গল্পটি সুদূর ভবিষ্যতের কয়েকটি মিনিটের। সেখানে রোবটরাও অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে পারে। তবে কাহিনীটি অনেকাংশেই রূপক।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী (নভেম্বর ২০১৮)

অকুলীন
বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী

সংখ্যা

মৃন্ময় আকাশ

comment ০  favorite ০  import_contacts ২১
রাস্তা দিয়ে শখানেক রোবট লাইন ধরে হেঁটে যাচ্ছে।

কয়েকজনের হাতে প্ল্যাকার্ড, তাতে লেখা 'আমাদের দাবী মানতে হবে' কিংবা 'রোবটদেরও অধিকার আছে'। রোবটদের কয়েকজন মাঝে মাঝে উপরের দিকে ঘুষি মারছে। রাস্তার গাড়িগুলো থেমে গেছে। পথচারীরাও আগ্রহের সাথে রোবটদের মিছিলের দিকে তাকিয়ে আছে। প্ল্যাকার্ড দেখে অনুমান করা যাচ্ছে এই রোবটরা কোন একটা বিষয় নিয়ে ঘোর আন্দোলনের চেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু বেচারাদের ভাবলেশহীন চেহারা এবং আগাগোড়া নৈঃশব্দ্যের কারণে আন্দোলন খুব একটা জম্পেশ যে হচ্ছে তা মনে হয় বলা যাবে না।

আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক মধ্যবয়স্ক মহিলা। তার পেছনে একটা ক্যারিয়ার রোবট হাতে বড় বড় দুটো ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে। সে ব্যাগ থেকে মোটা মোটা লাউ আর সজনে ডাঁটা উঁকি মারছে। ক্যারিয়ার রোবটদের বুদ্ধিমত্তা নেই বললেই চলে। বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে তার মালিকের পুরো ঘটনার প্রতি যে অতিশয় আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার ছিটেফোঁটাও ক্যারিয়ারটিকে স্পর্শ করেনি।

মহিলা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "ঘটনাটা কী হচ্ছে বলুন তো।"

মহিলার একপাশে আমি আর অন্যপাশে আমার সমবয়সী আর একটি ছেলে দাড়িয়ে ছিল। প্রশ্নটা আমাদের ঠিক কাকে করা হয়েছে তা আমি বুঝতে পারলাম না, তাই চুপ করে রইলাম। তাছাড়া, ঘটনাটা যে আসলে কী হচ্ছে সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারনা আমার নেই।

তবে অন্য ছেলেটি দেখা গেল উত্তরটা জানে, "এরা সবাই তৃতীয় বা তার চেয়ে নিচের জেনারেশনের রোবট। সবাই এক হয়ে একটা বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছে। আজকে সকালেই ওদের আন্দোলনটা নিয়ে কয়েকটা নেটওয়ার্ক নিউজ করেছে, দেখেননি?"

মহিলা আফসোসের সুরে বললেন, "আমার দুই ছেলে, দু’টোই স্কুলে যায়। সকালে ওদের নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেই ব্যস্ত থাকি, খবর দেখার সময় কোথায় পাব বলেন? আজকালকার বাচ্চাগুলোও হয়েছে এক যন্ত্রণা। আমাদের অটোমেটেড কুকার, ভোর হতে না হতেই খাবার তৈরি হয়ে যায়। সেটুকু খেয়ে স্কুলে চলে যাবে, কিন্তু তা তো ওরা করবে না। আম্মু টেবিলে খাবার দাও, আম্মু পানি দাও, দেখ বইপত্র সব ঠিকমত নিলাম কি না, সাথে কম্যুনিকেটরটা আছে কি না, আম্মু পৌঁছে দাও। আর ভাল্লাগেনা।"


মিছিল এগিয়ে যাচ্ছে। রোবটদের সংখ্যা প্রথমে যা অনুমান করেছিলাম তার থেকে আর একটু বেশিই হবে বলে মনে হচ্ছে এখন। মহিলা আবার প্রশ্ন করলেন, "আচ্ছা, ওই রোবটগুলো উপরের দিকে ঘুষি মারছে কেন বলেন তো?"

"ঘুষি মারছে না। ওরা স্লোগান দিচ্ছে। হাত তুলে স্লোগান দিচ্ছে।"

"স্লোগান দিচ্ছে কেমন করে? শব্দই তো বের হচ্ছে না।"

স্লোগানের কথাটি শুনে এবার আমিও কথাবার্তায় যোগ দেওয়ার বেশ উৎসাহ পেয়ে গেলাম, "মৌন স্লোগান? প্রতিবাদের নতুন কোন সিম্বোলিক মাধ্যম নাকি? এরকম তো আগে শুনিনি!"

মহিলা বললেন, "আমিও শুনিনি। কিন্তু শ্লোগান মৌন হলে লাভ কোথায় সেটাই তো আমার মাথায় ঢুকছে না। চুপ করে কি চিৎকার করা যায়?"

অন্য ছেলেটি পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ভালোই অবগত দেখা গেল, সে সাথে সাথে আমাদের সব সংশয় দূর করে দিলো, "না না, বিষয়টা তা নয়। যা বললাম একটু আগে, এরা সাধারণ কর্মী রোবট। একেবারেই নিচু পর্যায়ের। মানুষের সাথে ওদের কোন প্রকার যোগাযোগের প্রয়োজন নেই কি না, তাই ওদের মডেলে আলাদা করে কোন স্পিকার লাগানো হয় নি। ওরা শ্লোগান ঠিকই দিচ্ছে, কিন্তু স্পিকার নেই বলে আমরা সেটা শুনতে পারছি না।"

"তাই বলুন", মহিলার কথার সুর শুনে মনে হল রোবটদের উপরের দিকে ঘুষি মারা নিয়ে তার যথেষ্ট দুশ্চিন্তা ছিল এবং সে দুশ্চিন্তা এবার দূর হয়েছে, "কিন্তু আন্দোলনটা কীসের জন্য?"

ছেলেটি কোন কারণে বিব্রতের হাসি হেসে জবাব দিল, "আসলে, রোবটগুলো তাদের মডেলে আলাদা করে স্পিকার লাগানোর জন্যই আন্দোলনটা করছে।"

অকুলীন রোবটদের মিছিলটুকু শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা দাড়িয়ে রইলাম। তারপর মধ্যবয়স্ক মহিলা বাজার নিয়ে বাড়ির দিকে চলে গেলেন, ছেলেটিও ফিরে গেল নিজের কাজে। আমি যেখানে যাচ্ছিলাম সেই 'বার্ষিক কৃত্রিম রজনীগন্ধা উৎপাদক সম্মেলন' এর দিকে পা বাড়ালাম।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement