লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৪ জুন ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - ঋণ (জুলাই ২০১৭)

মহাজনের ঋণ
ঋণ

সংখ্যা

মোট ভোট

কাজল মহালদার

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৩০৫
কবিরাজ কহিল, ওহে দুলাল,
তোর ছেলের হয়েছে ভয়ানক ব্যাধি।
শেষ আমার সব অভিজ্ঞতার ঝুলি।

বাঁচিবার আশা এখন বড়ই দুরাশা
এ যে এক ভয়ানক প্রানঘাতি কলেরা!
বারে বারে করিছে ভেদ বমি
আমার কাছে আর নাই কোন চিকিৎসা বাকি।

যতদ্রুত পারিস, ওকে শহরে নিয়ে যা
ডাক্তার বিধান বাবুকে দেখা, টিকে আছে যৎকিঞ্চিত আশা।

মা আছাড় খেয়ে পড়িল, বাপকে বলিল,
যেভাবে পার আমার 'মানিক' কে ভাল করে আনো।

বাপ, আকাশ পানে চাহিল, উপায়ান্ত খুজিল
শেষমেষ বুঝিল, তার অন্ধের নড়িকে বাঁচাতে,
যক্ষের কড়ি পৈত্রিক ওই দশ কাঠা জমি।

ছিল যে টুকু্ জমি মোর বাপের ঘটে
সেটুকুও বন্ধক গেল মহাজনের কাছে।

মহাজন নিল টিপ সই, দিল দু'হাজার টাকা
বাপ বুঝিল না কি সর্বনাশ করিল তার, মহাজন ব্যাটা।

দু'মাস বাদে সুস্থ হয়ে, বাড়ি আসিলাম ফিরে
মায়ের মুখে উদ্ভাসের আভা, কোলেতে তুলে
আদর করিল আমায় চুম্বনে চুম্বনে।

সবার মুখে মুখে, এ ছেলে দীর্ঘায়ু হবে
এহেন কলেরায় কেউ কি বাঁচে?

মা খাটে দিনমজুরী, বাপ ফাইফরমায়েশে
দু'বছর ধরে, জোগাড় হইল টাকা কষ্ট-ক্লেশে।

বাপ দ্রুত পায়ে ছুটিল, মহাজনকে খুজিল
মহাজন, কাগজ বাহির করিয়া বলিল,
বন্ধকী ঋণের চুক্তি মোতাবেক দু'বছরে,
তুমি দিবে দশ হাজার টাকা,
না হলে তোমার জমি আমার হইয়া যাবে।

বাপের মাথায় আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়িল
মহাজনের জোচ্চুরির সবটা বুঝিল।

জমিহারা শোকে, বাপকে ধরিল এক বিকট অসুখে
সইল না দেরি, চলে গেল অগস্ত পথে
মা টাকেও হারালাম, চলে গেল, বাপের দেখানো পথে।

আমি একা রইলাম পড়ে এই শূন্য পৃথিবীতে-
বাপ-মাকে চিরতরে বিসর্জন দিলাম মহাজনের ঋণে।

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement