালে গড়াপেটা।
আমার পায়ের চাপে প্রোথিত কর্দম, তারপর ঘাসফুল, ললিতকলার মতো আজীবন উড়ে চলা নিষ্ঠাবান শিশু প্রজাপতি।
এতদূর লিখে রেখে কবি চলেছেন অন্ন আহরণে।
নবাবগঞ্জ, তক্ষশীলা, সমতট , কান্যকুব্জ,মগধ, বিক্রমপুর অথবা গান্ধার।
ইতিহাস খুঁড়ে যদি পাওয়া যায় সেসব সুষুপ্ত চেতনাকে।
আমি সে অচেতন এক উলঙ্গ তীর্থিক – ইতিহাসবেত্তা নই- কেবল সন্ধান করি,
যে কৃষক কবিতা লেখে লাঙলের ফাঁকে উপ্ত বীজে।
যে মানুষ গান বাঁধে, নতুন শষ্যের গান তাদের সৃজনে -- ঠোঁট রাখে আমার উচ্চারণ।
তিনি যখন ফিরে এলেন – তখন বল্মীক ঘিরেছে লিপিবদ্ধ ধূলি তাঁর। আর কী আশ্চর্য!
পৃথিবীর সব তৃণ শষ্য হয়ে ফুটে আছে নতুন অন্নের আশায়।