বাবার প্রতিবিম্ব

বাবা (জুন ২০২৬)

Jamal Uddin Ahmed
  • 0
  • 0
  • 0
[এক]

এত দেরি হবার কথা নয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে। অবশ্য সন্ধ্যা গড়ালেও গা ছমছম করা অন্ধকার এখানে বসত গড়তে পারবে না। এটা জঙলাকীর্ন কারখানার টিলার পাদদেশে ব্রিটিশ আমলের গড়ে ওঠা ঠ্যাকার কামের বাজার না। কারখানার বাজার নামে পরিচিত ওই বাজারকে অনেকে ঠ্যাকার কামের বাজার এজন্যই বলে যে সুরমা নদী তীরবর্তী পাড়ার জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাজারে ঢেউটিন-ছাওয়া মুদি-মনোহারী দুটি দোকান আছে। দাম একটু বেশি রাখলেও হাটবার ছাড়াও অন্যান্য দিনে গিরস্থালি পণ্যের প্রয়োজন এ দুটি দোকানই মিটিয়ে থাকে। ঠ্যাকার কামের এই বাজারে বিদ্যুৎ-সংযোগ আছে কেবল এই দোকান দুটিতে। শনি ও মঙ্গলবারে হাট বসলে উঁচু বাঁশের খুঁটিতে কয়েকটি এলইডি বাতি জ্বালিয়ে দিয়ে বাড়তি কিছু পয়সা তারা হাটুরেদের কাছ থেকে কামাই করে। রাত আটটার পর বাতি নিভিয়ে দিলেই বাজার ও তার দশদিক নিমজ্জিত হয় নিঝুম অন্ধকারে।

আকমল বসে আছে আলো ঝলমল কমলাপুর রেল স্টেশনে। সন্ধ্যার আগে থেকেই জ্বলে আছে ফকফকে বাতি। কিন্তু মনির আসছে না কেন? কথা ছিল সন্ধ্যার আগেই মনির এসে তাকে নিয়ে যাবে। সে আকমলকে বলেছে যে দুপুরে ট্রেন থেকে নেমে সে যেন অন্য কোথাও না যায়।

আকমল যায়নি কোথাও। আর যাবেই বা কোথায়? ও তো আগে কখনও আসেনি ঢাকায়। সে কেবল এদিক ওদিক পায়চারি করেছে কিছুক্ষণ পরপর। আর, একবার ফোন করেছিল মনিরকে তার সেকেলে বাটনফোন থেকে। তা-ও আসরের নামাজের সময়। মনির বলেছে, হাতের কাজটা শেষ করেই সে চলে আসবে; আকমল যেন আর ফোন না করে। আকমল বাড়ি থেকে আসার পথে কিছু মুড়ি, গুড় ও পানি এনেছিল। তা তো সাবাড় করেছে সেই অপরাহ্ণে – স্টেশনের মসজিদে বসেই। এখন পেটের ভেতর খিদে কটকট করে কামড়াচ্ছে।

ট্রেন থেকে নামার পর আকমল স্টেশনের প্লাটফর্মে অনেকবার ঢুকেছে বেরিয়েছে। কারণ ছাড়াই – সময় পার করার জন্য। প্লাটফর্মনিবাসী দুয়েকজনের সাথে অনুসন্ধিৎসু চোখে কথা হয়েছে দুয়েকবার। লাল কুর্তা-পরা যুবকের সাথে একটু বেশি সময় কথা হয়েছে। আকমলের নাড়ি টিপে যতটুকু সম্ভব হাড়ির খবর নেবার চেষ্টা করেছে লোকটি। আকমলও ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছে লাল পোশাকধারীরা স্টেশনের মার্কামারা মুটে বা কুলি। মার্কা ছাড়াও আছে অনেক ছেলে-ছোকরা। ধানাইপানাই করে ওরাও এ ধান্দায় দিব্যি টিকে আছে। এই যাওয়া আসার মধ্যে আরও একটা ঘটনা ঘটেছিল যা মনে ধারণ করতে আকমলের লজ্জা লাগে। দুইটা নোংরা মেয়ে প্রথমবার তার গায়ে কৌশলে ঘষা মেরে গেছে। দ্বিতীয়বার ওদের দেখে আকমল যখন পালাচ্ছিল তখন তারা যাচ্ছেতাই খিস্তিখেউড় ছুড়ে দিচ্ছিল তার দিকে। এরপর থেকে সে চোখ খোলা রেখেই হাঁটাচলা করেছে।

সেই দুপুর থেকে স্টেশনে চক্কর খাচ্ছে একটি তাগড়া জোয়ান ছেলে; আগে কোনোদিন ঢাকায় আসেনি; যে তাকে তলব করে নিয়ে এসেছে তার খবরও নেই; এখন করবে কী, যাবে কোথায় তা অজ্ঞাত – এমন বিটকেলে অবস্থায় পতিত লোকটিকে নিয়ে কারই বা ভাববার সময় আছে। তবে ওই লোকটি – লাল কুর্তা – যার সাথে তার একটু গালগল্প হয়েছিল দিনের বেলায়, সে হঠাৎ করে আবার মুখোমুখি হয়ে যায় আকমলের। জিজ্ঞেস করে আকমলকে – আইলো না?

আকমল অসহায় ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে।

- এহন করবা কী? বাইত যাইবা গা?

- কিতা করাম, বুঝতাছি না। আকমলকে ভ্যাবাচ্যাকা লাগছে।

- কিছু খাইছো? দয়ালুর মতো লাল কুর্তা জিজ্ঞেস করে।

আকমল এবার কথা বলে না, মাথাও নাড়ে না।

লাল কুর্তা আকমলকে অনেকটা হেঁচকা টান মেরে বলে - আরে চল মিয়া, তোমার লোক আইবো কি না আইবো কে জানে। না খাইয়া থাকবা কতক্ষণ।

আকমলের পেটে বিষম খিদে; বিরক্তিও চরমে। একবার ভাবলো, একটা ফোন করেই ফেলে। পরক্ষণে জেদ চাপলো, না, করবে না। কেন করবে? মনিরের বিবেক-বুদ্ধি নেই নাকি। কারখানার বাজারে তো এই সেদিনও একসাথে তারা শাকসবজির কারবার করেছে। শুধু তাই না, ঝাঁকা মাথায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা লাউ, বেগুন, টম্যাটো, ঢ্যাঁড়স, মিষ্টিকুমড়া ইত্যাদি বিক্রি করেছে। বছরও ঘুরেনি সেই মনির আলতাফ চৌধুরির রাবার ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতে এসে ফুলবাবু বনে গেছে। কী এমন কাজ করে সে? বানায় তো রাবার-প্লাস্টিকের জুতা-স্যান্ডেল।

লাল কুর্তা প্রায় জোর করেই আকমলকে নিয়ে যায় প্লাটফর্ম থেকে কিছুটা দূরে ফেলে রাখা পরিত্যক্ত মালগাড়িতে। ওখানকার পরিত্যক্ত রেলের বগিতে কী হয় না হয় তা আকমলের জানবার কথা নয়।

[দুই]

মনির আগেভাগে ওস্তাদকে বলে রাখলেও কাজের চাপের কারণে রাত সাড়ে আটটার আগে ফ্যাক্টরি থেকে বের হতে পারেনি। টিপু সুলতান রোডের একটি পুরনো বিল্ডিং-এ আলতাফ চৌধুরির রাবারের জুতা-স্যান্ডেল বানানোর ফ্যাক্টরি। হরিপদ বিশী একাধারে এই দোয়েল ফুটওয়্যার-এর ওস্তাদ ও ম্যানেজার। ঝানু লোক। আলতাফ চৌধুরি হরিপদের ওপরেই এই কারখানার ভার ছেড়ে দিয়েছেন। কোন কায়দা-কানুনে পুরনো ঢাকার বিভিন্ন বাড়িতে বিশাল ক্ষুদ্রশিল্প গড়ে উঠেছে তা মনিরের জানার কথা নয়। তার জানবার ইচ্ছেও নেই। চৌধুরি সাহেবকে অনেক বলে-কয়ে মনিরের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তার মামা মতলুব শেখ যিনি আলতাফ চৌধুরির একটি ট্রাক্টর চালান। তিনি হিসাব কষে দেখেছেন শাক-সবজির ব্যবসার চেয়ে জুতা-স্যান্ডেলের কারখানার শ্রমিক হওয়া অধিক লাভজনক ও সম্মানজনক।

সাড়ে নয়টায় কমলাপুরে পৌঁছে আকমলের হদিশ পায় না মনির । ভয়ের কথা হলো, ফ্যাক্টরি থেকে বের হয়েই মনির ফোন করেছিল। কিন্তু আকমলের ফোন থেকে কোনো জবাব পায়নি। সে ধরে নিয়েছিল, আকমলের ফোনের চার্জ হয়তো শেষ হয়ে গিয়েছে।

ঘন্টাখানেক উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটোছুটি করে এবং ফোনের বোতাম টেপার পরও আকমলের তালাশ না পেয়ে মনিরের বুক ধুকপুক করতে থাকে। প্লাটফর্মের জনবিরল শেষ মাথায় গিয়ে মনির একটা সিগ্রেট ধরায়। ঢাকা শহরে তার নিজের বয়সই সাকুল্যে দশ মাস। প্রয়োজনে যাতায়াত করতে হয় এমন এলাকা ছাড়া ঢাকার অন্য কোনো স্থানে তার যাওয়া হয়নি। এখন আকমলকে সে কোথায় খুঁজবে? ভয়ে তার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। চোখদুটিও ভারী হয়ে গেছে অশ্রুতে।

আকমল ও মনির একই গ্রামের বাসিন্দা। যৌথ শাকসবজির ব্যবসা করতে গিয়ে তারা ঘনিষ্ঠ হয়েছিল এবং তা শেষপর্যন্ত ভাই-বন্ধু সম্পর্কে গড়িয়েছে। মনির চাকরির উদ্দেশে ঢাকামুখী হবার প্রাক্কালে আকমলকে বলেছে – ভাই, তুই চিন্তা করিস না। কামটা ভালা লাগলে তোরেও নিয়া যামু। ওই পর্যন্ত তুই কাঁচামালের বেবসাটা চালাইয়া যা। এখন কাজে তার মন বসার পর আকমলকেও চলে আসার জন্য খবর দিয়েছে। তবে ব্যাপারটা এত সহজে ঘটেনি। মনোযোগের সাথে এবং অতিরিক্ত সময় কাজ করার জন্য মনির ওস্তাদের নেক-নজরে আছে। তাছাড়া দ্রুত সময়ে সে ফ্যাক্টরির চুল্লি, তাপমাত্রা, ছাঁচ, প্লাস্টিক গ্র্যান্যুলস, রেজিন প্যালেটস ইত্যাদি যন্ত্র ও উপকরণের সাথে সখ্য করে ফেলেছে। মালিক আলতাফ চৌধুরির কানেও মনিরের গুণের কথা অল্প-বিস্তর পৌঁছেছে। ফ্যাক্টরিতে আরও পাঁচজন লোক থাকলেও ইদানীং কাজের চাপ যে বেড়েছে এ কথা হরিপদ বাবু মালিকের কানে তুলেছেন। আর এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে মনির ওস্তাদের কাছে আকমলের কথাটা পেড়েছে। সেই অনুরোধের ধারাবাহিকতায় আজ আকমলের ঢাকায় আগমন।

রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত ঘুরাঘুরি করে এবং অনেকবার ব্যর্থ ফোন টেপাটিপির পর মনির তার মেসে ফিরে যেতে মনস্থ করে। আকমলকে তো আজকে পাওয়া গেল না, আগামীকাল যদি কপালে থাকে…। কিন্তু না, হঠাৎ করে মনিরের মনে বিরাট এক আশঙ্কার উদয় হয়। আকমল যদি কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে থাকে! যদি গাড়িচাপা পড়ে মারা যায়! তখন? তখন তার খোঁজ পাওয়া যাবে কেমন করে? মনিরের মন আবার উতলা হয়ে ওঠে। সে ভাবে, আজ আর কিছু হবে না। আগামীকাল ওস্তাদের পরামর্শ নিতে হবে।

[তিন]

ফোন আসে পরদিন বিকেল পাঁচটার দিকে। অপরিচিত নম্বর। ধরবে কি ধরবে না ভাবতে ভাবতে আকমলের কথা চিন্তা করে ফোনটা ধরেই ফেলে মনির। আরে, আকমলেরই কণ্ঠ – বন্ধু, আমি আকমল, আমারে নিয়া যা।

- এই, তুই কোহানে? তোর গলা এমন শোনায় ক্যারে?

- আমি…আমি। এই নে, কথা ক’। আকমল ফোনটা অন্য একজনকে দিয়ে দেয়।

যে অন্য লোকের সাথে মনির ফোনে কথা বললো তাকে সে তো চেনেই না, আকমলেরও কেউ নয় সে। আকমলের সাথে তার কীভাবে যোগাযোগ হলো সে লম্বা কাহিনী ফোনে পয়সা খরচ করে বলা সম্ভব নয়। তাই লোকটি শুধু এতটুকুই মনিরকে বললো যে আকমলকে সে রাস্তায় আউলা-ঝাউলা অবস্থায় পেয়ে মাজারে নিয়ে বসিয়েছে, পানি খাইয়েছে এবং এই ফোন নম্বরটা নিয়ে তার কাছে ফোন করেছে। মনির আরও কিছু জানতে চাইলে লোকটি বললো– আরে ভাই, ফোনে এতো কথা কওন যাইব না; আপনি চইলা আসেন।

মনির জিজ্ঞেস করে – কোথায় আসবো?

- আসেন, পীরজঙ্গি মাজারে। কমলাপুরে আইলেই খুইজ্যা পাইবেন।
উদ্বেগ-উত্তেজনায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে মনির দৌড়ে যায় ওস্তাদের কাছে। সবকথা শুনে ওস্তাদ হরিপদ বলেন – তুমি চলে যাও। অবস্থা বেগতিক দেখলে আমারে ফোন দিয়ো। ওস্তাদ কিছুটা বিব্রত। গতকাল যদি তিনি মনিরকে সময়মতো ছেড়ে দিতেন তবে এ বিপদটা হতো না।

পীরজঙ্গি মাজারে গিয়ে পৌঁছুতে পৌঁছুতে মনিরের ঘড়ির কাঁটা ছয়টার কাছাকাছি চলে যায় যদিও জায়গাটি রিকশাওয়ালা, সিএনজি অটো, বাস-ভ্যান সবারই পরিচিত। পুরনো ধাঁচের মসজিদের মতো একটি দালানে ঢুকেই সে দেখতে পায়, বারান্দার উত্তর পাশে ঝিম ধরে বসে আছে আকমল। চুল উসকোখুসকো, কাপড়চোপড় ময়লা ও কুঁচকানো; হাঁটুর ওপর থুতনি চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে বসে আছে সে। মনির দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে আকমলকে – বন্ধু, তোর এই অবস্থা কেন? কই গেছিলি? কী আশয়-বিষয়?

আকমল চোখ তুলে তাকায়; তবে কিছু বলে না।

মনির তাকে ঝাঁকি দিয়ে বলে – কাইল কই গেছিলি? আর, তাইনে কই, যার লগে কথা কইলাম?

মাথার চুলে আঙুল ঢুকিয়ে আঁচড়ানোর মতো করে আকমল বলে – আমি এইখানে আইলাম কেমনে?

মনির রাগ করে বলে - আমিও তো সেই কথাই জিগাই। তুই কাইল কই আছিলি? আর, ওই মুরব্বী কই? একথা বলতে বলতেই হঠাৎ সে পিছন ফিরে দেখে শীর্ণ তবে মোটামুটি দীর্ঘদেহী এক লোক। মুখে বেশ লম্বা দাড়ি; তবে জট পাকায়নি। মাথায় হলদে পাগড়ি, গলায় বড় তসবিহ’র মালা, কালো জোব্বা, নিচের দিকে শাদা লুঙ্গির কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে।

মনির কিছুটা ভড়কে গিয়ে জিজ্ঞেস করে – আপনার সাথে কি কথা কইছিলাম? আপনে কে বাবা? মনিরের বাবা বলার কারণ হলো, অল্পদিনেই সে বিভিন্ন রাস্তার মাথায়-মোড়ে এধরনের অনেক লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছে যারা অমুক বাবা, তমুক বাবা নামে পরিচিত।

ভদ্রলোক প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উলটো জিজ্ঞেস করেন – ও আপনার কে হয়? নতুন জায়গায় একলা একলা ছাইড়া দিছেন ক্যান?

মনির তড়িঘড়ি করে বলে – আমারে তুমি কইরা বুলান, বাবা। হে আমার বন্ধু, আমিই তারে ঢাকায় আইতে কইছি। আমার দেরি হওনের কারণে…

- হ, বুঝবার পারছি। তোমার আইতে দেরি হইছে, আর হে পেটের খিদায় রেলের ডাব্বায় বইয়া যা পাইছে তা গিলছে। তুমি জান না ওইসব জায়গায় কী অয়? ওরে তো ইয়াবা, ফেন্সিডিল কী না কী খাওয়াইয়া দিছে। পকেটে দুইটেকাও নাই, ফোনও নিয়া গেছে।

- হায় আল্লাহ! এইসব কেমনে জানমু, বাবা। আমরারে জানাইব কেডা?

- যাউক, আরও অনেক কিছু অইবার পারতো – ফুটপাতে পইড়া আছিল। খারাপ লোকে পাইলে গুরদা-কলিজা-হাড্ডিগুড্ডি সব লইয়া যাইত। আর, আমারে বাবা-বাবা ডাইকো না। আমি কারুর বাবা না। আমি এই মাজার-মসজিদের একজন খাদেম।

এতক্ষণ ঝিমুনির জড়তা নিয়ে বসেও আকমল তাদের কথাবার্তা শুনছিল। সে খাদেমের কথা শুনে হাঁটুতে ভর দিয়ে কোনোরকমে দাঁড়িয়ে পড়ে। বলে – কী কইতাছেন, বাবা। আপনি বাবা না অইলে আমরার বাবা আর কেডা?

খাদেম মাথা ঘুরিয়ে বলেন – তুমি চুপ কর। আর, জন্মদাতা বাপের কাছে যাও; তার চরণের ধূলি মাখো।

আকমল বলে – আমার জন্মদাতা বাপ নাই। আপনে আমার বাবা।

মনির যোগ করে – ওর বাপ হেই কবে থেইকা গেরামছাড়া হইছে; বাইচ্যা আছে না মইরা গেছে কেউ জানে না। আবার কেউ কেউ কয় মইরা গেছে।

পীরজঙ্গি মাজারের খাদেমের মনে হঠাৎ একটা ঝাঁকুনি লাগে। তিনি স্থির হয়ে আকমলের মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকান। তারপর তিনি আকাশের দিকে তর্জনী নির্দেশ করে বলেন - সব তাঁর ইচ্ছা। হতাশ হওয়ার কিছু নাই। তোমার বাপ বাইচ্যাও থাকবার পারে। একথা বলে তিনি দ্রুত পা ফেলে মসজিদের ভেতর ঢুকে যান। কারণ মোয়াজ্জেন মাইক্রোফোনে ফু দিয়েছেন; এক্ষুনি মাগরেবের আজান দেবেন।

মনির ও আকমল পেছন থেকে সমস্বরে চিৎকার করে ডেকে ওঠে – বাবা!

কিন্তু খাদেম বাবার আর উত্তর দেবার সময় নেই।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

এত দেরি হবার কথা নয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে। অবশ্য সন্ধ্যা গড়ালেও গা ছমছম করা অন্ধকার এখানে বসত গড়তে পারবে না।

১৯ নভেম্বর - ২০১৭ গল্প/কবিতা: ১৯০ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বিশালতা”
কবিতার বিষয় "বিশালতা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুন,২০২৬