যেহেতু বাবা সম্পর্কে লিখেছি,বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জ্যপূর্ণ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ নভেম্বর ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৪টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - বাবারা এমনই হয় (জুন ২০১৯)

বাবা
বাবারা এমনই হয়

সংখ্যা

Mahin Iqbal

comment ২  favorite ০  import_contacts ৪৬
এই জগতে যদি আমার সবচেয়ে আপন কেউ হয়ে থাকে
সেটা তুমি বাবা।
আমি জানি বাবা,
তুমি আমার জন্যই বিশ্রাম ছেড়ে
অফিস, আদালতে সারাদিন কাজ করে
তুমি আমার জন্যই রোজগার করে
যেন আমি
উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে
তোমার চেয়েও বড় কিছু হতে পারি।
বাবা,
আমি দুঃখিত আমি তোমার সেই যোগ্য ছেলে নই
আমি অধম,আমি গাধা, আমি কিছুই পারি না
তুমিও জানো যখন মা আমাদের ছেড়ে চলে যায়
আর পায়ে টিউমার হওয়ার জন্য আমার পা কেটে ফেলা হয়,
তখন আমার জীবন অন্ধকারাচছন্ন হয়ে গিয়েছিলো।
আমি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলাম,
বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম
সেই মুহূর্তে তুমি আমায় জড়িয়ে ধরেছিলে,
কিছু বলার জন্য মুখ নাড়িয়েছিলে,
কিন্তু আমার কষ্টের স্পর্শে তুমিও কেঁদে দিয়েছিলে।
আমি এতক্ষণ যা ভেবেছিলাম তা ধুলোয় মিশে গেলো,
তোমার সেই আচরণটি আমার মনে একটুখানি দ্বীপ জ্বেলে দিল।
তারপর অনেকদিন কেটে গিয়েছিল।
মাকে হারানোর শোক আমি ভুলে গিয়েছিলাম।
কিন্তু আমি জানি তুমি আজও ভুলোনি
প্রত্যেক রাতে উঠে দেখি তুমি বারান্দায় দাড়িয়ে আছো
হাতে সিগারেট, একটার পর একটা টেনে যাচ্ছ।
তোমাকে দেখে আমি আবার ঘুমানোর চেষ্টা করি,কিন্তু পারি না।
কারণ শুনতে পাই তুমি কাঁদছ

আর বলছো শায়লা তুমি কেনো আমায় ছেড়ে চলে গেলে?
কান্না আমিও থামিয়ে রাখতে পারিনি
চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি বয়
কিন্তু মুখ থেকে শব্দ বের করে না,
ভয় হয়
কারণ আমি জানি
তুমি আমার কান্না দেখে কষ্ট পাও।
তাই বালিশ চোখের পানিতে ভিজে ওঠে।
সকাল বেলা আবার আপনাআপনি শুকিয়ে যায়।
সকালে তুমি আমায় কোলে করে বাথরুমে নিয়ে যাও,
মুখে সেই রাত্রের দুঃখের কোন চিহ্ন নেই।
উল্টো মুখে ঝলমলে হাসি।
আমাকে কোলে করে তুমি স্কুলে নিয়ে যাও,
স্কুল কম্পাউন্ডে নামার ঠিক আগে
তুমি আমাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে নাও।
হুইল চেয়ারে করে আমি ক্লাসে চলে যাই।
বাবা,
মায়ের মৃত্যুর পর আমার চরম অবনতি হয়েছে
পড়াশুনা করতে পারি না, ঠিকভাবে খেতে পারি না
তুমিই কষ্ট পাবে বলে জোড় করে একটু খাই।
যখন আমি পরীক্ষায় খারাপ করে তোমাকে মার্কশিট দেখাই,
তোমার মুখ থমথমে হয়ে যায়, হয়ত মনে প্রচন্ড আঘাত পাও।
সেদিনই আমি প্রতিজ্ঞা করি,
তোমার মুখে হাসি দেখার জন্যই আমি পড়াশোনা করবো।

কারণ আমি জানি বাবা,
আমার যতই অবনতি হক তুমি আমার উপর থেকে আশা ছাড়বে না।
আমিও তোমাকে আশ্বাস দিচ্ছি,
তোমার মত বাবা থাকলে কোন ছেলেরই
অবনতি ঘটতে পারে না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement