লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৬টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবাবা (জুন ২০১৭)

বাবা
বাবা

সংখ্যা

বকুল বকুল

comment ০  favorite ০  import_contacts ২৩১
বকুল গান শুনতে খুব পছন্দ করে। মন খারাপ হলেই ঘটঘটিয়া নদীর পাড়ে চলে যায় । সেখানে নদীর সাথে কথা বলে , খেলা করে পুঁটি মাছের সাথে। আর মিশে একাকার হয়ে যায় জলচ্ছবির সাথে।
বকুলের বন্ধু অনি। বয়সে ছোট হলেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের ভাবের কমতি ছিলো না। গলায় গলায় ভাব ছিলো তাদের । অনি খুব ভালো গান গাইতে পারতো। তাই বকুল যখন তখন বায়না ধরতো গান শুনার জন্য। একদিন অনি জীবনে যদি দ্বীপ জ্বালাতে নাহি পারো সমাধী পরে মোর জ্বালিয়ে দিও গানটা গাইতে লাগলো। অন্যমনস্ক অনি বকুলের দিকে নজর দেয় নি।
গানটা শুনে ,চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু ঝড়তে লাগলো বকুলের। কেঁদে যাচ্ছেই তো যাচ্ছে। কোন কিছুতে কান্না বন্ধ করতে পারছে না।
অনির কন্ঠে গানটা শুনে তার জীবনের কথা মনে পড়ে গেল।এখন বকুল ভাবে নিজেকে নিয়ে। সে কি সত্যি বকুল নাকি অন্য কেউ।
বকুলের বয়স যখন ১৫/১৬ তখন সে মারাত্বক অসুখে আক্রান্ত হয়। মরনাপন্ন বকুল গুনতে থাকে তার শেষ দিনটি। সে অপেক্ষা করে কবে আসবে সেই দিন টি। তার জীবনের দ্বীপটি নিভে যাওয়ার সাথে সাথে কেউ সেই দ্বীপ জ্বালিয়ে দিতে এগিয়ে আসে নি।অন্ধকার জীবনে যখন কেউ দ্বীপ জ্বালাতে এগিয়ে আসে নি তখন শুধু মাত্র এগিয়ে এসেছিল তার বাবা ।মৃত্যু যখন তাকে গ্রাস করতে শুরু করেছিল তখন শুধুমাত্র তার বাবাই মৃত্যুর সাথে পান্জায় লড়েছিল একমাত্র মেয়েকে বাঁচিয়ে তুলার জন্য। তিনি চান নি তার মেয়ের সমাধীতে দ্বীপ জ্বলুক। তিনি চান নি তার চোখের সামনে তার মেয়ে তিলে তিলে শেষ হয়ে যাক।তিনি চান নি নিজ কাঁধে করে মেয়ের লাশ বহন করে শশ্বানে নিয়ে যাওয়া হোক। এই সব ভাবতে ভাবতে শিউরে উঠেন তিনি। তার সারা গায়ে কাটা দিচ্ছে। কান্নায় চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।কিভাবে কি করবেন ভেবে উঠতে পারছেন না। বকুলের বাবা এখানে সেখানে যান মেয়েকে বাঁচিয়ে তুলার জন্য সাহায্য চান। মৃত্যুপথযাত্রী বকুল বাবার মুখের দিকে তাকায় । বাবার আমশে হয়ে যাওয়া মুখখানা বকুলকে আরো পীড়া দেয়।

মৃত্যু যখন তাকে গ্রাস করতে শুরু করে তখন বকুল ছিল নিরুপায়। তখন সে নয় তাকে বাঁচিয়ে তুলতে প্রানপণ চেষ্টা করতে থাকে তার বাবা।আর সেই কাজে বিজয়ীও হয়েছেন তিনি।
কিন্তু হেরে গিয়েছিল বকুল।
যেদিকে বাবা যুদ্ধ করতো মৃত্যুপথযাত্রী বকুলকে বাচিয়ে তুলার জন্য এদিকে হাল ছেড়ে বসে থাকতো বকুল। প্রতিনিয়ত জীবন ভাবায়, মৃত্যু তাকে তাড়া করে আর জ্বলন্ত দ্বীপ শিখা তাকে অন্ধকারের দিকে ধীরে ধীরে ঠেলে নিয়ে যায়...

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement