লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ নভেম্বর ১৯৯১

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftনববর্ষ (এপ্রিল ২০১৭)

আসছি
নববর্ষ

সংখ্যা

সঞ্জনা গুহ

comment ১  favorite ০  import_contacts ৩৪৫
নিধি চিনি আনতে বাজারে গিয়েছিল, ফেরার পথে দেখল তাদের নিচের ফ্ল্যাটটা কেউ দেখতে এসেছে, ভাড়া নেবে বোধ হয়। বয়স বেশী নয়, around 29, or 30; বেশ হ্যান্ডু চেহারা। নিধি সিড়ি দিয়ে একবার আরচোখে দেখে নিল। নিধির বয়স সাতাশের বেশী নয়, আসল বাড়ী জামসেদপুর, এখানে থাকে ভাই আর বোনঝির সঙ্গে। পেশায় RJ রেডিও তে কথা বলা ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় শো করতে যায়, তাই বেশীর ভাগ দিনই বাড়ী থাকতে পারে না। আজ অনেকদিন পরে সুযোগ এসেছে বাড়ীতে থাকার। কিন্তু ভাইটা ভারী বাজে, এই একটা দিন ছুটি সেইদিনও তাকে দোকানে যেতে হচ্ছে। আসলে বাড়ীর বাইরেটা নিধি কে বেশী দেখতে হয় বলে বাড়ীর ভিতরটা নিখিল, মানে তার ভাই-ই দেখে। নিখিল স্কুলে পড়ায় এবং সঙ্গে একটা coaching centre-এ, কিন্তু নিধি তুলনায় চাপটা একটু কম। তাই ভিতরটা সামলানো তার পক্ষে একটু হলেও সহজ। আজ সকাল থেকে নিখিলের অনেক কাজ, তার উপর আবার কাজের মাসি আসেনি আজকে, তাই বাড়ীতে ভাই-বোন দুজনের অবস্থা বেশ টাইট।বোনঝিটি তার উপরে বেশ দুষ্টু, তাকে সামলানো একটা বড় কাজ, ভাগ্যিস আঁকার স্কুল আছে আজ। অনেকদিন পর একটা রবিবার ছুটি পেয়েছে নিধি, আর ভাইটা কিনা আজও তাকে দোকানে পাঠাল। কিন্তু সিড়ী দিয়ে উপরে উঠতে গিয়ে মনটা ভাল হয়ে গেল।
নিধি, দুবার বেল বাজাল, উফ্‌ফ্‌ফ্‌, ভাইটা এত টাইম নেয় না, ভাল লাগে না নিধির। “আসছি, আসছি, এত তাড়ার কি হল?” নিখিল, সবে তখন জামা কাপড় গুলো ভিজিয়েছে, হাতে সাবান জল তখনও লেগে। সেই অবস্থায় এসে কোন মতে দরজা খুলল। নিধি কোন মতে চিনিটা টেবিলে রাখল, তারপর বলল, “শোন আমি আসছি, এসে কফি করছি”, বলে সে বেরিয়ে গেল। পাশের ফ্ল্যাটে থাকে শ্রীতমা সেনগুপ্ত , বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি, এক ছেলে বিদেশে থাকত recently দেশে ফিরেছে। ছেলে এখানে একটা startup company খুলেছে, খুব উৎসাহের সঙ্গে কাজ করছে নতুন কোম্পানিটাকে দাড় করানোর জন্য। রবিবারও বন্ধুদের বাড়ী গিয়ে কোম্পানির future prospects নিয়ে আলোচনা করতে ব্যস্ত। তাই তার মা শ্রীতমা সেনগুপ্ত, আজও বাড়ীতে একা। নিধি দরজায় দাঁড়িয়ে পাশের বাড়ীর বেল টিপল।শ্রীতমা দেবী দরজা খুললেন, নিধি উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলযে, “জেঠিমা জান নিচের ফ্ল্যাটে ভাড়া দেখতে এসেছে নতুন লোক”। শ্রীতমা house coatটা টাইট করে বেঁধে বলল, “তাই নাকি? কে রে?”
নিধিঃ চিনি না, তবে বয়স বেশী নয়।
শ্রীতমাঃ তাই নাকি? দেখলি তুই? একা থাকবে?
নিধিঃ জানি না, তবে তোমার ছেলের বন্ধু এল এবার finally.
শ্রীতমাঃ ধুর, ধুর, সারাদিন তো বাড়ীতেই থাকে না সে। এখানে থাকাও যা বিদেশে থাকাও তাই আমার কাছে।
গল্প এগোতে লাগল, কিছুক্ষন পর নিখিল এসে বলল, “জেঠিমা, coffee করছি খাবে তো?” শ্রীতমা বলে উঠল, “না রে, ডাল গরম করতে দিয়েছি, তার উপর বাড়ী ঘর দোরের যা অবস্থা, আজ হাতে একটুও সময় নেই”, নিধি বলে উঠল, “ও মা তুই করতে যাবি কেন? আমি আছি তো? আমি করছি, আমি আসছি, দাড়া না একটু”। নিখিল প্রতিবাদ করল না, নিধি হঠাৎ বলে উঠল, “ওমা নিলীমাদি chamber-এ যাও নি আজ?” নিলীমা বসু, মনোবিদ, নিধিদের উপরে থাকি, অনেকক্ষন হল, শুনেছে নিচে কথার আওয়াজ, এতক্ষন স্বামি আটকে রেখেছিল, আর পারল না। সিড়ীতে দাড়িয়ে সে কথা শুরু করল, “না রে আজ আর যায় নি। কি নিয়ে কথা হচ্ছে তোমাদের?” শ্রীতমা বলল, “নিচে নতুন ভাড়াটে এসেছে, তাই নিধি বলছিল আর কি?” নিলীমা আরো কয়েক ধাপ নেমে এল, “ওমা, তাই নাকি? কবে এল? দেখতে এসেছে না একবারে মালপত্র নিয়ে এসেছে?” তারপর একটু গলা নামিয়ে বলল, “কে এসেছে রে চিনিস? Family?” নিধি বলল, “না, না একটা ছেলে, বেশ young”। নিলীমা ঠোট উল্টে বলল, “ধুৎ আমার আর কি লাভ বল”, শ্রীতমা একটু হেসে বলল, “কেন গো, তুমি তো এখনো বেশ young আছো”

নিলীমাঃ ইস্‌ আর বল না তো
নিধিঃ ছেলেটার মুখ দেখলাম না। কলকাতা শহরে এখন আর ভাল দেখতে ছেলে পাওয়াই যায় না।
শ্রীতমাঃ যা বলেছিস
নিখিল, কথার মাঝে আবার ঢুকল, “নিলীমাদি কফি খাবে তো?” নিলীমা বলে উঠল, “না রে হাতে এখন অনেক কাজ। তোর দাদা তো কুটোটিও নাড়ে না। আগে জানলে তোর মত ঘরের কাজে পটু কারোর সঙ্গে বিয়ে করতাম”, নিধি একটু হেসে বলল, “বিয়ে হতে দাও নিখিলও সব ভুলে যাবে”। শ্রীতমা হেসে বলল, “কি রে নিখিল, তাই নাকি?” নিখিল হেসে বলল, “তার চেয়ে ঝামেলাটাতে না জড়ালেই হয়”। নিলীমা বলে উঠল, “সে গুড়ে বালি, তুই না চাইলেও পাড়াপ্রতিবেশীরা এত করে চাইবে, যে তোর family বাধ্য হবে বিয়ে দিতে”। নিধি বলল, “নিখিল চাইলে করুক আমি বাবা নেই এই চক্করে। পাড়াপ্রতিবেশীরা মাথা ঘামালে পাড়া ছেড়ে দেব কিন্তু বিয়ে নৈব নৈব চ”। তারপর একটু থেমে বলল, “এই নিখিল তুই করিস না এখন কফি, আমি আসছি তো, এসে করছি”, নিখিল একটু হেসে বলল, “বেশ, তবে তাই হোক”। নিখিল, চলে গেল, নিলীমা বলল, “হ্যা রে নিধি এই টপটা নতুন কিনলি”
নিধিঃ হ্যা গো কাল Super Mall-এ সেল চলছিল, ওখান থেকেই নিলাম
শ্রীতমাঃ এই কতদিন চলবে রে? আমার house coat গুলো আর লোক সমাজে পড়া যায় না। ভাবছি কটা কিনব
নিলীমাঃ আমার তো সামনে একটা অনুষ্ঠান আসছে এখনো চললে আমিও যাব একদিন।
নিধিঃ চলবে এখন ক’দিন, সবে তো শুরু হল, থাকবে ক’দিন। আমি আজ নিখিল কে নিয়ে যাব। ওর জিন্‌স গুলোও খুব পুরনো হয়ে গেছে।
কথার মাঝে হঠাৎ ছে্‌দ পরল। নিখিল চার কাপ কফি নিয়ে এসেছে। নিধি বলে উঠল, “ওমা তুই আবার কফি করলি, আমি তো...” “আসছিস”, নিখিল বলে উঠল, “আমি জানি তো। কিন্তু এখন এটা খা, ভাল হয়েছে বলেই মনে হয়”
শ্রীতমাঃ উফ্‌ফ্‌ফ্‌, তুই আবার পাকামি করলি, বললাম না ডাল বসিয়ে এসেছি।
ণিখিলঃ এক কাপ কফি খেলে তোমার ডাল পুরবে না। আর নিলিমাদি তুমিও নাও, দরকার হলে আজ বর কে দিয়ে বাড়ীর কাজ করিও।
কফি গুলো দিয়ে নিখিল ভিতরে চলে গেল। এই দৃশ্য তার কাছে নতুন কিছু নয়। এদের সবার জীবনেই লড়াই আছে, তার মধ্যে এই ছোট ছোট গল্প গুলো যেন তাদের সেই লড়াইয়ের মাঝে একটু খানি বিরতি। তাই নিখিল কোনদিন এতে বাধা দেয় না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement