গাছে গাছে পত্র-পল্লবে কুয়াশায় মাখামাখি
সাদা কাজলে রাঙ্গা পৃথিবীর আঁখি,
শুকনো পাতার মর্মর-ধ্বনি বাজে
যান্ত্রিক তাড়াহুড়া নাই গ্রামীণ কাজে।
অবসরে ঢেকে গেছে কৃষকের মন
কুয়াশায় ঢেকেছে বাংলার জরাজীর্ণ বন,
সূর্যি মামা নিয়ম ভাঙ্গার খেলায়
মাথার উপর উঁকি মারে দুপুর-বেলায়।

হেমন্তি পিঠার আমেজ হারায় খেঁজুর-রসে
গল্পের আড্ডা জমে, বসে রোদের নিচে,
শিশির বিন্দুরা হারায় স্বপ্নের দেশে
রোদের আলোয় ঝলসানো হীরকের বেশে।
শিশির বিন্দু গাছ বেয়ে চালে টাপুর-টুপুর
ধোঁয়াশায় ভরা আকাশ-হয়ে গেছে উপুড়,
পাড়ায় পাড়ায় পড়ে যায় পিঠা-পুলির ধুম
কম্বলের নিচে ঘুমায় রূপকথার ঘুম।

বস্ত্রহীন রাস্তায় পড়ে, কষ্টের প্রহর গোনে
শীতের হাওয়ায়- গাছের কাঁপুনি শোনে,
শীতের প্রকোপে নিজেকে বস্তায় ভরে
খড়কুটোর আগুনে হাড় গরম করে।
জোছনার আলো বারবার ফিরে যায়
ঘন কুয়াশা বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাই,
বাংলা যৌবন হারিয়ে,আছে ঠাঁই দাঁড়িয়ে
বাসন্তী প্রহর গোনে দু'হাত বাড়িয়ে।