নিন্ম মধ্যবিত্ত মানুষের ভঁয় কে সাথে নিয়ে যুদ্ধ করে এই সমাজে বেচেথাকার কথা এই গল্পে ফুটে উঠেছে ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১১ নভেম্বর ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ভৌতিক (ডিসেম্বর ২০১৮)

আমি খুনি
ভৌতিক

সংখ্যা

শফিক নহোর

comment ০  favorite ০  import_contacts ২৯
জীবনে অনেক ছোট খাটো ব্যথা থাকে যা ইচ্ছে করে কারো নিকট প্রকাশ করা হয়না । গত বছর আমার আপার মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত খেতে গেলাম । মোবাইল ফোনের দাওয়াত, আগে মানুষ দাওয়াত দিতে আসত, বাড়িতে- মিষ্টি নিয়ে আসত । এখন আর এ সব নেই । ডিজিটাল যুগ বলে কথা । সেদিন রাতে দুলাভাই আমাকে যে ভাবে জড়িয়ে ধরেছিল ! তা ছিল ভারি অন্যায় । মান সম্মানের ভয়ে চেপে গেলাম । থাক একটু দুষ্টুমি তো করতেই পারে তাই নয় কী । এভাবেই আমার মত শত মানুষ প্রতিদিন প্রিয় কিছু মানুষের দ্বারা নিদারুণ নিপীড়ন সহ্য করে । আমার মত আহাম্মক মার্কা মেয়েদের কপালে এই থাকে । আমি ভয়ে কেউকে কিছুই বললাম না ।
আজকাল তো ভাল কথা বলা পাপ, এমন মনে হয় ।সেদিন সকালে পত্রিকা পড়তে বসেছি; প্রথমেই চোখ চলে গেল _ ‘‘ ভাইয়ের হাতে ভাই খুন ’’ । বুকেরে ভিতর চিনচিন ব্যথা করে । টেলিভিশন দেখা বন্ধকরে দিয়েছি অনেকদিন হলো । প্রয়োজন হলে ইন্টারনেট থেকে কিছু নিউজ দেখে নেই । আমাদের স্বপ্ন থাকে কিন্তু তা পূরণের অভিপ্রায় থাকে না ।গত বছর ছোট বোনটা গলায় ফাঁস নিয়ে মরে গেল । অবিবাহিত একজন মেয়ে মা" না হয়েই মরে যেতে পারে । ওর ইচ্ছে করছিল না আমি মা" হয়ে মরবো । মেয়ে বলেই হয়তো মরে যায়; বেচারির জন্য বড্ড মায়া হয় আমার ।
বিবাহিত জীবনে আমি সুখী । স্বামীকে যখন যে দাবি করেছি সে তার স্বাধ্যমত তা দিবার চেষ্টা করেছে । আমাদের দুই মেয়ে । বড়মেয়ে মাঝে মধ্যেই ওর বাবার কাছে বিভিন্ন আবদার করে, ইদানীং বায়না ধরেছে হরলিক্স খাবে । মিনু সহজে ঘুমাতে চায়না । মিনু বলে “ বাবা আসলে আমি ঘুমাব ” সুমন রাত করে বাসায় আসে ।
আমি ভয়ে থাকি ,আজকাল দেশের যে অবস্থা । মেয়েটা কিছুক্ষণ পর-পর আমাকে প্রশ্ন করে মা" বাবা এত দেরি করে বাসায় ফিরে কেন ? আমার হরলিক্স এর জন্য কী বাবা অফিস থেকে দেরি করে ফেরে মা ? আমি আর কখনো হরলিক্স খেতে চাইব না । সংসারের অভাব মেয়েরা হয়তো অনুভব করতে পারে না । সৎভাবে সংসার চালানো কত কঠিন । সুমনের বেতন আমি জানি । ও ইচ্ছে করে আমাকে অনেককিছু কিনে দিতে চায় । ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে বলি । আমার সব কিছুই তো নতুন । আমার কিছুই লাগবে না । মিনু হরলিক্স খেতে চেয়েছিল ? দেখে এসেছি বেতন পাবার পর কিনে দিব । বাসা-ভাড়া, নিতে এসেছিল বাড়িওয়ালা । কথা বলতে না বলতেই মিনুর বাবা ঘুমিয়ে গেছে ।
সবকিছু ঠিকঠাক প্ল্যান করে রেখেছি ।এবার বেতন পাবার পর, মেয়েদের নিয়ে কোথায় বেড়াতে যাবো । সারাদিন গৃহবন্দি জীবন ভাল লাগেনা ।টেলিভিশন দেখে-দেখে মেয়ে বলে মা" এখানে আমাকে নিয়ে যাবে ! কতদিন বাচ্চাদের সান্ত্বনার বাণী শুনিয়ে রাখা যায় । মিনুর বাবার সঙ্গে কথা হলো , সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । কিন্তু বেতন পাবার দু’দিন আগে ঊষা, প্রচণ্ড খিচুনি দিয়ে উঠলো ।ডাক্তার দেখানো হলো । হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হবে । দিনে-দিনে স্বপ্ন গুলো কেমন- যেন ফ্যাঁকাসে হয়ে গলে । ঊষা আমাদের মত স্বাভাবিক না ।ওর জন্ম হয়েছে এমন সেরিব্রাল পালসি নিয়ে । আমি মা" আমি বুঝি, বুকের ভিতরে সারাক্ষণ ফার্নেস অনল নিজেকে দগ্ধ করে । আপন স্বজন আজকাল আর দূরদিনে পাশে থাকে না । সবাই যে- যার মত নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত । ব্যস্ত নগরীতে আমাদের স্বপ্ন দিনে-দিনে ফিকে হতে লাগলো । সব কিছুর একটা অভাব বোধ অনুধাবন করতে পারলাম ।এখানে দুখ কে পুঁজিকরে কেউ-কেউ বাণিজ্য করে ।

ছোট ভাইয়ের বিয়ে ।বাড়ি থেকে একটা চাপ ছিল ।আমি যেন সবার আগে যাই । বিয়ে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা আমাকে করতে হবে । বাবা চায় আমি যেন সাপ্তাহ্ খানেক আগেই যাই । সমাজে সেরিব্রাল পালসি বাচ্চাদের কে খারাপ দৃষ্টিতে দেখে আমি লজ্জায়/ভয়ে ভাইয়ের বিয়েতে গেলাম না । বাবা মা’ আমার উপর অভিমান করে আছে আমি জানি । মিনুর বাবা পনের শত টাকা ধার করে বিয়ে খেতে গেছে । আমার শরীর টা ভাল না । পরের দিন আমাকে নিয়ে বাড্ডা জেনারেল হাসপাতালে । অনেক গুলো টেস্ট দিয়েছে । তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রেগনেন্সি টেস্ট ।রিপোর্ট আসলো আমি প্রেগনেন্সি । মিনুর বাবা মুসকি হাসলো , আমার চোখের কিনার দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল । মিনুর বাবার যে চাকরি , মিনুর লেখা পড়া , ঊষার প্রতিমাসে ঔষধ । তা দিয়ে অনাগত মানুষকে পৃথিবীতে আনা সম্ভব ছিল ।আমি ও মিনুর বাবা সিদ্ধান্ত নিলাম । তবে মিনুর বাবা বলেছিল থাক । সারাদিন সংসারের ঘানি টেনে আমি পারছিনা ।
ডাক্তারের ঔষধ খেতে লাগলাম । পরের দিন রাতে রক্তে আমি ভেসে গেলাম । ভেসে গেল আমার অনাগত পৃথিবী । এখানে আবেগ এর কোন দাম নেই , জানি । শুধু কষ্ট হয় হারানোর কষ্ট ।আমার খুব সখ-হতো আমার একটা পুত্র সন্তান হবে । বিধির বিধান বলে কথা । ও আজ পৃথিবীতে আসলে কার মত হত নিশ্চয় আমার মত । না হলে ওর বাবার মত । ঐ বয়সের কারো চোখে চোখ পড়লে আমার সেই অনাগত সন্তানটির কথা মনে হয় । ও কী ছেলে না মেয়ে ছিল , ওর গায়ের রং কী কালো না সাদা । মনে কত প্রশ্ন আসে । অবশেষে মনে হয় আমি খুনি ,আমার প্রচণ্ড ভয় হয় ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement