ফিলিস্তিনি এক বাবা তার ছেলের জন্য ঈদের নতুন জামা কিনে বাসায় ফিরে দেখে তার ছেলেকে দখলদার ইসরাইল হত্যা করে। তার মানসিক অবস্থা কেমন তা তুলে ধরা হয়েছে; বাবারা এমনি হয় !
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জানুয়ারী ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ২৯টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - বাবারা এমনই হয় (জুন ২০১৯)

নতুন জামার স্বাদ
বাবারা এমনই হয়

সংখ্যা

এস জামান হুসাইন

comment ০  favorite ০  import_contacts ১৬
গ্রামের সর্বশেষ বাড়িটা হচ্ছে খালেদের। দেশের বেশিরভাগ এলাকা ফসল চাষের অনুপযোগী হলেও এই গ্রামটি বেশ উর্বর। নিজের সামান্য জমি চাষাবাদ এবং অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে ভালই চলছিল দুই ছেলে - মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে খালেদের সংসার।

পৃথিবীতে বাবা হচ্ছেন এক আজব প্রাণী যার চেহারা সুরত ঠিক মানুষের মত; দুটি পা, দুটি হাত, দুটি চোখ, দুটি কান এবং একটি করে মাথা আর নাক আছে। সুখ - দুঃখ, হাসি - কান্না কোন কিছুতেই যেন তার অনুভূতি নেই। কর্মময় ব্যস্ত জীবন, ছেলে - মেয়ের আবদার - অনুদার, অভিযোগ, সংসারের অভাব অনটন জীবনের স্বাদ মিটিয়ে দেয়।

নয় বছর বয়সী ফাত্তাহ আজও রোজা রেখেছে। এটা তার তৃতীয় রোজা। আর দশ দিন পরেই ঈদ। বাবা - মায়ের সাথে একসাথে ইফতারে বসেছে সে। একটু পরেই মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ভেসে আসে “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।” খেজুর মুখে দিয়ে ইফতার করে ফাত্তাহ তার বাবাকে বলে, “এবার ঈদে আমাকে নতুন জামা কিনে দিতে হবে।”
খালেদ কিছু বলে না। চুপচাপ খেজুর মুখে দিয়ে একটু চিবিয়ে পাকস্থলীতে পাচার করে দেয়।
একটু পরে ফাত্তাহ আবার বলে “ এবার নতুন শার্ট প্যান্ট কিনে না দিলে আমি ঈদের মাঠে যাব না।”
খালেদ এবারও চুপচাপ আছে। মাঝে মাঝে খাবার গলদকরনের শব্দ হয়। এবার মুখ খুলে ফাত্তাহ,র মা, “ওগো তুমি কিছু বলছ না যে, গত ঈদেও ওকে নতুন জামা দাও নি। ও ছোট মানুষ, ওর কি সখ নেই। ওর বয়সী সবাই নতুন জামা পরে ঈদের মাঠে যাবে।”
খালেদ জানে সখ অবশ্যই আছে, স্বাদও আছে কিন্তু সাধ্য কোথায়? কিছুক্ষণ চুপ থেকে এবার মুখ খুলে, “ ঠিক আছে কিনে দিব।”


সংসারে বাবা হলেন কলুর বলদ। সারাজীবন সংসারের ঘানি টেনে যায় কোন বিনিময় ছাড়াই; বিনিময় চায়ও না। সারাদিন কর্মব্যস্ত সময় পার করে বাসায় ফিরে আবার সংসারের ব্যস্ততা। অবসরের ফুসরত কোথায়! অবসরতো তখন পাবে যখন কাধের দুই ফেরেশ্তা নেমে যাবে !

খালেদ প্রতিদিনের আয় থেকে কিছু টাকা জমা করতে থাকে। ছেলের জন্য নতুন জামা কিনতে হবে যে। আর মাত্র তিন দিন আছে ঈদের। সকালে খালেদ কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায় আর ছেলেকে বলে, “আজ তোমার জন্য নতুন শার্ট - প্যান্ট নিয়ে আসব।”

ফাত্তাহ আজ খুবই খুশি। তার জন্য আজকে নতুন জামা কিনে আনবে। সবাইকে নতুন জামা দেখাবে। নতুন জামা গায়ে দিয়ে বন্ধুদের সাথে ঈদের মাঠে যাবে। কী মজাই না হবে !

দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়। বাবাও ফিরে আসে না তার অপেক্ষার প্রহরও শেষ হয় না। এর মধ্যে শুরু হয় গুরুম গুরুম শব্দ। মর্টারসেলের শব্দ। ফিলিস্তিনে এই শব্দ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার । এই শব্দে ঘুম ভাঙ্গে, এই শব্দ শুনে ঘুমায়। অবৈধ দখলদার ইসরাইলের একটি মর্টারসেল ছুটে আসে ফাত্তাহ’র বুকে। সাথে সাথেই লুটিয়ে পরে মাটিতে। স্বাদ মিটে যায় নতুন জামার। শেষ হয়ে যায় বাবার সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষার প্রহর।

এই জগতে সবচেয়ে দুর্লভ বস্তু হচ্ছে পুরুষের চোখের পানি অর্থাৎ বাবার চোখের পানি। চোখ দিয়ে রক্ত ঝরে তবুও পানি আসে না। ছেলের মৃত চেহারার দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকে খালেদ। বাবারা এমনি হয় !

ফাত্তাহকে কবরে সমাহিত করা হয়। সাথে সমাহিত করা হয় মানবতাকে; সমাহিত করা হয় নতুন জামার স্বাদ !

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement