লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩ নভেম্বর ১৯৭২
গল্প/কবিতা: ২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftশহীদ দিবস (মার্চ ২০১৮)

মিলি
শহীদ দিবস

সংখ্যা

Monowara kumu

comment ০  favorite ০  import_contacts ১১৮

মিলি
-------------
সময়ে আবর্তে ঋতু পরিক্রমায় আবার এলো বসন্ত।নতুন পাতায় সেজে উঠেছে পাতা ঝরা উলঙ্গ বৃক্ষরাজি।মূল রাস্তা থেকে বাসায় আসবার গলিতে বিরহী সাজে সজ্জিত যে শিমুল ঠায় দাঁড়িয়ে, তাতেও নব সাজ।গাছের তলায় ঝরে পড়া শিমুলের লাল ফুলগুলো টেবিলের উপর পড়ে আছে।বড্ড অনাথ লাগছে ফুলগুলো কে। দূরে কোথাও কোকিল ডাকছে।বাতাসে বাসন্তী ঘ্রাণ।মিলি বিছানায়।দুপুরে খাওয়ার পর শুয়ে থাকা ইদানিং ওর অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই সময়টুকু একান্তই নিজের।পশ্চিমের জানালায় স্থির দৃষ্টি ওর।সূর্য্যিমামা নিজের সবটুকু উজাড় করে আলোকিত করে চলেছে বিশ্বভূবন। মেঘহীন স্বচ্ছ আকাশ একটুও ভালো লাগে না তার।কেমন যেন বিচ্ছেদের রঙ ছড়িয়ে থাকে।যেন কেউ নেই,কিচ্ছু নেই।ঠিক টেবিলের উপর পড়ে থাকা শিমুল ফুলগুলোর মতো।একা,নিরীহ।মিলি নিজেও তাই।ওর জীবনের অলিগলি,ওর পৃথিবী পুরোটাই শূন্যতার চাদরে আবৃত। নাহ্ আর শুয়ে থাকা গেলো না।বিছানা ছেড়ে ঘরে ঘরে পায়চারী। দখিনের বারান্দায় যেয়ে স্থির হলো সে।একটু সময় দাঁড়িয়ে প্রকৃতি দেখা।তারপর আবার বিছানায়।মনটা খারাপ হয়ে গেলো ভীষণ রকম।ঘরের দেওয়ালে,কোণায় কোণায় কেবলই নিঃসঙ্গতা।নিঃসঙ্গতা আর শূন্যতা।বাকহীন কষ্টগুলো ওকে জড়িয়ে ধরে আপাদমস্তক।


দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে চমকে ওঠে মিলি।কে এলো এ অসময়ে! আফা কি ঘুমান? নারে শুয়ে ছিলাম।কেন? কিছু বলবেন? হ,কমু বইল্লাই তো আইছি। আসেন,ভেতরে আসেন। হ আইছি।হুনেন মোগো কাকলীর বিয়ার সম্বন্ধ আইছে,হেইয়া তো হুনছেন।আল্লার নাম লইয়া বিয়া ঠিক অইছে।আইজ রাত্তিরে রেস্ট্রি অইবো কাজি অফিসে। বাহ্ ভালো তো,সুখবর।কাকলী কই এখন?আর ঐ বাজে ছেলেটা এই খবর পায় না যেন। ঘরে কাকলী।না আফা খবর পাইবো না।হেইয়ার কারণেই তো এতো শিগগির শিগগির বিয়ার কাম সাইরা ফালাই। ঠিক আছে,এখন আমার কি কাজ? কাকলীর লগে আপনেরে কাজি অফিসে যাওন লাগবো।রেডি থাইককেন কইলাম। কারো বিয়ের কাজে,কারো ডেলিভারির সময় পাশে থেকে সাহস আর সাহায্য সহযোগিতা করেই ক্ষ্যন্ত নয় সে।গরীব অসহায় মানুষের সব সমস্যায় পাশে থাকাই যেন আজীবনের ব্রত।তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে কলেজে ভর্তি করানো,অল্প টাকায় বা বিনা টাকায় প্রাইভেট ঠিক করে দিয়ে আত্মতৃপ্তি পায় সে।এসব করেই নিজেকে ব্যস্ত রাখবার আপ্রাণ চেষ্টা মিলির। গরীব অসহায় মানুষগুলোর ভালোবাসায় বেশ কেটে যায় তার সময়।কিন্তু তার মধ্যেও একটু অলস সময় বিষন্ন দুপুর,মনটা ঠিক বিষিয়ে দিয়ে যায়।আজও তাই হলো।কষ্টের গহীনে ডুবে গেলো কষ্ট পাওয়া মেয়েটা।


কত বসন্ত এলো গেলো।মেয়েটার জীবনেই কেবল বসন্ত আসে না।জীবন যুদ্ধে উতরে যাবার লড়াইয়ে এখন সে বড় বেশি ক্লান্ত।কেমন যেন খাপছাড়া জীবন তার।ঠিকানা বিহীন ছন্নছাড়া। সেই স্কুলের গণ্ডি পেরুনোর পর থেকেই আজ এখানে,কাল ওখানে।শুধু ভেসে চলা। বড্ড সংসারমনা মিলি। গুছিয়ে সংসার করবার অতৃপ্ত বাসনা কে কবে কখন নিজেই নিজের হাতে হত্যা করেছে,মেয়েটা ভুলেই গেছে।ওর খুউব চাওয়া ছিলো কারো শাসনে আদরে বেঁচে থাকবার।হয়নি,পায়নি রক্তের বন্ধনের মমতাও।হতচ্ছাড়া ভাগ্যে মা বাবার ভালোবাসাও জোটেনি খুব বেশি দিন।ওনারাও চলে গেলেন,তারপর ভাইবোন সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের দেওয়ালে জমে উঠলো কষ্টের শ্যাওলা। জীবন ঘুড়ির নাটাই হাতে তার শুধুই ছুটে চলা।বহুকাল গত করে এবার বসন্ত এলো তার জীবনে।বাসন্তী রঙ সেজে উঠেছে ওর ঘরের কষ্ট রঙা দেওয়ালেরর পরতে পরতে।ওর একাকীত্ব ঘুছিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী কায়সার।মিলি কায়সারের সবটাই জানে।জানে তার সততা সম্পর্কে,জানে তারু পরিমিত জীবন ধারনের আদ্যোপান্ত। মেনে নেওয়ার অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা ওর।বাড়ি গাড়ি যশ খ্যাতি কোনো আহামরি চাহিদা নেই তার।চায় কেবল একটু মমতা আদর ভালোবাসা,আর শাসন। ৪ আজ ভাবনার অন্তরালে অন্য রকম এক অনুভূতির ছোঁয়া মিলির হৃদয় গহীনে।এবার একাকীত্ব ঘুছিয়ে মিলনের সুর আঁকবে জীবনের ফাঁকা ক্যাম্পাসে।জীবনের এই পড়ে যাওয়া বেলার ধুসর রঙে উড়ে বেড়াবে শান্তির শ্বেত বলাকা। মিলি জানে,তার এই সুখানুভূতির অন্তরায় হবে সমাজ সংসার তথা সম্পর্কের বাঁধন ছিঁড়ে দূরে সরে যাওয়া কাছের মানুষগুলো।মিলি আপন মনে হাসে।সে এবার সমাজ সংসারে বসতকারী মানুষগুলোর অন্ধ হয়ে যাওয়া চোখের পর্দা সরিয়ে দেবে।বুঝিয়ে দেবে মিলিরাও মানুষ।তাদেরও শখ আছে,সাধ আছে।বেঁচে থাকবার প্রয়াশ আছে।


ভুলেই গেছে।ওর খুউব চাওয়া ছিলো কারো শাসনে আদরে বেঁচে থাকবার।হয়নি,পায়নি রক্তের বন্ধনের মমতাও।হতচ্ছাড়া ভাগ্যে মা বাবার ভালোবাসাও জোটেনি খুব বেশি দিন।ওনারাও চলে গেলেন,তারপর ভাইবোন সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের দেওয়ালে জমে উঠলো কষ্টের শ্যাওলা। জীবন ঘুড়ির নাটাই হাতে তার শুধুই ছুটে চলা।বহুকাল গত করে এবার বসন্ত এলো তার জীবনে।বাসন্তী রঙ সেজে উঠেছে ওর ঘরের কষ্ট রঙা দেওয়ালেরর পরতে পরতে।ওর একাকীত্ব ঘুছিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী কায়সার।মিলি কায়সারের সবটাই জানে।জানে তার সততা সম্পর্কে,জানে তারু পরিমিত জীবন ধারনের আদ্যোপান্ত। মেনে নেওয়ার অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা ওর।বাড়ি গাড়ি যশ খ্যাতি কোনো আহামরি চাহিদা নেই তার।চায় কেবল একটু মমতা আদর ভালোবাসা,আর শাসন।


আজ ভাবনার অন্তরালে অন্য রকম এক অনুভূতির ছোঁয়া মিলির হৃদয় গহীনে।এবার একাকীত্ব ঘুছিয়ে মিলনের সুর আঁকবে জীবনের ফাঁকা ক্যাম্পাসে।জীবনের এই পড়ে যাওয়া বেলার ধুসর রঙে উড়ে বেড়াবে শান্তির শ্বেত বলাকা। মিলি জানে,তার এই সুখানুভূতির অন্তরায় হবে সমাজ সংসার তথা সম্পর্কের বাঁধন ছিঁড়ে দূরে সরে যাওয়া কাছের মানুষগুলো।মিলি আপন মনে হাসে।সে এবার সমাজ সংসারে বসতকারী মানুষগুলোর অন্ধ হয়ে যাওয়া চোখের পর্দা সরিয়ে দেবে।বুঝিয়ে দেবে মিলিরাও মানুষ।তাদেরও শখ আছে,সাধ আছে।বেঁচে থাকবার প্রয়াশ আছে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement