ভালোবাসা নামক শব্দটি প্রত্যেকের মনোজগতের ছিদ্রে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আমার লেখা গল্পটিও জীবনের সাথে, আত্মার সংমিশ্রণে টুকরো টুকরো খন্ড হয়েও শুন্য পূরণ করেছে।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৪ এপ্রিল ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ২৮টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ভালোবাসার গল্প (ফেব্রুয়ারী ২০২০)

সমাপ্ত গল্পের অসমাপ্ত পর্ব
ভালোবাসার গল্প

সংখ্যা

নৃ মাসুদ রানা

comment ১১  favorite ০  import_contacts ১০২
দরজা লাগিয়েই বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলাম। আবার ডোরবেলের শব্দ। খুবই বিরক্ত হয়ে দরজা খুলেই বলতে শুরু করলাম, আপনাকেতো বলেছি সাদিয়া নামে কেউ থাকে না।
কিরে খোকা? কি হয়েছে তোর?
আম্মু তুমি!! কিছু হয়নি আম্মু।
পরের দিন। আপনি আবার এসেছেন। বলেছিতো সাদিয়া নামে কেউ থাকে না। আপনি চলে যান। আম্মু এসে পরলে অঘটন ঘটে যাবে।
হঠাৎ একদিন। এক্সকিউজ মি, হ্যালো, এই যে শুনছেন। ও আপনি! কেমন আছেন? সেদিনের আচরণের জন্য সরি।
কি বলছেন ভাইয়া? সমস্যা নেই। ভুল আমারই হয়েছে। আসলে আমি এই এলাকায় নতুন।
ও, তাই। কোথায় উঠেছেন?
ঐ ৭৬ নং বাড়ি, ২য় তালায়।
ও, আচ্ছা। বেশ ভালো।
এরপর নানান অজুহাতে বাসার সামনে ঘোরাঘুরি করা, দাঁড়িয়ে থাকা, দেখা হলেই কথা বলার চেষ্টা। বন্ধুত্বের শুরু এভাবেই।
যখন বন্ধুত্বটা খুব জোরালো হলো, যখন তাকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে ভাবতে শুরু করেছি তখনই ভাবলাম এখনই সময় ভালোবাসার কথাটি প্রকাশ করার।
সেদিন ছিলো শনিবার। সকাল থেকেই মনটা কেমন যেন আনচান আনচান করছিলো। বারবার এমনিতেই ঘাবড়ে যাচ্ছিলাম। কোনক্রমেই নিজেকে নিজের আয়ত্তে রাখতে পারছিলাম না। তবুও সেদিন পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে একগুচ্ছ গোলাপ হাতে তার সামনে গিয়েছিলাম। গোলাপগুলো হাতে দিয়ে মনের কথাগুলো বলবো এমন সময় সে হুট করে চলে গেলো।

এরপর রজনীকে অনেক ফোন অনেক মেসেজ দিয়েছি কিন্তু কোন উত্তর আসেনি। ওর বাসার সামনে দিয়েও ঘুরাঘুরি করেছি কিন্তু...।
কিছুদিন পর। একটি অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসে। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলে ওঠে ভাইয়া আপনি দ্রুত হসপিটালে চলে আসুন। প্লিজ ভাইয়া, দ্রুত চলে আসুন। আমি রাখছি।
রজনীর মা কাঁদতে কাঁদতে অপারেশন থিয়েটারের কাছে বেহুশ হয়ে পরে আছে। কাছে যেতেই রিতা এসে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো। নার্স এসে বললো, বডি নিয়ে যেতে পারেন।
সকাল থেকেই এতিমখানায় ব্যস্ত। এইদিনেই রজনী না ফেরার দেশে চলে গেছে। রজনীর রিতার কাছে দেওয়া চিরকুটে লেখা ছিলো, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। শুধু ফাঁকি দিতে চায়নি।
রজনীর নাকি ব্রেইন টিউমার ছিলো। যখন তখন সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারে। এজন্যই সেদিন সে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement