বাংলার পথ-ঘাট-মাঠ
প্রতিটা ঘরে-নীড়ে,
স্পর্শ লেগে আছে আমার গন্ধ-ছন্দ।

আমি লেগে আছি, কৃষকের প্রতিটা
ঘামের ফোঁটায়, কৃষাণীর পথচাওয়া ঘোমটায়।
আমি ভুলিনি- অনাহার, ক্ষুধার্ত, ঋণে জর্জরিত
কৃষক, কৃষকের সাধনা।

আমি আনন্দ, কৃষকের ঘামে
কৃষাণীর ঢেকি-ছাঁটা চালে
প্রেয়সীর নিমন্ত্রণে, নীল খামে।

রোদে পোড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, শীতের প্রকোপে
আমাকে লালন করে, তবুও কেন অশ্রু ঝড়ে!

আমি অশ্রুতে নয়, আনন্দে
বেঁচে থাকতে চাই
বাঙ্গালীর হৃদয়ে, বাংলার বুকে।

শহুরে বাতাসে আমি নাই
বুদ্ধিজীবীর বুলিতে, ইট-পাথুরে টকশোতে
আমাকে নিয়ে টানাটানি-বাড়াবাড়ি, বিচার চাই!

আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে চান?
বুকে ধারণ করতে চান?
তবে আমাকে নয়, কৃষকদের বাঁচান
তাদের শ্রম, ঘাম, কষ্টের মূল্য দিন।

আমি বেঁচে যাব, আবার ফিরে আসব
পিঠার গন্ধে, গ্রাম্য তরুণীর ছন্দে
নকশী কাঁথায়, কৃষাণীর ভালবাসায়।