লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ আগস্ট ১৯৮৩
গল্প/কবিতা: ৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপিতৃত্ব (জুন ২০১৮)

সিল্ক
পিতৃত্ব

সংখ্যা

মিঠুন মণ্ডল

comment ০  favorite ০  import_contacts ২৭
সাল ২০৩৩, তিন্নি ল্যাপটপটা ব্যাগে ঢুকিয়ে শোবার ঘরে রাখা বাবার ছবিতে একটা প্রনাম করল।আজ কে একটা মাল্টি ন্যাসান্যাল কোম্পানি থেকে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার এর অফার পেয়েছে। তিন্নি যাদবপুর থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পড়েছে। ছোটো থেকেই সে স্বপ্ন দেখত, সে ব্রীজ বানাবে। অনেকে হাসাহাসি করত, অনেক গুরুজন আবার উপদেশ দিত ইঞ্জিনিয়ার হলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় ভালো, ঘরে বসে কম্পিউটারে কাজ, মাঝে মাঝে বিদেশ ভ্রমণ। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের অনেক ঝক্কি। রোদে গরমে সাইটে যেতে হবে, অল্প শিক্ষিত মিস্ত্রীদের বোঝাতে হবে, তবে হ্যাঁ এখানে উপরি ইনকামের অনেক সুযোগ।সে সব কথা শুনত, মুখে কিছু বলত না। অল্প বয়েসে বাবাকে হারিয়ে বয়েসের তুলনায় সে যেন একটু আগেই ম্যাচিওর হয়ে গেছে। সে ছোটো থেকেই বুঝে গেছে এখানে মুখে নয় কাজ করে জবাব দিতে হবে। সে মনে মনে এটাও ঠিক করে, ব্রীজ বা বাঁধ তৈরিতে কোনরকম বাজে মাল ব্যবহার হলে সে বিল পাশ করবে না। এর জন্য যতদূর লড়তে হয় সে লড়বে। ১৭ বছর আগে ২০১৬ সালের ৩১ শে মার্চ এক দুর্ঘটনায় তিন্নির বাবা মারা যান। তিন্নির বাবা একজন মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টটেটিভ ছিলেন। কলকাতায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নার্সিং হোমে ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হত। ২০১৬ এর ৩১শে মার্চের দিনটা তিন্নি আজও ভুলতে পারেনি। তখন তিন্নি কে.জি ওয়ানে পড়ে। তিন্নির বাবা প্রায় রোজই তিন্নির জন্য চকলেট নিয়ে আসত। সেদিন তিন্নি ক্লাসে প্রথম হওয়াতে তার বাবা বলেছিল আজ তোর জন্য সিল্ক চকলেট নিয়ে আসব। তিন্নি হাসিহাসি মুখ করে চেয়ে ছিল তার বাবার দিকে। সকাল ৯ টায় তার বাবা বেড়িয়ে যায়। বলেছিল আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরবে। পাড়ায় একটা শিশু মেলা হয়েছিল। সন্ধ্যে বেলায় নিয়ে যাবে বলেছিল। দুপুর একটার সময় তিন্নির মা ফোন করে, রিং হয়ে যায়। তিন্নির মা ভাবে মনে হয় বাইক চালাচ্ছে তাই ধরতে পারেনি। দুপুর ২টোর সময় খাওয়া দাওয়ার পর একবার টি.ভি চালায়। প্রতিদিন জি. বাংলা বা স্টার জলসার চ্যানেলই সেট করা থাকে। আজ তিন্নির বাবা সকালে খবরের চ্যানেল দেখেছিল। তাই টি.ভি খুলতেই বিবেকানন্দ সেতু ভেঙে পড়ার খবর দেখতে পায়। তিন্নির মা আবার ফোন করে। রিং হয়ে যায় কেউ ধরে না। এবার তিন্নির বাবার এক কলিগকে ফোন করে। ১১টা নাগাদ ফিল্ডে বেড়িয়েছে এখনও ফেরেনি। অন্যদিন তিন্নি কাটুন দেখলেও তিন্নির মা একটু ঘুমিয়ে নেয়। আজ আর চোখের পাতা বন্ধ হল না। তিন্নি আজ কাটুন দেখার জন্য জেরাজুরিও করল না। কখন যেন ঘুমিয়ে পরেছিল। ঘুম ভাঙল তখন বিকেল ৫টা। তিন্নির মায়ের মুখ বেশ গম্ভীর। তখনও কোন খবর পাওয়া যায় নি। তিন্নি মাকে কিছু না বলেই ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে সাজুগুজু শুরু করে। একটু পরেই বাবা আসবে মেলায় নিয়ে যাবে। তাছাড়া আজ একটা বড় চকলেটও পাবে। ৫.৩০ সরকারী এক হাসপাতাল থেকে ফোন এল তিন্নির বাবা ভর্তি আছে তাড়াতাড়ি আসতে। রাত্রি ১০টার সময় তিন্নির বাবাকে নিয়ে আসা হল। বুক পকেট থেকে একটু বেড়িয়ে আছে সিল্ক চকলেটটা। গত ১৭ বছর তিন্নি কোনদিন সিল্ক চকলেট খায়নি।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement