এবারের বিষয়কে মনে রেখে এই কবিতাটি লিখবার চেষ্টা করছি । কবিতাটির বিষয়বস্তু কোন কাল্পনিক নয় । আমার নিজের চোখে দেখা আমাদের এক প্রতিবেশীর জীবনের এক সত্য কাহিনী । যদি এই কবিতাটি পড়ে আপনাদের ভাল লাগে তবে আমার এই লেখার প্রয়াসটি সার্থক হবে ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
গল্প/কবিতা: ২৭টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - ভাঙ্গা মন (নভেম্বর ২০১৯)

বৃদ্ধাশ্রম
ভাঙ্গা মন

সংখ্যা

বিশ্বরঞ্জন দত্তগুপ্ত

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৪৬
পাঁচটা বছর কাটিয়ে দিলাম আশ্রমের এই ঘরে -
সবার কাছে পরিচিতি এটা - " অভয়া বৃদ্ধাশ্রম " বলে ।
আশ্রমের একটা ছোট্ট ঘরে আমরা থাকি ভিনদেশি তিনজন ,
জরাজীর্ণ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত , কোনক্রমে করি দিনযাপন ।
তাকিয়ে থাকি আকাশ পানে কবে আসবে ডাক --
মৃত্যু আমাদের দোর গোড়ায় যেকোনো সময় আসবে তাদের হাঁক ।

মনে পড়ে অনেক আগের মধুর সেই স্মৃতি --
কলকাতার এক বনেদি পরিবারে ছিলাম রাজরানী ।
টাকা - পয়সা , গাড়ি - বাড়ি , দাস-দাসী সবই আমার ছিল ,
অভাব কি জিনিস , জীবনে সেটা বুঝিনি কখোনো ।

ছিল আমাদের ছোট্ট খোকা , থাকত আমার কোলে
তাকে নিয়ে কত স্বপ্ন আকতাম মনে-মনে ।
একদিন খোকা বড় হোল , তবুও সে আমাদের ছোট্ট সেই খোকা
সে কাছে না থাকলে আমাদের জীবনটাই যেন বৃথা ।
হটাৎ একদিন ... , অজানা এক জ্বরে ----
খোকার বাবা চলে গেলেন আমাদের একলা রেখে ।

খোকা আমার বড় হয়েছে , হয়েছে তার সংসার ,
আমার এখন বয়স হয়েছে , পারি না করতে সংসার ।
সারাটা দিন কাটাই আমি খোকার ছেলেকে নিয়ে ,
নাতিটি আমার খুব ভাল , সারাটা দিন আমার কাছেই থাকে ।

সময় পেলেই শোনাই তাকে মহাপুরুষদের গল্প ,
দেশমাতৃকার প্রতি তাঁদের আত্মত্যাগ আর আত্ম বলিদানের গল্প ।
দেবতাদের ভক্তি কোর এটা বোঝাই তাকে
বাবা-মাই তোমার আসল ভগবান , তাঁদেরকে রেখ সেই স্থানে ।
এখন আমার বয়স বেড়েছে , আর পারিনা হাঁটতে ,
রাজপ্রাসাদে জীবন কাটাই ছোট্ট একটি ঘরে ।

....... অবশেষে একদিন , ভয়ংকর এক ঝড়-জলের রাতে ,
আমার প্রাণঅন্ত সেই খোকা - প্রায় জোর করে পাঠিয়ে দিল
চারদেওয়ালের বন্ধি এই " অভয়া বৃদ্ধাশ্রমে " ।
সময়ের বড় অভাব তাদের , আসেনা দেখতে আমায় ,
আমি যে আজ তাদের ভীষণ বোঝা , এটা বুঝি সবসময় ।

সকাল থেকে বসে থাকি , তাদের অপেক্ষা করে ,
দেখতে তাদের ইচ্ছে করে , আমার মৃত্যুর আগে ।
নয়ন ভিজিয়ে বসে থাকি , সময় গড়িয়ে যায় --
তবুও তারা আসে না এখানে , তাদের কাছে সময় বড় দায় ।
সকাল থেকে সন্ধে গড়ায় তবুও আসে না তারা
পরের সকালে আবার ভাবি , আজ নিশ্চয় আসবে তারা ।

তন্দ্রাচ্ছন্ন আজ আমি , মৃত্যুপথ যাত্রী , চারিদিকে অন্ধকার ,
তারই মধ্যে খুঁজতে থাকি -- আমার ছেলেটিকে একবার ।
একটিবার দেখব তাদের এটাই ছিল মোর বাসনা -
মৃত্যু আমার শিয়রে এখন , অপূর্ণ রইল আমার বাসনা ।

চিৎকার করার চেষ্টা করি , ছেলের নামটি ধরে ,
আবছা ভাবে শুনতে পেলাম , কারা যেন কানের কাছে -
ভগবান , মহান আল্লা , প্রভু যীশুর বাণী জপছে --
আস্থে আস্থে বিলীন হলাম তাঁদের চরণ তলে ।
খোকা .., তোরা ভাল থাকিস , আর হলো না দেখা ,
আমার আশীর্বাদ সবসময় , আর অশেষ ভালবাসা ..... ।

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement