এটা আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার নিয়ে লেখা একটা গল্প। এমন আবিষ্কার যা কল্পনাকেও হার মানায়।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ এপ্রিল ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী (নভেম্বর ২০১৮)

সাইন্স ফেয়ার
বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী

সংখ্যা

তালহা জুবাইর তৌহিদ

comment ০  favorite ০  import_contacts
ছুটির দিনে সন্ধ্যায় গাড়ি নিয়ে এদিক ওদিক ঘোরাটা এখন অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। আসলে অভ্যাসও ঠিক নয় অনেকটা নিরুপায় হয়েই ঘুরি। সারাটাদিন একা একা ঘরে বসে থাকা যে কত কষ্টের তা দুবাই এসে গত ছয় মাসে হারে হারে টের পেয়েছি। ছয়টা দিন তাও কাজের মধ্যে চলে যায় কিন্তু এই শুক্রবার কিছুতেই কাটেনা। অফিস থেকে গাড়িটা দেয়াতে খুব সুবিধা হয়েছে। গাড়িটা পাবার আগে প্রথম কয়দিন রাস্তায় উদ্ভ্রান্তের মত এখানে সেখানে ঘুরতাম। এইটুকু এক দেশ মাস না ফুরোতেই সব দেখা শেষ। তারপর বের করলাম নতুন এক বুদ্ধি। কেডস ট্রাউজার পরে সন্ধ্যাই বের হতাম উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরতে কেউ দেখলে মনে ভাববে জগিং করছে। তিন মাস পর কোম্পানি থেকে গাড়ি পেলাম এখানে যে জুনিয়র সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কেও কোম্পানি গাড়ি ইউজ করতে দেয় তা বাংলাদেশে ভাবায় যায় না।

বিকাল পাঁচটায় গাড়ি নিয়ে বের হলাম। দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে একটা সাইন্স ফেয়ার হচ্ছে। বিলবোর্ডে পোস্টার দেখেছিলাম গিয়ে দেখি কেমন হচ্ছে, তারপর রেস্টুরেন্টে খেয়ে বাড়ি চলে আসব। এইতো চলে এসেছি কোন ফ্লোরে প্রোগ্রাম হচ্ছে জেনে নিতে হবে। গাড়িটা পার্ক করে ভিতরে ঢুকে গেলাম। বিশাল এক কমপ্লেক্স আর শত শত মানুষ ভেতরে ঢুকছে আর বেরোচ্ছে। সামনে তাকাতেই দেখলাম এক রোবট একটা পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাতে লিখা 'সাইন্স ফেয়ার ইজ ইন এইটথ অ্যান্ড নাইন্থ ফ্লোর'। রোবটটা আবার মুখে বলছে 'গো টু এইটথ অ্যান্ড নাইন্থ ফ্লোর টু সি দ্যা সাইন্স ফেয়ার' ; বাহ মনে হচ্ছে ফেয়ার ভালোই হবে। লিফটে চলে গেলাম এইটথ ফ্লোর মানে ন'তলায়। লিফট থেকে নেমেই সামনে তাকিয়ে দেখি দুজন হিজাব পরা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা সবাইকে বুঝাচ্ছে এই ফেয়ারের কি কি বিশেষত্ব আছে। বুঝতে পারলাম না এখানে দাঁড়িয়ে সেটা বলার কি আছে ভেতরে গেলেই তো দেখতে পাব আর খুব প্রয়োজন হলে একটা ব্যানার দিয়ে দিলেই হত। লিফটে আমার সাথে দুজন আঠার-উনিশ বছরের ছেলে উঠেছিল তারা দেখলাম বেশ উৎসাহ নিয়ে মেয়েদুটাকে অ্যারেবিকে কিসব জিজ্ঞেস করছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে এরা সাউথ এশিয়ান এখানে হয়তো অনেক দিন ধরেই থাকে, অ্যাারাবিক বলছে কিন্তু অ্যাকসেন্টটা ঠিক অ্যারাবিক নয়। তারসাথে এই মেয়েদুটাকে দাঁড়িয়ে রাখার কারণটাও বুঝলাম। এখানে যারা আসছে তাদের বেশিরভাগ এই বয়সের ছেলে মেয়ে। আমিও এগিয়ে গেলাম মেয়েটা কি বলছে শুনতে। একটা মেয়ে বলছে, ' ইউ হাভ ফিফটি স্টল অফ ফিফটি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি আন্ড দে হ্যাভ ওয়ার্ল্ড রিসেন্ট ইনভেনশন..' । এদের কথা আর শুনতে ইচ্ছা করল না সোজা মেলার মধ্যে ঢুকে গেলাম। স্টলের সামনে এসে আমার ভুল ভাঙ্গল এখানে কেবল টিনেজার নয় বেশ কিছু সুটেট বুটেট আর কিছু জুব্বা পরা লোকও দেখলাম।


প্রথম স্টলটা হুন্ডাই কোম্পানির, একটা গাড়ি দেখাচ্ছে সোলার আর তেল দুটা দিয়েই গাড়ি চলবে, এটার নাম দিছে হাইব্রিড গাড়ি। পরের স্টলে একটা চাইনিজ রিয়েল স্টেট কোম্পানি ভূমিকম্প প্রতিরোধী বিল্ডিং দেখাচ্ছে। পরেরটাতে একটা সফটওয়্যার কোম্পানি তাদের নানা সফটওয়্যার দেখাচ্ছে। আরেকটু এগুতেই দেখলাম একটা ন্যাদারল্যান্ডের স্টল সেখানে গিয়ে থমকে গেলাম তারা দেখাচ্ছে পানি ছাড়া সবজি আর ফল চাষ। একটা পাইপের উপরের দিকে কেটে কাপে গাছ লাগিয়েছে কাপের মধ্যে মাটির বদলে দিছে কোকোপিট মানে সম্ভবত নারকেলের ছোবড়া। সেই কাপটারও আবার চারদিকে ছিদ্র করা সেখান দিয়ে গাছের শিকড় পাইপের পানির মধ্যে চলে এসেছে। একটা ট্যাংক থেকে পাইপে পানি আসছে আর ঐ ট্যাংকে গাছের সব খবার দেয়া হচ্ছে। এই চাষ পদ্ধতির নাম হাইড্রোপনিক্স। এই টেকনিকে মরুভূমি থেকে শুরু করে নাকি পাহারের উপরও টমেটো, লাউ, তরমুজ আরও এমন অনেক ফল আর সবজি চাষ করা যাবে। প্রায় দশ মিনিট ধরে এদের কাজ দেখলাম। পরের স্টলের দিকে জেতেই দেখি আমার এক সিনিয়র বাংলাদেশী শাহিন সাহেব। আমার কোম্পানিতেই সিনিয়র সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। ঐ দিকের একটা স্টলে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে বললাম,' স্যার কেমন আছেন?' । আমার দিকে একবার তাকিয়ে সালামের জবাব দিয়ে বলল, 'এই দিকে দেখেন'।
দেখালাম বিখ্যাত গাড়ির কোম্পানি টেস্লার একটা স্টল। বড় করে লেখা HYPERLOOP। জিনিসটা কি বুঝলাম না সামনের স্ক্রিনে একটা ভিডিও দেখাচ্ছে। একটা পাইপের মধ্যে দিয়ে ট্রেন যাবে যার স্পিড হবে ৮০০-১০০০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। ওড়া এটা কে বলছে চতুর্থ যোগাযোগ মাধ্যম। মানে সড়ক, আকাশ, জলের পরে এটা নতুন যোগাযোগ মাধ্যম। মজার ব্যপার হল দুবাইয়ে নাকি ইতিমধ্যে এর কাজ চলছে। আমি শাহিন সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললাম, 'স্যার এরা বলে কি? মাটিতে নাকি প্লেনের স্পিড!'।
শাহিন সাহেব হেসে বলল,'দুনিয়াতে কত কি হয় তপু সাহেব'।
-'আমার কাছেতো স্যার এসব সাইন্স ফিকশন এর মত মনে হচ্ছে'।
শাহিন সাহেব আবার হেসে বললেন,'দুনিয়ার এক প্রান্তে যেটা সাইন্স ফিকশন অন্যপ্রান্তে সেটা সুধুই সাইন্স'।
আমরা পরের স্টলে চলে গেলাম সেখানে নাকি কৃত্তিম পাহাড় বানিয়ে মেঘকে বাধা দিয়ে বৃষ্টি নামানো দেখাচ্ছে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement