লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জানুয়ারী ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ১৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৬

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - অন্ধ (মার্চ ২০১৮)

অন্ধ জনে দেহ আলো
অন্ধ

সংখ্যা

মোট ভোট ১৬

এস জামান হুসাইন

comment ৯  favorite ০  import_contacts ২১৮
চোখ মানুষের মহামূল্যবান সম্পদ। শুধু মানুষের নয়; জগতের সকল প্রাণীর কাছে এটা মহামূল্যবান। তবে মানুষ চোখের অভাবকে সবচেয়ে বেশি অনুভব করে। অনেকে আবার চোখ থাকতেও অন্ধ। তারা চোখের মাথা খায়। অনেকে চোখ থাকতেও চোখের মর্যাদা দেয়না। চোখ না থাকা মানে কিছুই না থাকা। যে পৃথিবীর রূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেনা তার নিকট পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ মূল্যহীন। চোখ না থাকলে অনুভূতির পূর্ণতা আসে না। এই মহামূল্যবান চোখ দুটিই হারাল কলেজ ছাত্র আবির।

ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা মায়াবী এক গ্রাম ঢাকেরকান্দা। কিচিরমিচির পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে যায় গ্রামবাসীর। সকালের ঝিলিমিলি সূর্যের আলো স্নান করিয়ে দেয় সকলকে। এই গ্রামে শিক্ষার আলো বলতে তেমন কোন আলো পরে নাই। বিদ্যুতের আলোতো আরও অনেক পরের কথা। এই ঢাকেরকান্দা গ্রামে অশিক্ষিত ও দরিদ্র কৃষক তহুরের ঘরে জন্ম নেয় আবির। জন্মের সময় শপথ নেয় ঢাকেরকান্দা গ্রামটিকে আলোকিত করার। কিন্তু আজ সে নিজের মহামূল্যবান চোখ হারিয়ে নিজেই আলোর সন্ধানী।

বাবা ষোল বছর আগেই চিরতরে চলে যান এই নশ্বর পৃথিবী থেকে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে আবির ছোট। তাই তাকে নিয়েই স্বপ্ন ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সে স্বপ্ন দেখবে কি দিয়ে? তারতো চোখ নেই।

অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসে আবির। অনার্স কোর্সে ভর্তি হয় ঢাকার একটি স্বনামধন্য কলেজে। লেখাপড়ার খরচ ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা সে টিউশনি করে চালায়। তবুও সে লেখাপড়া চালিয়ে যায় ঠিকঠাক মত। সে বাড়িতে তার বড় ভাইকে বলে, “ আমি টিউশনি করে মেসের খরচ চালাতে পারব, বাড়ি থেকে আর টাকা পাঠাতে হবে না।” দিনমজুর বড় ভাইয়ের আত্ববিশ্বাস বেড়ে যায়। বিধবা মা স্বপ্নের জাল বুনতে থাকে ছোট ছেলেকে নিয়ে। “ জান মা,আমি লেখাপড়া শেষ করে বি সি এস কর্মকর্তা হব,” বলে আবির।

স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে তরতর করে উঠছিল আবির। কিন্তু হঠাৎ স্বপ্নের সিঁড়িতে ফাটল ধরায় জীবনের সরল গতির ছন্দপতন ঘটে। অনার্স কোর্সের পরীক্ষা গ্রহনে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচীর দাবিতে কয়েকটি কলেজের ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনে জড়িয়ে পরে আবির। সব ছাত্ররা অবস্থান কর্মসূচী গ্রহন করে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তারা অন্য জায়গায় অবস্থান নেয়। সেখানেও পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য কাঁদানেগ্যাস ও টিয়ারশেল ছুড়ে। আবিরের চোখে টিয়ারশেলের আঘাত লাগে। মাটিতে লুটিয়ে পরে আবির।


আবিরকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। আবিরের চোখে মারাত্মক আঘাত লাগে। তার চোখের জেল ও কর্নিয়া নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে আর চোখে দেখতে পারবে না। নেমে আসে চোখে অন্ধকার। থেমে যায় জীবনের গতি। ডাক্তার জানান, “তার দুই চোখ ফেটে গেছে। তাই সে চোখে আলো পাচ্ছে না।” পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় ভারতে। কিন্তু ফলাফল একই। তার চোখের কোন উন্নতি হয় না।

স্বপ্নের পরিবর্তে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। এই দুঃসংবাদে তার মাসহ স্বজনরা চোখে অন্ধকার দেখে। মা পাগল হয়ে ছুটে যান ছেলের কাছে এবং বিলাপ করতে থাকেন। ভাইয়ের চোখ ভাল নাও হতে পারে শুনে কান্নায় ভেঙে পরে দিনমজুর বড় ভাই। মনে অনেক কষ্ট নিয়ে বলে, “কত কষ্ট কইরা আমার ভাইডা পড়ত। কত আশা। কিছুই করতে পারছি না। কিছুই আমরা জানছি না…...। কি অপরাধ করেছিল আমার ভাই? তারে ক্যান আন্ধা বানাইয়া দিল...? তার সঙ্গে ডুকরে কাঁদছিলেন আবিরের মা ও তার স্বজনরা। কিন্তু কাঁদলেই কি চোখ ফিরে পাওয়া যায়?

“আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন সে চিন্তা করে লাভ নেই। আমি এখন আগের অবস্থানে নেই” আবির বলে। সে চোখ বাঁচাতে লড়ছে, লড়ছে আসলে জীবন নিয়ে,জীবনের পরিণতি নিয়ে। এই কয়েকদিন আগেও স্বপ্নবাজ যে ছেলেটি দু’চোখ ভরে দুনিয়া দেখত, দ্রুত পরীক্ষা পাস করে একটি চাকরির স্বপ্ন বুনত, সে আর এখন সে স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে। দুনিয়া তাকে দেখিয়েছে ভিন্ন জিনিস। আসলে স্বপ্ন দেখার অধিকার তার ছিল না।

“এ ঘটনাটি অনেক কষ্টের ও বেদনাদায়ক। তবে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দিতে পারাটা স্বস্তিদায়ক” স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন। ঘটনাটি সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও আবিরের জন্য অস্বস্তিদায়ক। চোখ নিয়ে চাকরি দিয়েছে। মহৎ কাজ করেছে। অন্ধ জনে আলো দেখিয়েছে ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement