লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ৪টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftশহীদ দিবস (মার্চ ২০১৮)

চেতনার একুশে
শহীদ দিবস

সংখ্যা

সোহরাব হোসেন

comment ০  favorite ১  import_contacts ৬৮
একটা ভাষার গল্প বিশ্বময় করে তোলপাড়,
একটা ভাষার গল্প হয়ে আছে হৃদয়ে মুদ্রিত
সোনার হরফে।
বয়ে যায় ধীরে শিরদাঁড়া দিয়ে যুগ যুগান্তর—
ফিরে এলো ফের আরেক ফাল্গুনে এ ফেব্রুয়ারিতে,
ধূলট ডায়েরি, রক্তে ভেজা চিঠি, শ্লোগানে মুখর
মহান একুশ।

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর আরো
অজানা কজন ভাইয়ের রক্তে হলো রাজপথ,
বসন্ত রঙিন।
বিমুগ্ধ বায়ান্ন দিলো বাংলা ভাষা, প্রিয় ফেব্রুয়ারি
প্রাণের একুশ, শহীদ মিনার ও প্রভাতফেরি
বুকে পুষি, ভাই হারিয়ে পাওয়া এই উপহার;
আমার গরিমা, উচ্চ করা শির, আপন সংস্কৃতি।
শহীদের রক্তে চেতনার গর্ভে হলো বীর্যপাত,
সেই চেতনায় কেঁপে থরথর একাত্তরে জন্ম নিলো বাংলাদেশ—
প্রিয় স্বাধীনতা।

হৃদয়ে রইলো একুশ অমর, কোন সংখ্যা নয়
নয় কোন দিন, নয় কোন মাস, শুধুই চেতনা
আমার অস্তিত্বে, জুড়ে থাকে প্রতি দিবসে একুশ
প্রতি ভোরে হয় চেতনার কোলে নব সূর্যোদয়।
প্রতিটি প্রভাত 'সুপ্রভাত' আজো, একুশের জন্য
শিশুর কোমল ওষ্ঠে সযতনে লালিত প্রথম সুরের মূর্চ্ছনা—
মধুর বুলি 'মা'।

মধুতে মাখানো বাঙলা কথনে, প্রতি গল্প জুড়ে
অপত্য স্নেহের ঘোরে বেড়ে ওঠে নাদান সন্তান।
ভাষার আবেগে এ কাঁদতে শেখা,
ভাষার জাদুতে এ হাসতে শেখা,
ভাষার পায়েতে এ চলতে শেখা,
মনের খুশিতে ভাষার ডানায় এ উড়তে শেখা,
মায়ের আদরে পাখা মেলে ওড়ে, সুখের চাহনি
বাবার শাসনে তাণ্ডব ছড়ানো ভীতি মন জুড়ে।
বন্দী হৃদয়ের সীমা পার হয়ে অনুভূতিদের
হলো উদগীরণ।
দস্যি ছেলেদের দাপাদাপি ছুটা,
দীঘির জলেতে ঝাপাঝাপি খেলা,
এক্কা-দোক্কা খেলে বালিকার বেলা
ষোড়শীর বুকে প্রেম, ছলাকলা
মন্দের ভৎসনা, যুতসই ঘৃণা, অবহেলা কিংবা
নোংরা রাজনীতি—
অবলীলায় যা করে যাই, সবই একুশের দান
বাংলা বিনে কোন সুধায় জুড়ায় নাকো এই প্রাণ।

ভাষার আবেগে চির অমলিন চেতনা মিশেল,
আপন বিকাশে সকল প্রকাশে অস্তিত্বে একুশ।
একুশ আমার মর্মের বেদনা, বিদ্রোহ চিৎকার
একুশ আমার শাশ্বত চেতনা, নবীন সকাল
আমার প্রত্যাশা, আমার বোধন, ঘোর অনুভব।
অমর একুশ, দিবস মাসের ব্যাপ্তিকে ছাড়িয়ে—
কালের সীমানা, জাতির সীমানা করে সীমাহীন
জগতের বুকে একুশ লিখলো অমর কবিতা,
প্রিয় মহাকাব্য—
চিন্তার মহাকাশ, প্রাপ্তির মহাজগৎ, স্বস্তির মহাকাল।
সুপ্রভাত তোমায়! হে চেতনার আলো!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement