মানুষ দাম্ভিক হয় নানা কারণে । অর্থের অহংকার, সম্পদের অহংকার , বুদ্ধির অহংকার ,ক্ষমতার অহংকার ইত্যাদি অনেক মানুষকে অনেক সময় দাম্ভিক করে তুলে । সেই দাম্ভিকতা যে তার অধঃপতনেরও কারণ হতে পারে অহংকারী ব্যক্তি তা অনুমান করতে পারে না । ক্ষমতা ,সম্পদের মোহে সে অন্ধ থাকে । সে উপলব্ধি করতে পারে না যে সব দিন সমান যায় না । দাম্ভিক ক্ষেত্রমোহন ঐর্শ্বয্যের মোহে ডুবে ধরাকে সরা জ্ঞান করতো । চারপাশের মানুষকে মানুষ মনে করতো না । এমন একদিন এল যেদিন সে তারই অবজ্ঞার শিকার এক বৃদ্ধার মুখোমুখি হয়ে নিজের কৃতকর্মেরও মুখোমুখি হল । যে নিজেকে সকলের বিচারকের আসনে অধিষ্ঠিত করে আসুরিক আনন্দ উপভোগ করত সে ভুলেই গেছে যে আর একজন বিচারক সবার অলক্ষ্যে তারও বিচার করছেন ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ডিসেম্বর ১৯৬২
গল্প/কবিতা: ১০টি

সমন্বিত স্কোর

৪.০২

বিচারক স্কোরঃ ২.২২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - দাম্ভিক (জুলাই ২০১৮)

বিচারক
দাম্ভিক

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.০২

ARJUN SARMA

comment ৬  favorite ০  import_contacts ২৫০
নাম তার ক্ষেত্রমোহন । কবে থেকে যে তার নামের লেজ থেকে মোহন অংশটি খসে গেছে কে জানে । তবে আগে যুক্ত হয়েছে আর একটি শব্দ- ‘দামী’ । অর্থাৎ’ দামী ক্ষেত্র’। আড়ালে অবশ্য কষাই ক্ষেত্র বলেও অনেকে ডাকে । চারপাশের পাঁচ ছয় গ্রামের সকলেই এক ডাকে চেনে দামী ক্ষেত্রকে । ক্ষেত্র’র ছায়াসঙ্গী হল ভুট্টো । এটা আসল নাম নয় । কিন্তু আসল নাম ভুলে গেছে সবাই । মুক্তিযুদ্ধের সময় সকাল বিকাল রাখালের চা দোকানে এসেই শুধু বলত জুলফিকার আলি ভুট্টো এই বলেছে সেই বলেছে । ভুট্টো ছাড়া কোন কথা নেই। তাই দূর থেকে দেখেই বলতো ঐ আসছে আমাদের ভুট্টো । ঠাট্টা করে রাজাকারও বলত।
ভুট্টো বাড়িতে ঘুমানো ছাড়া আর কিছুই করতো না, নাওয়া খাওয়া সবই ক্ষেত্র’র বাড়িতে । নির্দিষ্ট করে বললে বলতে হয় কাছারি ঘরে । বা’র বাড়িতে টিনের চৌচালার মাটির ঘরটিকে সবাই কাছারি ঘর বলে। ক্ষেত্র নাকি পূর্ব পাকিস্তানে মহাজন ছিল । সেই মহাজনী মেজাজ চাল চলনে ধরে রেখেছে । ভুট্টোর কাছে সবাই শুনেছে সেদেশে ক্ষেত্র’র দিঘীর মত পুকুর ছিল , শান বাঁধানো ঘাট ছিল । আধ মাইল লম্বা উঠোন ছিল । রোজ একশো লোক পাত পেড়ে খেত । গোলাঘরই ছিল দশটা । পুকুরেরে এক একটা মাছের সাইজ ছিল ভুট্টোর গলা সমান । শুধু ডাল ক্ষেতই ছিল সাত কাণি । সকালে সব্জি কাটতেই বসে যেত জনা দশেক মহিলা । রান্নাঘর তো নয় একেবারে বারোয়ারী লঙ্গরখানা । বিশাল সাইজের মাটির উনুনে বসে যেত ভিমের কড়াই’র মতো পাঁচ পাঁচটা কড়াই ।চুলা গুলো যখন একসাথে জ্বালানো হতো তা ছিল দেখার মতো ব্যাপার । স্নান করে শুদ্ধবস্ত্র পরে রীতিমতো পূজো দিয়ে উনুন ধরানো হতো । সে উনুন নিভতো রাতে । উনুন নিভিয়ে কয়লা তুলে নিতে নিতে রাত কাবার হয়ে যেত । লাকড়ি ঘরটা তো ছিল গোডাউনের মত । সবশেষে ভুট্টো যোগ করতো , এখন তো বাবুদের কিছুই নেই । এখন উনি ফকির ,ফকির । সোনার থালার ভাত আর রূপোর গেলাসের জল ফেলে এসে বাবু এখন ফকির । বাবুর সোনার অঙ্গ এখন কালি হয়ে গেছে । সেদেশে বাবু ডাবের জলে মুখ ধুতেন । গায়ের রঙ ছিল দুধে আলতায় মেশানো ।
রাখালের চা-দোকানে এসব গলগল করে বলে যেত ভুট্টো আর শ্রোতারা হাঁ করে গিলতো । দিনের পর দিন শুনতে শুনতে ক্ষেত্র’র প্রতি একটা অজানা ভয় ও সম্ভ্রম তৈরি হয়ে গিয়েছিল সবার । ভয়টা এইজন্য যে ক্ষেত্র অনেক টাকার মালিক । সম্ভ্রমটা কিছুটা ভয় থেকে ,কিছুটা ক্ষেত্র’র রাশভারী আচরন ও চালচলন দেখে । সবাই ক্ষেত্র মহাজন বলে ডাকে । জমির প্রতি ক্ষেত্র’র বিশেষ টান । প্রতিদিন ছত্রধর ভুট্টোকে নিয়ে ধুতির কোছা ধরে ঘুরে ঘুরে জমি পরিদর্শন ক্ষেত্র’র কাছে বিলাসিতা ।
ক্ষেত্র এদেশে এসে ধীরে ধিরে সুদের ব্যবসা খুলে দিয়েছে । ছয় সাত গাঁয়ের লোক তার কাছে এসে হাত পাতে । ক্ষেত্র কাউকে নিরাশ করে না । তবে ঝোপ বুঝে কোপ মারে । টাকা সে এমনি এমনি কাউকে দেয় না । গয়না ,অন্য জিনিস ,জায়গার দলিল ইত্যাদি বন্ধক দিয়ে স্ট্যাম্প পেপারে সই সাবুদ দিয়ে তবে টাকা নিতে হয় । ক্ষেত্র’র সাফ কথা, আগে তিতা ,পরে মিঠা । আমি দুই কথা পছন্দ করি না । মাসে মাসে সুদ শোধ করে দিতে হবে । না হয় কাগজের লেখা অনুযায়ী জিনিস বা জায়গা তামাদি হয়ে যাবে । কারো বৌয়ের কানের ঝুমকো জোড়া হাতিয়ে নিতে ক্ষেত্র’র হাত কাঁপে না । কাউকে বাড়িছাড়া করতেও তার বুক কাঁপে না । সম্পদের অহংকারে তার মাটিতে পা পড়ে না । তার কথার উপরে কেউ কথা বললে তার ব্রহ্মতালু জ্বলে উঠে ।

একবার এক বুড়ি এসেছে তার কাছে । জামগাছ থেকে পড়ে বুড়ির নাতনির কোমর ভেঙ্গে গেছে । হাসপাতালে নিয়ে ওষুধপত্র করবার টাকা নেই । বুড়ি ক্ষেত্র’র কাছারিতে এসে কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে । ক্ষেত্র কাগজকলম নিয়ে বসল ।অনেক কিছু লিখল ,বুড়ি টিপসই দিল। টাকা নিয়ে গেল । এরপর দিন যায় মাস যায় । বুড়ির দেখা নাই ,সুদের খবর নাই । একদিন ছত্রধর ভুত্তোকে নিয়ে ক্ষেত্র হাজির বুড়ির বাড়ি । বুড়িকে দু’সপ্তাহ সময় দিয়ে বলল, এরপর কিন্তু দক্ষিণ মাঠে আমার পুকুরের সাথের জমিটা আমার নামে হয়ে যাবে । কাগজে তাই লিখে দিয়েছিলে । বুরি কেঁদে কেঁদে ক্ষেত্র’র পায়ে ধরতে গেল । ক্ষেত্র লাফিয়ে উঠে বলে ,আমাকে চোখের জল দেখিয়ে লাভ হবে না । এতগুল টাকা নেবার সময় মনে ছিল না । আমার টাকার দাম আছে ।তোমার বারি দয়া করে এসেছি এটাই বেসি । আগামী পঁচিশ তারিখ টাকা না পেলে জমির কাছে আর ঘেঁষবে না । বুড়ির মাথায় বাজ পড়লেও বুঝি ভাল ছিল । ঐ মাঠে ঐ জমিটায় সেরা ফলন হয় । বুড়ির উপোস থাকতে হবে ওটা হাতছাড়া হলে ।
নির্দিষ্ট দিনে সকালেই বুড়ি হাজির কাছারি ঘরে । ক্ষেত্র এলে বুড়ি কেঁদে বলে টাকা জোগাড় করতে পারে নি । আরো কিছুদিন সময় চাই । ক্ষেত্র গলল না । গলতে সে জানে না । গললে তার চলে না । পৃথিবীতে ধনী গরীব থাকবেই । তাই বলে গরীব গুরবোর কাছে মাথা নোয়ানো কোন কাজের কথা নয় । এসব দরদ দেখানোর বিলাসিতা তার পছন্দ নয় । তেল মাখতে হলে কড়ি ফেলো । দুনিয়ায় অনেক লোকের পা ভাঙবে ,কোমর ভাঙবে,হাত মচকাবে ,পেত পুড়বে । তাই বলে সে কেন মচকাবে । তার দুয়েকটা পয়সা আছে বলে সে কি দানসত্র খুলে দেবে নাকি । হাজী মহম্মদ মহসিন হবার বাসনা তার নাই । তার দর্শন জলের মতো পরিস্কার । বুড়ির কান্নাই সার হল । তবে ক্ষেত্র আইনের মানুষ । সে কাগজ পড়ে পড়ে শর্ত সব শোনাল । ইচ্ছে না থাকলেও বুড়ি শুনল ,কাঁদল । বলল, এবার যে আমাদের উপোস থাকতে হবে মহাজন। ক্ষেত্র’র এত কিছু করবার নাই । বুড়ি অনেক অনুনয় করল । বলল, মহাজন তোমার তো অনেক আছে । আমাকে না হয় ঐ টাকাটা দানই করলে । ক্ষেত্র’র রাগ হল । সে বলল , এসব কথা আমাকে বলে লাভ হবে না । টাকাটা নেবার সময় মনে ছিল না । তখন ত নাতনির জন্য একেবারে পাগল হয়ে গেছিলে । নাত্নির কোমর না হয় ভাঙ্গা’ই থাকতো । কোমর ভাঙ্গা অনেক লোক দুনিয়ায় বেঁচে আছে । একথায় বুড়ির খুব রাগ হল । বুঝে গেলেন জমি আর পাবে না । বলল, মহাজন ,এত দাম্ভিক হওয়া ভাল নয় । আমরা ছোট মানুষ । তবু বলি , বাল্যশিক্ষায় আছে, দম্ভ করা অনুচিত । উপরে আছেন একজন । তিনি বিচার করবেন । তোমার অনেক আছে , আমাদের পেটে লাথি দিলে । আর কোমর শুধু আমার নাতনির নয় । তোমারও আছে । মনে রেখো । ক্ষেত্র’র মতো মহাজনের এসব চুনোপুঁটির অভিশাপ গায়ে মাখলে চলে না । কত শকূন অভিশাপ দেবে । তাই বলে তো আর রাতারাতি সব গরু মরে যাবে না । দলিলটা ভাঁজ করে ক্ষেত্র হেসে নেয় এক চোট ।

ভুট্টো ক্ষেত্র’র খাজাঞ্চী কাম বডিগার্ড কাম আপ্ত সহায়ক। জাবদা খাতায় ঋণগ্রহীতার নাম ,তারিখ ,ঋণের পরিমাণ ,জিম্মা রাখা জিনিসের নাম সব লিখে রাখে । অপরিশোধিত ঋণের কারণে প্রাপ্ত জমির পরিমান কম নয় । জমিতে ফসলের চাষ ,রক্ষণাবেক্ষন ,সংগ্রহ সব কিছু তদারকি ভুট্টোই করে । পড়ন্ত বিকেলে আলপথ ধরে ধুতি পাঞ্জাবি পরিহিত , ভুট্টোপরিবৃত ক্ষেত্রকে জমিদার বলেই মনে হয় ।
ক্ষেত্র’র ঠাটবাট জমিদারের মতোই । সম্পদের অহংকার তার মনের সীমানা ছাড়িয়ে অঙ্গভঙ্গী ,কথোপকথন ও আচরণে প্রকাশিত । সব ধরণের ঝগড়া বিবাদের মীমাংসা কাছারি ঘরেই হয় । আর দুয়েকজন থাকলেও ক্ষেত্রই শেষ কথা । ইচ্ছে না থাকলেও সকলেই মেনে নেয় । ক্ষেত্রও চায় সবাই তার কথাই নির্বিবাদে মেনে নিক । না হলে তার খুব রাগ হয় ।
একবার এক ছোকরা ক্ষেত্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল । শেখরের মেয়ের বিয়ে । শেখর মোটামুটি সচ্ছল । আমন্ত্রিতের মধ্যমণি ক্ষেত্র । সাঁঝবেলাতেই হাজির । শেখর তো একেবারে গদগদ । ক্ষেত্র কচানো ধূতির খুট ধরে রান্নার খবরাখবর নিল। এটা ওটা নির্দেশ দিল । বরযাত্রীর সবসবার জায়গা, খাবারের বিষয় সব খোঁজ নিল । সম্প্রদান করবে শেখরের ছোটভাই । শেখরের এক ভাগ্নে দাপাদাপি করে সব কিছু তদারকি করছে । ক্ষেত্র মসাবের দল নিয়ে জাঁকিয়ে বসেছে । যথাসময়ে বর এল,মিষ্টিমুখ হল ,বিয়েও আধাআধি । ক্ষেত্র হাঁক দিল ,এই কে আছিস্ উপহার সামগ্রীগুলোর একটা লিস্ট করে পড়ে শোনা । এটা শুনে শেখরের ভাগ্নে প্রতিবাদ করল , না এটা হওয়া ঠিক নয় । মামাকে বলল , মামা সবাই তোমার মেয়ের মঙ্গল কামনা করে ভালোবেসে হয়তো কিছু এনেছে । তাই বলে কে কী দিয়েছে সবাইকে জানাতে হবে । খুব বিশ্রী হবে । যারা গরীব তাদের মনে কষ্ট হবে । এটা বন্ধ করো । ক্ষেত্র’র কানে যেতেই রেগে আগুণ । কি এতো বড়ো কথা । চিরকাল এটা করে এসেছি আমরা । ভুট্টো ফোড়ন কাটে । ছোকরার পেটে দুফোঁটা বিদ্যে পড়েই ফুলে উঠেছে । কি সুন্দর লাগতো শুনতে যদি পড়ে শোনানো হতো, হরিপুর নিবাসী শ্রীযুক্ত অমুক একটি শাড়ি উপহারস্বরূপ প্রদান করলেন , মান্যবর শ্রীযুক্ত বাবু ক্ষেত্রমোহন কণ্যাকে একখানি চাদর উপহার দিলেন । বাবুর মেয়ের বিয়েতে মহিম কেমন সুন্দর করে পড়ে শুনিয়েছিল । কত বড়ো লম্বা লিস্ট হয়েছিল। ততক্ষণে ক্ষেত্র চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে । শেখর কাচুমাচু করছে । শিক্ষিত ভাগ্নের যুক্তি ফেলতে পারছে না । হাতজোড় করে বলল , মহাজনদা ও ছোট মানুষ । দয়া করে ডালভাত না খেয়ে যাবেন না । ক্ষেত্র গজরাতে গজরাতে হাঁটা দিল ।
বছর ঘুরে গেল । আরো কত সালিশী বসল ,কত বিচার হল । সবেতেই ক্ষেত্র’র মতই শেষ কথা । বুড়ির সাথে পথে দেখা হলে বুড়ি শুধু ক্ষেত্র’র দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে । কিছু বলে না । জমিটা বুড়ি চুপিচুপি ঘুরে যায় মাঝে মাঝে । ধান গাছের সাথে আলগোছে কোলাকুলি করে । ক্ষেত্রকে উদ্দেশ্য করে গাল পাড়ে । চোখে জল ধরে রাখতে পারে না ।
সেবার খুব ভাল ফসল হল । দক্ষিণ মাঠে এরকম ফলন নাকি আগে হয়নি । ক্ষেত্র খুব খুশি । সেদিন আলধরে হাঁটছিল ,ধান দেখছিল । পেছনে ছত্রধর ভুট্টো । চক্ষের পলকে টিলার জঙ্গল থেকে তীব্রবেগে জমির দিকে ছুটে আসছিল একটা গরু । দূর থেকে কিছু বুঝে উঠার আগেই গরুটা লাফিয়ে লাফিয়ে ক্ষেত্রদের কাছাকাছি চলে এল । ছাতা ফেলে ভুট্টো পড়ে গেল জমিতে । বেগতিক বুঝে ক্ষেত্র ছুটতে গিয়ে আচমকা পা পিছলে পড়ে গেল আলের উপর । পা আলের একদিকে , মাথা আরেক দিকে । চক্ষের পলকে কি ঘটেছে বুঝে উঠার আগেই গরুটা তার গায়ের উপর দিয়ে ছুটে গেল । ভুট্টো ধাতস্ত হয়ে ছুটে এল । গরুর মালিক লখাই বিপদ হয়েছে বুঝে ছুটে আসছে আর বলছে , গরুটাকে জঙ্গলে ভীমরুলে ধরেছিল । তাই সেটা পাগলের মত ছুটছিল । এমন ভাবে বলছিল যেন গরু নয় ,সে নিজেই দায়ী । ভুট্টো আর লখাই ধরাধরি করে ক্ষেত্রকে বসানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বুঝল বাবুর কোমরে গরুর পা পড়ে ভাল জখম হয়েছে। বাম পা’টা তুলতেই বাবুর চোখের জল এসে গেছে । আরো লোকজন এল । সবাই কলে কাঁধে করে বাড়ি ন্নিয়ে গেল । সত্যডাক্তার এল । ব্যথার ওষুধ দিল । বলল মনে হচ্ছে ভাল কিছু হয়েছে হাড়ে । হাসপাতালে নেবার পরামর্শ দিল ।
হাসপাতালে সাতদিন থেকে কোমরে আর বাম পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে ক্ষেত্র বাড়ি ফিরল । ছয় সপ্তাহ ঘরে শুয়েই কাটাতে হল । ব্যান্ডেজ কাটিয়ে এক্স রে করিয়ে ডাক্তার বলেছে ক্রাচ দিয়ে একটু একটু করে হাঁটতে । কোমরে তেমন অসুবিধা নাই । পা’টা সারতে সময় নেবে । রোজ ভুট্টোর সাহায্যে কাছারি ঘরে এসে বসে । ক্ষেত্র হাঁপিয়ে উঠেছে । এক বিকেলে ভুট্টোকে বলল , চল রাখালের দোকানে যাই ধীরে ধীরে । কত আর ঘরে বসে থাকবো । ডাক্তারও তো হাঁটতে বলেছে । ক্রাচ দিয়ে ধীর পায়ে চলছে দুইজন । একটূ যেতেই মুখমুখি হয়ে গেল বুড়ির । চোখোচোখি হতেই বুড়ি গালে হাত দিয়ে ঠোঁট ফাঁক করে দাঁড়াল । কিছু বলল না মুখে । কিন্তু ক্ষেত্র’র মনে হল বুড়ি অনেক কথা বলল । বুড়ির চোখের আড়াল হ’বার জন্য ক্ষেত্র একটু জোরেই পা চালাল ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ মোখলেছুর  রহমান
    মোঃ মোখলেছুর রহমান আরও একটি ভাল গল্প পড়লাম,ভুট্টো চরিত্র দেখে প্রথমে মনে করেছিলাম পটভুমি স্বাধীনতা,না মোড় ঘুরে মজুতদারিতা। আর একটু সময় দিলে ভুট্টো চরিত্রটা আরও প্রস্ফুটিত হত,যদিও মুল টার্গেট ক্ষেত্র।ভোট ও শুভকামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ২ জুলাই, ২০১৮
    • ARJUN SARMA মোঃ মোখলেছুর রহমান সাহেব, অনেক ধন্যবাদ, আবারও আপনার মূল্যবান মতামত জেনে অনুপ্রাণিত হলাম। ভোট দিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করলেন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
      প্রত্যুত্তর . ২ জুলাই, ২০১৮
  • Shamima Sultana
    Shamima Sultana ক্ষমতার দাপট জুগে জুগে এমনই ছিল। ভাল লাগল পড়ে
    প্রত্যুত্তর . ৬ জুলাই, ২০১৮
  • ARJUN SARMA
    ARJUN SARMA অনেক অনেক ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, আমাকে অনুপ্রাণিত করুন।
    প্রত্যুত্তর . ৬ জুলাই, ২০১৮
  • জসিম উদ্দিন আহমেদ
    জসিম উদ্দিন আহমেদ ভাল লাগল। সমাজের একটা ব্যাধি হচ্ছে মহাজনী সুদের কারবার। আগে এটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল, এখন প্রাতিষ্ঠানিক রুপ নিয়েছে। কিন্তু গরিবের নিপীড়ন কমেনি মোঠেও।
    প্রত্যুত্তর . ৬ জুলাই, ২০১৮
  • ARJUN SARMA
    ARJUN SARMA জসিম সাহেব, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, ঠিক বলেছেন। ভালো থাকবেন। অনুপ্রাণিত হলাম।
    প্রত্যুত্তর . ৬ জুলাই, ২০১৮
  • জুনায়েদ  বি রাহমান
    জুনায়েদ বি রাহমান ভালো লেগেছে। শুভকামনা
    প্রত্যুত্তর . ১২ জুলাই, ২০১৮
  • ARJUN SARMA
    ARJUN SARMA জুনায়েদ বি রাহমান সাহেব, আপনার ভালো লেগেছে বলে খুব খুশি হলাম। আপনি ভালো থাকুন
    প্রত্যুত্তর . ১২ জুলাই, ২০১৮

advertisement