হায়! এতটা দিন পেরিয়ে আজও বাবার জন্য কাঁদি-
কারণ আমার বাবা যে ছিল চরম মিথ্যাবাদী।
মা যেদিন আমাদের রেখে গেলেন একা
সেদিন থেকেই বাক নিয়েছে আমাদের জীবন রেখা।
বাবা বলত মা নাকি তারার ভিড়ে আছে;
আজ বাদে কাল নেমে আসবে কাছে।
তারায় তারায় মাকে খুজি;
তারার ছড়াছডি এখান থেকেই আমার বাবার মিথ্যা কথার হাতেখড়ি।
রাতের পর রাত পার হয়ে যায় হিসাব মেলাতে বাবার;
চোখ বুজে শুধু দেখে যাই, কি আছে আমার করার?
ঢুলু ঢুলু চোখে হিসাব মেলাতে,বাবার হাতে কলম ফোটে;
- বাবাকে বলি, কি করো বাবা এত রাতে?
বাবা বলে, চোখে যে নেই ঘুষ, কি করি বল?
আসলে...ওটা ছিল বাবা'র মিথ্যা কথার ছল।
স্কুলের ছুটির বেল বাজে যেই রিং রিং... বেরিয়ে দেখি,
দাড়িয়ে বাবা, হাতে আইস্ক্রিম বাবার দিকে হাত বাড়িয়ে বলতাম,
একটু মা খাও মলিন হেসে বলত বাবা,
না বাবা তুমিই নাও, আমার না গলায় ব্যাথা ঠান্ডা খাওয়া মানা ওটাও ছিল আমার বাবার নিষ্ঠুর মিথ্যাপনা।
বড় হয়ে বাবা'রে ছেড়ে এলাম শহরে
বাবা তখন মফস্বলের সেই কুড়ে ঘরে।
বাবার হাতে দেই টাকা গুজে, এবার পাকা ঘর তোলেন,
আসার দিনে বাবা আমায় সে টাকা দিয়ে বলেন,
রাখ না বাবা,মাটির ঘরেই আমার পরম সুখ
তোর না কত কী লাগে! করিস না আমার জন্য দুখ।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি, মিথ্যেবাদী বাবার চোখে চোখ রাখি.......
অনেকদিন বাদে খবর এল,বাবায় ধরেছে অসুখে
সে অসুখের চিকিৎসা নেই এদেশের মুল্লুকে।
ছুটে গেলাম বাবার কাছে, চলুন এবার বিদেশে,
সব রোগের চিকিৎসা সেথায়, ভয় কীসে?
বাবা শুকনো হাসি হেসে বলেন, তুই চিন্তা করছিস অযথা।
ওটাই ছিল আমার বাবার শেষ মিথ্যা কথা।
আজও আমি আমার দুখিনী বাবার জন্য কাঁদি,
কেননা আমার বাবা ছিল এক চরম মিথ্যাবা।