আমি কতবার বলেছি তুমি আমার গায়ে হাত দিয়ে কথা বলবেনা। কিন্তু সাজ্জাদ আমার কথা কিছুতেই শুনেনি। বরঞ্চ সে আমাকে বলেছে, টিনেজার বয়সের ছেলে মেয়েরা একটু এমনি হয়। বিপরীদ লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ থাকে। হয়তো তোমার সেটা এখনো হয়ে উঠেনি।
মা শুনলে রাগ করবে তো।
আরে সব বিষয়ে মাকে টানছ কেন? সব বিষয় কি মাকে জানালে হয়? তাহলে তোমার মতে স্বামী-স্ত্রীর কথা মা-বাবাকে জানানো দরকার। 
আমরা স্বামী-স্ত্রী নাকি?
সাজ্জাত অনেকক্ষণ ভেবে বলে, আচ্ছা তুমি এক কাজ করো?
কি কাজ?
তুমি প্রতিদিন যা করবে আগে থেকে ভেবে পরিকল্পনা করে রাখবে আর রোজ তোমার মাকে বলে আসবে আজ তোমার রুটিন কেমন হবে। তাহলে দেখবে তুমি বাসায় ফিরতে দেরি করলেও তোমার মা, তোমার জন্য আর চিন্তা করবে না।
তার মানে?
তোমার মা, তোমার সব রুটিন জানবে আর অনুভব করতে পারবে, তোমার কোন কাজে কত সময় লাগবে।

একদিন আমি আর আমার মা বসে টিভি দেখছিলাম। সেইদিন এক ধর্ষণের খবর টিভিতে প্রচার হলো, তথন মার কি যেন একটা বুদ্ধি আটকালো মাথায়। সেই আমাকে ধর্ষণ সম্পর্কে জ্ঞান দিতে লাগলো। সত্যি কথা বলতে সেই দিন আমার খুব লজ্জা লেগেছিল কিন্তু আমার মা আমাকে বলল, তোমাকে বাঁচতে হলে তোমাকে জানতে হবে। মা আমাকে এমন ভাবে বুঝাতে শুরু করল আমি যেন এক অবুঝ শিশু। মার কথা শুনে আমিও শিশু হয়ে মাকে প্রশ্ন করলাম, নগ্নতা আর অশ্লীলতা কি একই জিনিস?
তখন আমার মা আমাকে আবার বলতে শুরু করলেন, যখন এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তখন মা-মেয়ে অথবা বাবা-ছেলে থাকে না। তখন হয়ে যায় বন্ধুত্বের সম্পর্ক। মা-মেয়ের সম্পর্ক নিযে কখনো এসব আলোচনা করতে নেই। আর যখন এই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তখন তাকে বন্ধু ভাবতে হবে। তাহলেই না, তোমার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আর যদি তুমি তোমার সমস্যা নিযে নিরব থাক  তবে সমাধান হবে কি করে? মানব শিশু জন্ম থেকেই নগ্ন। পোশাকের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তার অশ্লীলতার কার্য কলাপ।
মায়ের কথা শুনে একটু খারাপ লেগেছিল আবার ভালোও লেগেছিল। বাস্তবতা এমনই হয়। সব সময় মা-বাবার সাথে বন্ধুত্ব সূলভ ভাবে কথা বললে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। 

এই সমস্ত পোষাকে তোমাকে না আজ খুব সুন্দর লাগছে। কথাটি আমার একদম পছন্দ না। কেননা এইসব কথা তারাই বলে যারা ইভটিজার, যারা মা বোনকে সমান চোখে দেখে। তাদের মুখে মানায় এইসব কথা। সাজ্জাদ আমাকে কতই না বলেছে এই সব পোষাক পড়তে কিন্তু আমি তার কথা রাখিনি। কখনোই ঐ পোষাকে আমার রুচি আসে নি। আমাকে বলে, কত মেয়েরাই না এই পোষাক পরে, তোমার পরতে অসুবিধা কোথায়? 
সবার রুচি তো আর এক হয় না। সবার রুচি যদি একই হতো তাহলে আজ পৃথিবীতে সকল মানুষ একই পোষাক পরিধান করত। আমি ওর কথা রাখতে পারিনি। আমার সাথে ওর যখনই দেখা হতো আমি দেখতাম ও শুধু অন্য মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকত। খাটো ফিটিং পোষাকের মেয়েদের দিকে তার আকর্ষণ থাকত বেশি। আমি ওকে ফিরাতে চাইলেও ও আমার দিকে তখন ফিরেও তাকায় নি। বরঞ্চ বলত, আমার একটি কথাও তুমি রাখনি। তোমার সাথে আমার সম্পর্ক করা ভুল হয়েছে। তোমাকে বাদ দিয়ে অন্য মেয়েদের সাথে সম্পর্ক করলে হয়তো বা মনকে শান্তি দিতে পারতাম।
সেইদিন আমি ওর প্রশ্নের জবাব দিতে পারিনি। ধীরে ধীরে ও আমার থেকে আলাদা হতে থাকে। আমাকে আর সময় দিতে চায় না। এক সময় আমার আর ওর সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবুও আমি ওর কথা শুনিনি। আমার বান্ধুবীরা আমাকে অনেক কথাই বলেছে। ওদের কথা অসহ্য লাগত নিজের কাছে ।
আমিও একদিন হতে চেয়েছিলাম ওর মত করে নিজেকে সাজাতে। কিন্তু হলো না আমার সেই সব পরিকল্পনা। মৌ নামের এক মেয়ে আমাকে বলে, আজকাল ভালবাসা নয়, দেহ ব্যবসায় করতে পারলেই তুমি ঠিকে থাকবে কিছু পুরুষ শাষিত সমাজে। আর যদি না পারো তাহলে হবে অবজ্ঞা নারী। আমাকে দেখছ না। আমি তাদের হাতরে নাচানো পুতুল। আজ আমার খাওয়া-দাওয়ার, টাকা-পয়সার কোনো অভাব নেই। কিন্তু একটাই অভাব তাহলো মান সম্মানের। আমাকে দেখে সবাই তামাশা হাসি ঠাট্টা করে, রাস্তায় চললে শিষ বাজায়, কত অশ্লীল কথা বলে। তুমি যার জন্য এই সব করবে দেখবে তার চাহিদা পুরণ হলে সেই একদিন তোমাকে দুরে ঠেলে দিবে। তখন হয়তোবা তুমি আমার মতই হয়ে যাবে। 
আমিও সেইদিন প্রতিজ্ঞা করলাম, জীবনে এমন বন্ধু থেকে দুরে থাকব। এমন বন্ধু আর বানাবো না। যদিও কথাটি মুখে বলা সহজ কিন্তু মনকে মানানো খুবই কষ্টকর। আমি শুনি নি ওর কথা কিন্তু ওর জন্য আমি প্রায়ই কেঁদেছি। আমিও মৌযের কথা শুনে নিজেকে অনেক মানিয়েছি, দেখেছি রাস্তায় অনেক মেয়েকে দেখে অনেকেই অনেক কথা বলেছে। দুষ্ট বন্ধুদের থেকে একাকিত্ব খুব ভাল। তবে জীবনের প্রথম বন্ধুকে কখনোই ভুলা যায় না। 

একদিন সকলে ঘুম থেকে জেগে বারান্দা্য় এসে দেখি একটি ফুলের তোড়া। আমি ভাবলাম মা হয়তো বা আমার জন্য এনে রেখেছে। আমি তাড়াহুড়া করে ফুলের তোড়াটি হাতে নিয়ে মাকে বললাম, মা তুমি আমাকে ফুলের তোড়া হাতে দিলেই পারতে, এভাবে বারান্দায় না রেখে। মা আমার কথা শুনে বলে, কে কি রাখছে আমি কি করে বলব? 
মার কথা শুনে আমি আশ্চর্য হয়ে যাই! তাহলে কে রাখল এই ফুলের তোড়া? 
মা আমাকে বলে তোর আজ জন্মদিন তাই হয়তো তোর কোন এক বন্ধু সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এভাবেই রেখে গেছে। 
সেই দিন আমার জন্মদিন ছিল। আমার সে কথা একদম মনে ছিল না। তাই আমি আর মাকে কিছুই বললাম না। কিন্তু মনের মধ্যে প্র্রশ্ন থেকে যায় কে এমন বন্ধু? যে আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এভাবে ফুলের তোড়াটি রেখে গেলো। এ কথা চিন্তা করতে করতে আমি ফুলের পাপড়ি গুলো নাড়াতে থাকি। নাড়াতে নাড়াতে হঠাৎ করে আমার পায়ের সামনে একটি কাগজ পরে, তা খুলে দেখি,
প্রিয় শশী,
শুভ জন্মদিন। তোমার দীর্ঘায়ুকামনা করি। 
তোমার ভালবাসার প্রতি আমার বিশ্বাস পূর্বেও ছিল এখনও আছে। জানতে চেয়েছিলাম তোমার মন কি চায়? তোমার মনে কি আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে কিনা? জানি না তুমি আমাকে কতটুকো বিশ্বাস করবে, তোমার সাথে আমি যে সব অশ্লীল কথা বলেছি আর অশ্লীল মেয়েদের সাথে তোমাকে তুলনা করেছি সব ছিল তোমার মনকে বুঝানো। তোমার মন কি চায়? তোমার গায়ে হাত দিতে চেয়েছি, বুঝতে চেয়েছিলাম তোমার মনের কথাগুলো। দেখেছিলাম তোমার অনুভুতি। কজন মেয়েই বা শুনে তার মা-বাবার কথা। আমি তোমার আগে অনেক মেয়েকে দেখেছি, তোমার থেকে ভিন্ন। আধুনিকতার তালে তারা আমার কাছে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন রুপে, দেখিয়েছে তাদের বাহারি সাজ। তা কখনোই গ্রহণ করিনি। আমিও তোমাকে বাজিয়ে দেখলাম তুমি অন্য মেয়েদের থেকে আলাদা। তাই বলে তুমি ভেবো না যে, আমি তোমার খোঁজ খবর নেই নি? নিয়েছি। একটি বছর তুমি কবে কোথায় গিয়েছ আমি সব জানি। আমি এও জানি তুমি আমার জন্য কেঁদেছো। আমি জানি তুমি আমাকে সত্যি আজও ভালবাস। ভুলতে পারনি আমাকে। সত্যিকারের প্রকৃত ভালাবাসার স্মৃতি সত্যিই কাঁদায়। আমার প্রতি তোমার যদি ভালবাসার এতোটুকো অঘাত বিশ্বাস থেকে থাকে তবে তুমি চলে এসো। সততার মর্যাদা আমি তোমাকে দিব।
ইতি 
সাজ্জাদ