নিশ্চুপ হয়ে ঘরের কোণে বসে রয়েছি। আর বারান্দায় ঝড়ে ওলট-পালট করে দিচ্ছে সবকিছু। কখনো দমকা হাওয়া আবার কখনো মেঘের গর্জনে পরিবেশটা জ্বলছে আর নিভছে। মুখ বন্ধ করে সহ্য করা ছাড়া কিছুই করার ছিলো না। হঠাৎই –
মন খারাপ করেছিস? মন খারাপ করিসনা আমার বাপ। আমিতো আছি। যা বাইরে থেকে ঘুরে আয়। তো আব্বু বাইরে যাক তারপর এসে টাকা নিয়ে যাস।
মা বুঝি এরকমই। সারাজীবন বন্ধুর মতো এভাবেই সাহায্য করছে বারবার। এভাবেই পাশে থেকে সাহস দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। হাত বুলিয়ে দিচ্ছে কপালে। শতশত বায়না চুপেচুপেই পূরণ করে দিচ্ছে অবিরত।
যাচ্ছো যাও। তোমাকে যেন আর বাড়িতে না দেখি। যতই দিন যাচ্ছে ততই আরও বাঁদর হয়ে যাচ্ছে। তোমাকে দিয়ে আমার কিছু হবে না। তোমার মতো ছেলে আমার লাগবে না। অমুকের ছেলে দেখো - পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করে বাবাকে সাহায্য করছে। আর নিজে এখনো বাবার কাঁধে বর করে ঢেউ খেলছে।
এভাবেই প্রতিনিয়ত বাবা আমাকে গালমন্দ করে। প্রতিদিন সকালে খাবার খাওয়ার সময়। আবার রাতের টেবিলে সহ্য করতে হয় প্যানপ্যানানি আর ঘ্যানঘ্যানানি।
রাতে যখন ঘুমের ঘোরে সদ্য পা রেখেছি ঠিক তখনই মাথায় কোমলমতি হাতের স্পর্শে ঘুম ভেঙে যেত রোজরোজ।
বাবা বলতো - কিরে! রাগ করেছিস? না হয় একটু বকেছি তাই বলে কি আমার সাথে কথা বলা যায় না? তুইও একদিন বাবা হবি। সেদিন বুঝতে পারবি সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বাবা-মা কতো চিন্তা করে।
আজ বছর তিনেক পার হলো। বাবা! কেন আজ তোমার সেই বকবকানি, প্যানপ্যানানি শুনতে পাইনা? কেন আজ তোমার সেই স্পর্শটুকু, অভিমানী আদরটুকু আমার মাথায় স্পর্শ করে না।