সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা বাড়ে, সেই অনুসারে চাহিদা পরিতৃপ্তির জন্য মানুষই সভ্যতার আদিযুগ থেকে ব্যবস্থা করেছে । মানুষই করেছে সভ্যতার অগ্রগতি । আজ যা কল্পনা পঞ্চাশ বছর পর তাই হয়ে যেতে পারে বাস্তব । মানুষের ইতিহাস তাই বলে । আজকের মোবাইল কোথায় অতীতের গর্ভে চলে যাবে আগামী পৃথিবীই তার সাক্ষী থাকবে । কল্পবিজ্ঞান তাই ভবিষ্যত পৃথিবীর অগ্রগতির সোপান । পিকোসিপে চড়ে অতীত এবং বর্তমান পৃথিবী ঘুরে আসা তাই দুহাজার একাত্তর সালে বাস্তব ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ডিসেম্বর ১৯৬২
গল্প/কবিতা: ৬টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী (নভেম্বর ২০১৮)

ইচ্ছে ডানা
বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী

সংখ্যা

ARJUN SARMA

comment ০  favorite ০  import_contacts
বিন্নি,এই সুবাসটা ভালো লাগছে না ।
- তাহলে বদল করে দিচ্ছি । দেখো তো এটা পছন্দ হয় কিনা ।
- না না এটাও নয় ,আমাকে বেলীর সুবাসটাই দিতে বল ।
- হচ্ছে হচ্ছে , ঐ দেখ তোমার ইচ্ছের কথা শুনেই মিশিকা মিটিমিটি হাসছে আর বেলীর সুবাসই পাঠাচ্ছে ।
- হ্যাঁ হ্যাঁ এই তো সেই বহুযুগ আগের সাঁঝবেলার বেলীর তাজা সুবাস । আহ্ মনটা ভরে গেল রে বিন্নি । আমি যেন আবার সেই সত্তর বছর আগের কিশোরী হয়ে গেলাম তোর এই সুবাসে । কত স্মৃতি এই বেলী ফুলকে ঘিরে ।তোদের এই চ্যানেলওয়ালাকে ধন্যবাদ ।
- তোমার মতো যারা পুরোনো ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চাই তাদের জন্যই তো এই চ্যানেল খুলেছে । দেখ, মিশিকা তোমার আনন্দ দেখে বলছে এই চ্যানেল খোলা সার্থক হয়েছে ।

মিশিকা হল একটা ওয়েভ-পুতুল । দেয়ালের সামনে ওয়েভ পর্দায় মিশিকার ছবি ফুটে উঠেছে । অনেকের মত বিন্নিদের ঘরেও ছোট্ট যন্ত্র ইন্দু (InDU – Integrated Device for Unveiling) লাগানো আছে । এটি অন করলেই পুরো দেয়াল জুড়ে ভেসে উঠে ওয়েভ পর্দা আর তাতেই ফুটে উঠে ওয়েভ চ্যানেলগুলো । কোন বোতাম টিপতে হয় না । শুধু ফ্রিকোয়েন্সিটা মিলিয়ে দিলেই চ্যানেল খুলে যায় । এমনই একটি চ্যানেল হল ‘ইচ্ছে ডানা’ । এই চ্যানেলের একটি বৈশিষ্ট্য হল পুরনো দিনের কিছু দেখতে বা জানতে চাইলে শুধু ঘরে পর্দার সামনে মুখে বললে বা পিকোবোর্ড-এ লিখলেই তা এসে যায় পর্দায় । বিশেষ করে পুরনো দিনের কিছু দেখার জন্য চ্যানেলের একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হল ‘ঐতিহ্য’ । পৃথিবীর প্রায় সব দেশের পুরনো ইতিহ্যবাহী বিষয়গুলো এই অনুষ্ঠানে পাওয়া যায় । তাই বিন্নির ঠাম্মারও এই চ্যানেল খুব প্রিয় । আর একটি বিশেষ আকর্ষণ হল পর্দায় যে ফুলের ছবি ভেসে উঠবে সেই ফুলের সুবাস ঘরময় ছড়িয়ে যাবে ।

গত কুড়ি বছর ধরে চেষ্টা করে এই চ্যানেল চালু করেছে বাংলার বনগাঁ ব্লকের বল্লভপুর গ্রামের ছেলে কিরণ জানা এবং জাপানের হনসু দ্বীপের ইমানাসি এলাকার হায়াকাওয়া গ্রামের ছেলে উসিকা নাকাজিমা । হায়াকাওয়া জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারে জাপানিজ শিখতে গিয়েই উসিকার সঙ্গে কিরণের পরিচয় । এর পরেরটা ইতিহাস । আজ সারা পৃথিবীতে ‘জানা-নাকাজিমা’ কোম্পানী এই চ্যানেলের জন্য জনপ্রিয়তার শীর্ষে । উসিকার জোরাজুরিতেই চ্যানেলের বাংলা নাম ‘ইচ্ছে ডানা’ সারা বিশ্ববাসীর মুখে মুখে । বিশ্বম্বর বিদ্যাপিঠের সাধারণ ছেলে হয়ে গেল বিশ্বখ্যাত । দুহাজার পঞ্চাশ সালে দুই বন্ধু শুরু করেছিল পথচলা ।

ইন্দু হল পিকোচিপস এর তৈরী বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি অতি ক্ষুদ্র যন্ত্র । যেকোন ওয়েভ ফিকোয়েন্সি এটা ধরতে পারে । সৌর বা কৃত্রিম যেকোন আলোতে একবার চার্জ করলে পাক্কা চব্বিশ ঘন্টা চলতে পারে । অন করার সঙ্গে সঙ্গে বিপরীত দিকের ওয়াল বা যেকোন আবরণের গায়ে বায়ুতে এক ওয়েভ পর্দা তৈরী হয়ে যায় । এরপর মুখে বলে বা পিকোপ্যাডে ফ্রিকোয়েন্সী চ্যানেলের নাম লিখে দিলেই অভিষ্ট চ্যানেল পর্দায় ভেসে উঠে । যেকোন ভাষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারপ্রিট করার ক্ষমতা আছে যন্ত্রটির ।
বিন্নি এই যন্ত্রের মাধমে ঠাম্মাকে তাঁর পছন্দের চ্যানেল দেখায় । এই দুহাজার একাত্তর সালেও আশি ছুঁই ছুঁই ঠাম্মার কাছে পুরনো দিনের গল্প শুনে বিন্নি আনন্দ পায় । সে দশ ক্লাশে পড়ে । ঠাম্মা নাকি দুহাজার পনের সালে দশক্লাশের পরীক্ষা দিয়েছিল । ভয়ানক টেনশন ছিল । বিন্নি এসব ভাবতেই পারে নে । কারণ পরীক্ষা দেয় ঘরে বসে । ঐ একই ওয়েভ স্ক্রিনে নির্দিষ্ট চ্যানেল খুলে তার ইউনিক কোড বলে দিলে বা পিকোপ্যাডে লিখে দিলেই পর্দায় ভেসে উঠে প্রশ্ন । উত্তর পিকোপ্যাডে লিখে দিলেই আপলোড হয়ে যায় । ঠাম্মার মত পাশ-ফেলের কোন মাথাব্যাথা নেই । একটা পয়েন্ট যোগ হবে তার ইউনিক কোডের পাশে । তা বলে পড়াশুনা না করলে হবে না । কারণ দক্ষতা কেন্দ্রে গিয়ে রীতিমতো পয়েন্ট অর্জন করতে হয় । পয়েন্টের ভিত্তিতেই কাজে নিয়োগের ব্যবস্থা হয় । পিকোপ্যাড পিকোচিপসের এক আসাধারণ প্যাড । এতে যতখুশি লিখা যায় । ঘরে বসেই পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের স্যারের ক্লাশ করা যায় ওই স্ক্রিনে । বিন্নি দুদিন ঘরে বসে ক্লাস করে আর তিনদিন পিকোসিপ-এ চড়ে নিজের স্কুলে ক্লাশ করে ।

ঠাম্মাকে পুরোনো দিনের সিনেমা দেখাতে গিয়ে সেও দেখেছে পথের পাঁচালী । কিছুদিন আগে ‘পথের পাঁচালী’ নামের এক সিনেমার একশো ষোলতম বর্ষ পূর্ত্তি উপলক্ষে সত্যজিত রায়ের অনেক ছবি সেও দেখেছে । আর একজন অভিনেতা উত্তমকুমারের নাম ঠাম্মার কাছেই শুনেছে । ঠাম্মাদের বাড়িতে উত্তমকুমারের সিনেমার সংগ্রহ ছিল অনেক । ঠাম্মার বাবা নাকি উত্তমকুমারের খুব ভক্ত ছিলেন । আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে নাকি বাংলায় সেরা অভিনেতা ছিলেন । ঠাম্মার সঙ্গে মাঝে মাঝে সেও দেখে ইচ্ছে-ডানা চ্যানেলে ।

বিন্নি জানা-নাকাজিমা সম্পর্কে খুব আগ্রহী । টাকায়ামা যেমন আধুনিক সুবিধাযুক্ত হয়েও পুরোনো স্টাইলের বাড়িঘর ,ঐতিহ্য ধরে রেখেছে তরুন জানার আগ্রহ ও চেষ্টায় বাংলা সরকারও পুরো বনগাঁ ব্লককে ঐতিহ্য ব্লক ঘোষণা করেছে । এখনো এখনো গরুর গাড়ি চলে । সরকারি বেতন পায় গাড়োয়ান । প্রচুর পর্যটক আসে । অত্যাধুনিক ওয়েভ কাফে যেমন আছে তেমনি আছে খড়ের আর টালির চালার ঘর ,শতবর্ষ পুরোনো স্টাইলের ট্যুরিষ্ট লজ । যেকোন ওয়েভকাফেতে বসে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের লোকের সঙ্গে আলাপ করে যায় মুহূর্ত্তেই । বিন্নিও একবার গিয়েছিল ঘুরতে । বিশ্বম্বর বিদ্যাপিঠ তার আগের আদলেই আছে ,তবে ক্লাশরুমে আছে ওয়েভস্ক্রিনের ব্যাবস্থা । পৃথিবীর সব বাড়ির মতোই বিশ্বম্বর বিদ্যাপিঠেরও একটা ইউনিক ওয়েভকোড আছে । নরওয়ের বাচ্চারাও এখন বিশ্বম্বর বিদ্যাপিঠের খবর জানে ।


ঠাম্মা এতক্ষণ বাংলাদেশের পাল্কীর ছবি দেখছিল । ঠাম্মা বলেছেন তাঁর মা নাকি পাল্কীতে চড়ে বরের বাড়ি এসেছিলেন । এমন সময় বিন্নির মা এসে বলল, বিন্নি , আমাকে রান্নাঘরে কানেকশানটা দিয়ে দে তো । আমি রান্না করতে করতে বাজারটা ঘুরে আসি । অনেক জিনিস লাগবে । তাছাড়া কাল অলোকের বউভাত । একটা শাড়ি কিনবো পিকোমল থেকে । আসলে পর্দায় ভেসে ওঠা দোকানীর ছবি এবং জিনিস দেখে দেখিয়ে দিলেই ওদের বাড়ির ইউনিক নম্বরে বুকড হয়ে মুহুর্তের মধ্যেই জিনিস চলে আসে ঘরে । ওদের সেইভ করা একাউন্ট থেকে পয়েন্ট কাটা হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ।

বিন্নির বাবা এসে বলল , বিন্নি আমাকে একটু সময় দে । কাল আমার হাঙ্গেরিতে একটা সেমিনারে যোগ দিতে হবে । একটু কথা বলে নিই । পরশু আবার মরিশাসে একটা ক্লাশ নিতে হবে । আসলে পিকোমল এ গিয়ে পিকোসিপে চড়ে ফ্রিকোয়েন্সী ম্যাচ করে দিলেই চারপাশের ওয়েভস্ক্রিনে হাঙ্গেরীর সেমিনার হলের ভার্চুয়েল ছবি ফুটে উঠবে । মনে হবে অরিজিনাল হলে সবার সামনে বক্তব্য রাখছে । প্রশ্নোত্তর সবই হবে লাইভ । পিকোসিপে চড়ে যেকোন স্থান ভ্রমণের আসল আনন্দ পাওয়া যায় । সেদিনও তো বিন্নি ঠাম্মাকে পিকোসিপে চড়িয়ে সীতাকুণ্ড ঘুরে এসেছে । ঠাম্মা পাশের তীর্থযাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রাণখুলে ।

বিন্নির বাবা শিলাজিত তালুকদার একটা ওয়েভ কোম্পানীতে কাজ করে । বাবার কাছে শুনেছে আগে নাকি মোবাইল নামক একটা যন্ত্র সকলের হাতে হাতে ঘুরত দুহাজার পঞ্চাশ সাল অবধি । বাবারও একটা ছিল । বিন্নি ওয়েভমিউজিয়ামে দেখেছিল । এখন তো হাতে শুধু একটা পিকোঘড়ি পরলেই বিশ্বের যেকোন প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় । ঘড়ির চারপাশে ওয়েভস্ক্রিনে ফুটে উঠে সব ।

বাবার কথা বলা শেষ না হতেই ঘরে ঢুকে বিন্নির ছোটোভাই ওমেগা । বলে , দিভাই আমি একটু কয়েকজন ইগলুবাসীদের সঙ্গে কথে বলব । ওদের চলাফেরা,খাওয়াদাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে স্কুলে আমাকে প্রজেক্ট জমা করতে হবে কাল । ওমেগার স্কুল হল ঈজিপ্টের ‘ইসাবেলা পিকো লার্নিং পয়েন্ট ‘। সপ্তাহে সে দুদিন পিকোসিপে চড়ে ভার্চুয়েল ক্লাশ করে আর বাকি ক্লাশ ঘরে বসে পিকো ওয়েভস্কুলে করে । এরই মধ্যে ওয়েভ পর্দায় ভেসে উঠেছে নরওয়ের একটা সুন্দর গ্রাম ,ইগলু আর কিছু পথচারী । ওমেগা ওদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ইগলুর ভিতরে প্রবেশ করে । পিকোপ্যাডে নোটস রাখে আর ছবি সেইভ করে রাখে । পরে সাজিয়ে নিয়ে আপলোড করে দেবে ।

সন্ধ্যা হয়ে এলে মা বলল , আসল রজণীগন্ধার সেন্টযুক্ত ধূপকাঠির ব্যবস্থা করতে বল মিশিকাকে । আর সন্ধ্যা মুখার্জির ‘এসো মা লক্ষ্মী - -‘গানটা দিয়ে দে । মুহূর্তেই ওয়েভ পর্দায় রজণীগন্ধার তাজা ফুলের ছবি আর একপাশে সন্ধামূখার্জির ছবি ফুটে উঠল আর ঘরটা ভরে গেল রজণীগন্ধার সুবাসে আর সন্ধ্যার গানে ।

রাতে খেতে বসলে ওয়েভস্ক্রিনে ভেসে উঠল বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানসূচী । আর ক’দিন বাদেই হবে মূল অনুষ্ঠান । ঠাম্মা বিন্নিকে বলেছিল শতবর্ষ আগে নাকি ভায়ানক যুদ্ধের পর বাংলাদেশের জন্ম । লক্ষ লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল । ঠাম্মার দাদুর বাড়ি জড়িত ছিল ওই সময়ের রাজনীতির সঙ্গে । ঠাম্মার দাদু রাজাকারের হাতে মারা গিয়েছিলেন । তাই ঠাম্মার কাছেও ওই যুদ্ধ বিশেষ স্পর্শকাতর বিষয় । ঠাম্মার মা নাকি বাবার কথা বলে বলে কাঁদতেন । ঠাম্মার মা বাবা ভাইবোন এককাপড়ে প্রাণ নিয়ে এদেশে উঠে এসেছিল অনেকের সঙ্গে । ঠাম্মা তার মাবাবার সঙ্গে গিয়ে একবার সাভারে বেড়িয়ে এসেছিল । পর্দায় দেখাচ্ছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গন সাজানো হয়েছে অপূর্ব নান্দনিকতায় । ইচ্ছে ডানা চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠান হবে ‘ফিরে দেখা একাত্তর’ । একশো রক্ত গোলাপের ছবিতে ওয়েভস্ক্রিন ভরে গেছে আর ঘরময় বসরাই গোলাপের সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে । রক্তগোলাপের মাঝে ভসে উঠল বাংলাদেশের মানচিত্র আর মাঝখানে লেখা ‘জয় বাংলা’ ।

এরপর ভেসে উঠল মুক্তিযুদ্ধের শহীদের নামের তালিকা , ছবি এবং সংক্ষিপ্ত বিবরন । মিশিকা বলছে প্রতিদিন একশো মিনিটে একশোজন শহীদের কথা বলা হবে । ঠাম্মার আগ্রহ বেড়ে গেল । নিবিষ্ট হয়ে বসে রইলেন । বাহান্ন নম্বর শহীদের ছবি ওয়েভ পর্দায় ফুটে উঠতেই ঘরের সবাই অবাক হল , পুলকিত হল । এ যে তাদের পারিবারিক ওয়েভ-এলবামের সেই সাদাকালো ছবি যা ঠাম্মা মাঝে মাঝেই খুলে দেখেন । ছবির পাশেই লেখা ,চট্টগ্রামের শহীদ বিশ্বভূষণ তালুকদার ,পাক মদতদাতাদের মোষ্ট ওয়ান্টেড । একমিনিটে আরো যা বলল ঘরের সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনলেও বিন্নির ঠাম্মা যেন চলে গেছেন কোথায় কোন দেশে তা তিনিই জানেন । সেই না-দেখা দাদুর প্রতি শ্রদ্ধায় বুক ভরে গেছে ,চোখে জল এসে গেছে । বিন্নি বলল ঠাম্মা আমি পুরো অনুষ্ঠানটা সেইভ করে রেখেছি । ঠাম্মা বলল,খুব ভাল করেছিস । এ যে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীত , পারিবারিক অহংকার । মিশিকাকে খুব তৃপ্ত মনে হচ্ছে ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement