একটিও দাঁত অক্ষত নেই। চুলগুলিও পেকে
অনিদ্রাতে ধরলো দ্যাখো নন্দ চাটুজ্জেকে।
মশারি গুঁজে চোখটি বুজে যেই না শুয়েছেন
তেনাদের হয় নেত্য শুরু, তোলপাড় সবখেন!
খটখটিয়ে হাঁটতে থাকে বন্ধ ঘরের মাঝে!
তোমরা বলো, এসব সয়ে ঘুমিয়ে পড়া সাজে?

ভূতের ভয়ে নন্দখুড়োর তাল থাকে না ঠিক!
রাত্রি নিঝুম, শুনশান যেই, অম্নি চতুর্দিক
হাঁ করে ভাই গিলতে আসে বীভৎস রূপ তার
গিন্নীও নেই দাঁড়ায় রুখে। বলবে- খবরদার!
আর এক পা-ও এগিয়েছো কি মারব মাথায় বাড়ি
রাতদুপুরে বজ্জাতি সব? মিচকে বদের ধাড়ি!

নিস্তব্ধতা চুরমার হয় 'খোকন' 'খোকন' ডাকে!
ওহো! সে ব্যাটাও তো বিয়ের পরে শহরে গিয়ে থাকে।
একদিন তাই মরীয়া হয়েই পড়ল বুড়ো নেমে
চৌকি ছেড়ে টর্চটা হাতে তিন-পা হেঁটেই থেমে
বলল জোরে সাহস করে ফুলিয়ে গলার শির
'বেরোও বলছি এ ঘর ছেড়ে শিগগির শিগগির!'

ধমকের সেই দাপট শুনেই নেংটি ইঁদুর, দুটি
বুটের থেকে লাফিয়ে উঠে লাগায় ছুটোছুটি!
খোকনের সেই স্কুলের জুতো হাতের ওপর নিয়ে
হাসির চোটে বুড়োর তো যায় দমটাই আটকিয়ে!

ভূত ভেগেছে। শান্তি। এবার কে আর রাত্রে জাগে?
এখন খালি ঘুমোতে এলে বড্ড একলা লাগে।